kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জান্নাতে যাওয়ার সহজ কিছু আমল

আব্দুল্লাহ আন নাজিব   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জান্নাতে যাওয়ার সহজ কিছু আমল

একজন মুসলমানের চূড়ান্ত গন্তব্য জান্নাত। হাদিস শরিফে জান্নাতে যাওয়ার কিছু সহজ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। এখানে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—

মুখ ও গোপনাঙ্গের হেফাজত : রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি উভয় ঠোঁটের মধ্যভাগ (জিহ্বা) ও দুই রানের মধ্যভাগ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করি। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

মাতা-পিতার সেবা : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, তিনি আবারো বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক।’ কেউ জিজ্ঞেস করলেন,  ‘হে আল্লাহর রাসুল! কে সে জন?’ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতা উভয়কে বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথবা যেকোনো একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল, তবুও জান্নাত অর্জন করতে পারল না, সে ধ্বংস হোক।’  (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫১)

জ্ঞান অর্জন : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে বের হবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

উত্তমরূপে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ার ফজিলত : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে এবং একাগ্রচিত্তে তনুমনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৯)

সালামের প্রচার প্রসার : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি ঈমান আনবে না,ততক্ষণ পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর যতক্ষণ কেনো মুসলমান পরষ্পর একে অন্যকে ভালোবাসবে না, ততক্ষণ তারা পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের সে কাজটি বাতলে দিব, যা করলে পরষ্কর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রচার-প্রসার করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৪)

সময়মত নামাজ আদায়ে যত্নবান হওয়া : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ফজর ও আসরের নামাজ গুরুত্বসহকারে আদায় করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ ( বুখারি শরিফ : ৫৭৪)

প্রতি নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা নেই।’ (আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি : ৯৮৪৮)

এতিমের দেখাশুনা করা : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি ও এতিমের লালন-পালনকারী জান্নাতে এক সঙ্গে এমনভাবে থাকব—একথা বলে তিনি মধ্যমা ও তর্জনি আঙ্গুলদ্বয়কে একত্রিত ও পৃথক করে দেখিয়েছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩০৪)

রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো : আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, একবার রাস্তার ওপর একটি গাছের ডাল পড়ে ছিল, যা মানুষের জন্য কষ্টদায়ক ছিল, অতঃপর এক লোক সেটি সরিয়ে দেন , রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৬৫২)

আসমাউল হুসনা আয়ত্ব করা : আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯ টি নাম আছে, যে ব্যক্তি তা আয়ত্ব করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৩৬)

ঈমানের ওপর অবিচল থাকা : আবু জর (রা.) বলেন, একদিন আমি রাসুল (সা.) এর খেদমতে গিয়েছিলাম, তখন তিনি সাদা কাপড় পরা অবস্থায় ঘুমিয়ে ছিলেন, কিছুক্ষণ পর আবার গেলাম, তখনো তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার গেলাম, তখন তিনি জাগ্রত হলেন, তখন আমি তাঁর দরবারে উপবিষ্ট হলাম। অতঃপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং এর ওপর মৃত্যু বরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৫৪)

রুগ্ণ ব্যক্তির খোঁজ খবর নেওয়া : সাওবান (রা.) সুত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যখন কোনো মুসলমান অন্য মুসলমানকে দেখতে যায়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের খিরকায় থাকে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ‘খিরকা’ কী? রাসুল (সা.) বলেন, জান্নাতের ফল বাগান।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৮)

বেশি বেশি সদকা করা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,  ‘তোমরা সদকা করো, কেননা সদকায় পুণ্য অর্জন হয়। আর পুণ্যে জান্নাত মিলে। যে ব্যক্তি সর্বদা সত্য বলে এবং সত্যের প্রচার করে আল্লাহর কাছে তার নাম সিদ্দিকদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। তোমরা মিথ্যা থেকে বিরত থাকো! কেননা মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপ জাহান্নামে ঠেলে দেয়। যে বান্দা সর্বদা মিথ্যা বলে ও মিথ্যা প্রচার আল্লাহর কাছে সে মিথ্যাবাদীদের অন্তভুক্ত হয়ে যায়। (বুখারি, হাদিস : ২৬০৭)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা