kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মানুষকে প্রাপ্য সম্মান দিন

শায়খ আবদুর রহমান বিন নাসির (রহ.)   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষকে প্রাপ্য সম্মান দিন

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মানুষের মর্যাদা অনুসারে তার সঙ্গে ব্যবহার করো।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৮৪৪)

মুহাদ্দিসরা হাদিসটিকে উচ্চতর প্রজ্ঞাসম্পন্ন বলে অবহিত করেছেন। কেননা প্রজ্ঞা মানুষকে সব কিছুর যথাযথ প্রয়োগ ও মানুষকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে উত্সাহিত করে। মহান আল্লাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য বা সিফাত হলো, তিনি সব কিছুর সঙ্গে ইনসাফ করেন এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন। যেমন আল্লাহ প্রজ্ঞাময় তাঁর সৃষ্টির ও তাদের ভাগ্য নির্ধারণে, তেমনি তিনি প্রজ্ঞাময় শরিয়ত, আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রজ্ঞা অর্জন ও সব কাজে প্রজ্ঞাবান হতে বলেছেন। আর মহানবী (সা.)-ও সব কাজ ও সব পথনির্দেশে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।

 

অধিকারের বিচারে মানুষের প্রকার

মর্যাদা ও অধিকার প্রাপ্তির বিচারে মানুষ দুই প্রকার। এক. যাদের মর্যাদা ও অধিকার শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত। যেমন—মা-বাবা, সন্তান-সন্ততি, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, সাথি ও সহকর্মী, আলেম ও সত্কর্মশীল মানুষ ইত্যাদি। এই শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যথাযথ আচরণ ও প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার অর্থ হলো শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত তাদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। যেমন—তাদের প্রতি সদয় হওয়া, আত্মীয়তা রক্ষা করা, কল্যাণ কামনা করা, সম্মান করা, বিপদে সাহায্য করা ও সান্ত্বনা দেওয়া ইত্যাদি।

দুই. শরিয়ত যাদের অধিকার নির্ধারণ করে দেয়নি। তাদের ব্যাপারে হাদিসের নির্দেশ ‘প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার দাও’-এর ব্যাখ্যা হবে মানুষ হিসেবে; সর্বোপরি মুসলিম হিসেবে তাদের মৌলিক যে অধিকার ও সম্মান রয়েছে তা রক্ষা করা। যেমন—কথা ও কাজের দ্বারা তাদের কোনো ক্ষতি না করা, কষ্ট না দেওয়া, উপকারী আচরণ করা, নিজের জন্য যে বিষয় পছন্দ করে তা অন্যের জন্যও পছন্দ করা ইত্যাদি।

 

মানুষকে প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার অর্থ

মানুষকে প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার অর্থ শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সীমা রক্ষা করা, নির্দেশনাগুলো মান্য করা। যেমন—শরিয়ত বড়কে সম্মান করতে এবং ছোটকে স্নেহ করতে বলেছে,  শরিয়ত মা ও স্ত্রীর জন্য পৃথক অধিকার ও মর্যাদার সীমা নির্ধারণ করেছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের শিষ্টাচার রক্ষা করাও এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং রাজা-বাদশা ও সমাজের অভিভাবকদের সঙ্গে শিষ্টাচার রক্ষা করে কথা বলতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসা ও হারুন (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা দুজন ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয়ই সে অবাধ্য হয়েছে। তার সঙ্গে তোমরা কোমল ভাষায় কথা বলবে, যাতে সে উপলব্ধি করতে পারে অথবা ভয় পায়।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৪৩-৪৪)

একইভাবে আলেমদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করা, ছোটদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা, তাদের ভালো কাজে উত্সাহিত করা এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের হুকুম দাও; আর ১০ বছর বয়সে তাদের (নামাজ না পড়লে) শাস্তি দাও।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

বড়দের সম্মান দেওয়া, তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করাও প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদাদানের অংশ। মুমিন মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করবে, যেন তারা ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়। মহানবী (সা.) নওমুসলিমদের মনোতুষ্টির জন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে তাদের জন্য বিশেষ অংশ নির্ধারণ করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দদায়ক কথা বলা তার প্রাপ্য অধিকার। অর্থাত্ মানুষের পারিবারিক সামাজিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব; মানুষের সঙ্গে রক্ত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ইত্যাদির বিবেচনা করে সর্বোত্তম আচরণ করাই উল্লিখিত হাদিসের শিক্ষা। আল্লাহ সবাইকে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন হওয়ার এবং তা আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

ভাষান্তর : মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা