kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

কাবাগৃহে মেহরাব নেই কেন

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মসজিদে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান নির্ধারণ করতে মসজিদের সামনের দেয়ালের মাঝামাঝি একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরি করা হয়। পরিভাষায় যাকে আমরা মেহরাব হিসেবে জানি। পৃথিবীর বেশির ভাগ মসজিদেই মেহরাব দেওয়া হয়। মেহরাব ছাড়া যেন মসজিদের ডিজাইনই যথার্থ হয় না।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পবিত্র কাবা ঘরে প্রচলিত নিয়মে তৈরি কোনো মেহরাব নেই। এর কারণ কী? এর কারণ জানতে আমাদের প্রথমে জানতে হবে মেহরাব কাকে বলে? বা মেহরাবকে মেহরাব নামকরণ করার কারণ কী?

মেহরাবকে মেহরাব নামকরণ করার ব্যাপারে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো এই, মেহরাবের আভিধানিক অর্থ মজলিসের অগ্রভাগ। মেহরাব যেহেতু মসজিদের অগ্রভাগেই অবস্থিত, যা কিবলার দিকে দেয়ালের মধ্যখানে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান নির্ধারণ করার জন্য নির্মাণ করা হয়। তাই মেহরাবকে মেহরাব বলে নামকরণ করা হয়েছে।

রাসুল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত মেহরাবের অস্তিত্ব ছিল কি না, এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কারো কারো মতে, রাসুল (সা.)-এর যুগে বর্তমান যুগের মতো মেহরাব ছিল না; বরং এজাতীয় মেহরাবের প্রচলন শুরু হয় ৯১ হিজরিতে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর যুগে। তিনি যখন ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালেক কর্তৃক মদিনার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে মসজিদ-ই-নববীর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন, তখনই মেহরাবসহ মসজিদ নির্মাণ করেন। (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ : ৩৬/১৯৫)

অবশ্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, রাসুল (সা.)-এর যুগেও মেহরাব ছিল। যেহেতু শরিয়তের বিধান হলো ইমাম কাতারের মাঝখানেই মুক্তাদির থেকে সামনে দাঁড়াবে, রাসুল (সা.) ও সাহাবারা তা-ই করেছেন।

এ কারণে কোনো ইসলামী আইনবিদ এ মেহরাবকে বিদআত বলেননি এবং মসজিদের অংশে দাঁড়িয়ে মেহরাবে সিজদাসহ নামাজ পড়তে কেউ নিষেধ করেননি। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৯/৫৪)

আর কাবা ঘরের ভেতরে যেহেতু ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়া হয় না, তাই তাতে এমন স্থাপনা তৈরিরও প্রয়োজন পড়ে না। এ কারণেই কাবা ঘরে কোনো মেহরাব নেই। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৯/৬০)



সাতদিনের সেরা