kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

রাসুল (সা.) মুমিনের কতটা আপন

মুফতি সাইফুল ইসলাম   

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাসুল (সা.) মুমিনের কতটা আপন

আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া ও তাঁর প্রিয়পাত্র হওয়ার একমাত্র পথ হলো উম্মতে মুসলিমার মুক্তিদূত রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্য করা। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো। আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ৩১)।

যদি কেউ আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে, তবে মুহাম্মদ (সা.)-কে অনুসরণের কষ্টিপাথরে তা যাচাই করে দেখা আবশ্যক। রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ যার মধ্যে যত বেশি, আল্লাহর প্রতি প্রেমও তার মধ্যে তত বেশি। ঈমানদাররা রাসুল (সা.)-কে তাদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। যার ভালোবাসার মাত্রা ততটুকু নয়, সে প্রকৃত ঈমানদার নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নবীর সঙ্গে ঈমানদারের প্রাণেরও অধিক সম্পর্ক। তিনি তাদের সত্তা থেকেও তাদের কাছে অগ্রগণ্য।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬)

একজন মুমিনের কাছে রাসুল (সা.) পৃথিবীর সব মাখলুকের চেয়ে বেশি প্রিয়। তিনি মুমিনের আত্মার আত্মীয়। রাসুল (সা.)-ও উম্মতের জন্য তাদের মা-বাবার চেয়েও বেশি স্নেহশীল ও দয়ার্দ্র, এমনকি ব্যক্তির নিজের চেয়েও তার জন্য তিনি বেশি কল্যাণকামী।

মা, বাবা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরা কখনো কখনো ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারে, তার সঙ্গে স্বার্থপরের মতো ব্যবহার করতে পারে, তাদের দেখানো পথ ও কর্ম দ্বারা তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিতে পারে, কিন্তু রাসুল (সা.) মুমিনদের পক্ষে কেবল এমন কাজই করতে পারেন, যাতে তাদের সত্যিকার সাফল্য অর্জিত হয়। আবার কখনো বোকামি করে ব্যক্তি নিজেই নিজের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু রাসুল (সা.) তার জন্য কেবল তা-ই করবেন ও করেছেন, যা তার জন্য উভয় জাহানে লাভজনক হয়। কঠিন কিয়ামতের দিন সবাই শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, কেউ কাউকে পরিচয় দেবে না, কিন্তু প্রিয় নবী (সা.) সেদিনও তাঁর উম্মতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে থাকবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন কোনো মুমিনই নেই, যার পক্ষে আমি ও আখিরাতে সমস্ত মানবকুলের চেয়ে অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী ও আপনজন নই।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৯৯)

তাই পৃথিবীর সব সম্পর্কের ওপর রাসুল (সা.)-এর সম্পর্ককে প্রাধান্য দিতে হবে। সব কিছুর ওপর তাঁকেই প্রাধান্য দিতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪)

সুতরাং প্রকৃত মুমিন হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত হলো রাসুলের প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসা নিশ্চিতকরণ। আল্লাহ আমাদের পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার এবং তাঁর ও রাসুলের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা পোষণ ও আনুগত্য প্রকাশের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও মুহাদ্দিস

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা