kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

২৭ টাকার চিকিৎসক মুহাম্মদ মাসালি

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৭ টাকার চিকিৎসক মুহাম্মদ মাসালি

‘আমি আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিলাম দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে এক পয়সাও ফি নেব না এবং অসহায় রোগীর সাহায্যার্থে আমার ক্লিনিকে অবস্থান করব।’ এই নিঃস্বার্থ ঘোষণা থেকে মিসরীয় চিকিৎসক মুহাম্মদ মাসালির উদারতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। মহান এই চিকিৎসক ২৮ জুলাই ২০২০ তারিখে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান। উত্তর মিসরের জোহর আত-তিমসা গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে তিনি তানতা শহরেই বসবাস করতেন। ‘গরিবের ডাক্তার’ খ্যাত এই চিকিৎসকের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। ডা. মাসালি মাত্র পাঁচ মিসরীয় পাউন্ডে (২৭ টাকা) চিকিৎসা দেন—এমন সংবাদ প্রকাশের পর মিসরের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা দেয়।

মিসরের একটি দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলে কর্মজীবন শুরু করার মুহূর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিসে আক্রান্ত একটি শিশু কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এলো। সে তার মাকে ইনসুলিন ও ইনজেকশন কিনতে বলছিল। মা তাকে বলল, যদি আমি তোমার জন্য ইনসুলিন কিনি তবে তোমার ভাই-বোনের জন্য খাবার কেনার অর্থ থাকবে না। সেই করুণ দৃশ্য এখনো মনে পড়ে। এই ঘটনা আমাকে দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজের জ্ঞান উৎসর্গ করতে উৎসাহিত করেছিল।’

ডা. মাসালি অল্প ফি গ্রহণ করতেন এবং অতি দরিদ্রদের কাছ থেকে কোনো ফি নিতেন না; বরং তাদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করতেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত উপহার ও সহযোগিতা প্রত্যাখ্যান করতাম এবং তাদের পরামর্শ দিতাম দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতে। আমি তাদের বলতাম, ‘আমার সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। তোমরা ঘরহীন, আশ্রয়হীন শিশুদের সাহায্য করো।’” ডা. মাসালি একটি দরিদ্র পরিবারে বড় হন এবং শূন্য হাতেই তাঁকে জীবন শুরু করতে হয়। নিজের ও তাঁর ভাইয়ের পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য তাঁকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষকে সহযোগিতা করেছেন। ডা. হাশেম মুহাম্মদ, যিনি ১৯৯০ সাল থেকে ডা. মাসালির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি বলেন, ‘তানতায় ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মাসালি হাসিমুখে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবা করে গেছেন। কোনো দিন তিনি সহযোগিতার হাত উঠিয়ে নেননি।’

ডা. মাসালি বিহাইরা অঞ্চলে ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। যিনি পরবর্তী সময়ে গারবিয়ায় চলে আসেন। মাসালি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ থেকে ১৯৬৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ইপিডিমিওলজি, ইন্টার্নাল মেডিসিন ও পেডিয়াট্রিকসের ওপর বিশেষ কোর্স করেন। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিকে কাজ করেন। গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার আট বছর পর তিনি প্রাইভেট ক্লিনিক চালু করেন। স্বল্প ফির জন্য অল্প দিনেই পরিচিতি লাভ করেন। সকাল ৭.৩০ থেকে মাগরিব পর্যন্ত ডা. মাসালি রোগী দেখতেন। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রামের দুটি ক্লিনিকে রোগী দেখতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম আহমদ আত-তাইয়িব বলেন, ‘গরিবের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ মাসালিকে আল্লাহ ক্ষমা করুন।’ আমিন। আরব নিউজ অবলম্বনে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা