kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

ছেলের ইসলামী জীবন দেখে ইসলাম গ্রহণ

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছেলের ইসলামী জীবন দেখে ইসলাম গ্রহণ

কয়েক বছর আগের কথা। বেলা তাঁর ছেলেদের নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন। তাদের একজন স্কুল ত্যাগ করেছিল। সে সারা দিন ঘুমিয়ে থাকত এবং রাতে মদ পান করে রাস্তায় ঘুরে বেড়াত। অন্যজনের একটি মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড হয়। বেলা ভেবে পাচ্ছিলেন না তাঁর করণীয় কী। একদিন তাঁর ছেলে জর্জ হাজির হয় এবং তার চেহারা দেখে বুঝতে পারেন কিছু একটা ঘটেছে। তিনি বলেন, সকালে যখন জর্জ এলো, তখন তাকে অন্য রকম লাগছিল। সে সব সময় ক্লান্ত থাকত এবং তার শরীর থেকে অ্যালকোহল ও সিগারেটের গন্ধ আসত। সেদিন ব্যাপারটা অন্য রকম ছিল। আমি তার চেহারায় কারণ খুঁজতে লাগলাম।

জর্জ নিজের ঘরে চলে গেল। বেলা তার পেছনে পেছনে গেলেন। ছেলের দরজায় কড়া নাড়লেন এবং ঘরে প্রবেশ করলেন। জর্জ চিন্তিত ভঙ্গিতে বিছানায় শুয়ে ছিল। বেলা ছেলেকে জিজ্ঞেস করেন, সব কিছু ঠিক আছে তো? সে বলল, হ্যাঁ, মা। বেলা তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। তখন জর্জ বলল, মদ খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। এটা ভালো নয়। বেলা বলেন, তার কথা শুনে আমি খুশি হলাম। কেননা দীর্ঘদিন এই বাক্যটি শোনার জন্য আমি প্রার্থনা করেছিলাম।

সেদিনের পর জর্জ আর কখনো মদ পান করেনি। বেশির ভাগ সময় সে নিজের ঘরে কাটাত। কখনো কখনো একজন বন্ধুর সঙ্গে বের হতো। সে তাকে বাড়ি এসে নিয়ে যেত। তার বন্ধুও খুব ভদ্র ছিল। সে সব সময় সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরত। সে যখন হাসত আমার মনে হতো চারদিকে যেন আলো ছড়িয়ে পড়ছে।

একদিন বেলা ছেলের নতুন বন্ধুকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ করলেন। খেতে বসে তারা স্রষ্টা, ঈসা (আ.) ও মারিয়াম (আ.) সম্পর্কে আলোচনা করল। বেলা বলেন, তারা কী বলেছিল তার পুরোটা আমার মনে নেই। আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়েছিলাম। কেননা আমার ছেলে আগে কখনো স্রষ্টা নিয়ে কথা বলেনি।

ছেলের মুখে স্রষ্টা ও ঈসা (আ.)-এর নাম শুনে বেলা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু যখন সে মুসলিম হওয়ার কথা জানাল, তখন তিনি ধাক্কা খেলেন। বেলা বলেন, আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমি আমার ঘরে এলাম এবং আমার ছোট মন্দিরে বসে স্রষ্টার কাছে বিনীত প্রার্থনা করলাম, তাঁর সাহায্য চাইলাম। দীর্ঘ সময় তাঁর কাছে নিজের জন্য, ছেলের জন্য ও পরিবারের জন্য প্রার্থনা করলাম।

বেশ কিছুদিন জর্জ বাড়ি ফিরল না। আমি তাকে নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আমি কি তাকে আগের জীবনে ঠেলে দিলাম। দিনগুলো আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবে নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম এটা ভেবে যে, জর্জ বদলে গেছে। সে মদ পান করে না, সে রাতে বাইরে থাকে না, কারো সঙ্গে মারামারি করে না। আচ্ছা, এসবের কারণ কি সে মুসলিম হয়েছে?  দুই সপ্তাহ পর জর্জ ঘরে ফিরল। তার চেহারা ছিল দীপ্ত এবং সে আমাকে জড়িয়ে ধরল। সে ফিরে আসায় আমি খুবই খুশি হলাম। জর্জ আমার সঙ্গে বসল এবং দীর্ঘ সময় ঘরে আল্লাহর একত্ববাদের কথা বলল। আমাকে বোঝাল ঈসা (আ.) আল্লাহর নবী ছিলেন, তাঁর ছেলে নয়। আমি তার কথা গ্রহণ করলাম। আমি মুসলিম হতেও প্রস্তুত হলাম। কিন্তু সে আমাকে সময় নিতে বলল। এর ছয় মাস পর আমি নিজের ছেলের হাতে ইসলাম গ্রহণ করলাম। আলহামদুলিল্লাহ! সেটা ছিল একটি দারুণ মুহূর্ত। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমার অপর ছেলেও অল্প দিনের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ করল। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে, তিনি ঈমান ও ইসলামের সঙ্গে আমার দুই সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে আমার কোলে ফিরিয়ে দিলেন।

অ্যাবাউট ইসলাম থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা