kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

কোরআনের প্রতি একজন অন্ধ নারীর ভালোবাসা

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোরআনের প্রতি একজন অন্ধ নারীর ভালোবাসা

অদম্য ইচ্ছাশক্তি যে বহু কঠিন জিনিসকে সহজ করে দেয় তার বাস্তব দৃষ্টান্ত সৌদি আরবের ৩২ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী হুদা আত-তাইয়িব। অন্ধ হয়েও পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। সম্প্রতি আরবি গণমাধ্যম আজিলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের কোরআনে কারিম মুখস্থ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি। হুদা আত-তাইয়িবের সাক্ষাৎকারের ভাষান্তর করেছেন বেলায়েত হুসাইন

তিনি বলেন, শৈশবেই স্বপ্ন দেখতাম কোরআনুল কারিম মুখস্থ করব, কিন্তু অন্ধ হওয়ার কারণে তা সহজ ছিল না। কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করতে অসংখ্য বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি। তবে কখনো চেষ্টা ও সাধনা ছাড়িনি। আলহামদুলিল্লাহ! এই বয়সে উপনীত হয়েও কোরআন হিফজ করতে পেরেছি।

সর্বপ্রথম আমি হাফেজা হওয়ার অনুপ্রেরণা পাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’

কোনো সন্দেহ নেই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর অন্তরে কোরআনের প্রতি সম্মান রয়েছে। আর এ কথাও প্রমাণিত যে, উম্মাহর সাফল্য ও সংশোধনে কোরআনের ভূমিকা ব্যাপক; বরং সমগ্র মানবজাতির ওপর পবিত্র এই গ্রন্থের প্রভাব স্বীকৃত। আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস ছিল, বান্দা কোরআনের মাধ্যমে সম্ভ্রান্ত ও উম্মাহর জন্য কল্যাণের বাহক হতে পারে। কোরআন ও কোরআনচর্চার মর্যাদাসংক্রান্ত আয়াত হাদিস আমাকে কোরআনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট করে।

কয়েক বছর আগে আমি পর্যায়ক্রমে কয়েকটি কোরআন মুখস্থকরণ কোর্সে ভর্তি হই। এভাবে প্রথম কোর্সে কয়েক পারা মুখস্থ করি, দ্বিতীয় কোর্সে হিফজ সম্পন্ন হয়, তৃতীয়টিতে সম্পূর্ণ কোরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শোনাই এবং সব শেষ কোর্সে আরো টাটকা মুখস্থ করে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হই।

কোরআন হিফজ করার কল্যাণ যাত্রায় আমাকে সাহায্যকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা, পিতা-মাতা ও বান্ধবীদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। কোরআনের বেশির ভাগ অংশ আমি অডিও মকশ শ্রবণ করে মুখস্থ করেছি—এ জন্য দূরের এসব কারির প্রতিও সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা জানাই। এখন আমি কোরআন- হাদিসের উচ্চতর জ্ঞানার্জনের সংকল্প করেছি।

আমি কোরআনের হাফেজা হয়ে জীবনের যে স্বাদ অনুভব করেছি, তা আগে কখনো অনুভব করিনি। হাফেজা হওয়ার পর আমার জীবন বরকতপূর্ণ হয়েছে। এ জন্য সুস্থ অসুস্থ সবাইকে অন্তত কোরআন তিলাওয়াতের আহ্বান জানাই। আমার অনুরোধ কোরআনের জন্য সময় ব্যয় করুন। ইনশাআল্লাহ! কাঙ্ক্ষিত জীবন লাভ করবেন। নতুবা কোরআন থেকে দূরে থাকার কারণে আফসোস করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা