kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

বিশ্বাসের উত্তাপ—৩

জাহাজ পুড়িয়ে পেছনে না ফেরার শপথ

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্পেনের আকাশে-বাতাসে তখন গথিক শাসনে নিষ্পেষিত মানুষের আর্তনাদ। স্পেনের অত্যাচারিত জনগণ গোপনে মুসলিম সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইরের কাছে আবেদন করল, অত্যাচারের হাত থেকে আমাদের মুক্ত করুন। মুসা ছিলেন উত্তর আফ্রিকায় খলিফা ওয়ালিদের প্রতিনিধি। ৭১১ সালে মুসার আহ্বানে তারিক বিন জিয়াদ সাগরের তীরে এক পর্বতের বুকে এসে পৌঁছলেন। তারিকের নাম বহন করে আজ পর্যন্ত এই স্থানে জাবালে তারিক (তারিকের পর্বত) বা জিব্রাল্টার নামে খ্যাত। সাগর পার হয়ে তারিক স্পেনের ভূমি স্পর্শ করলেন। নবসূর্যের রশ্মিপাত এই প্রথম স্পেনের ভূমিদেশকে অভিনন্দিত করল।

স্পেনরাজ রডারিক এই মুষ্টিমেয় মুর সৈন্যের আবির্ভাবে তিলমাত্র বিচলিত হলেন না। তাঁর বিপুল সৈন্যসামন্ত যে অতি সহজেই এ নবাগত মুরদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলবে সে বিষয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল না। তারিক দেখলেন, তাঁর দুঃসাহসী রোমাঞ্চপ্রিয় বীর সৈনিকদের মনেও দ্বিধা উপস্থিত হয়েছে। স্পেনের এত সৈন্যবল, তাঁর সম্মুখে কী তারা? তারিক সৈন্যদের এই বিচলিত ভাব দেখে এক অদ্ভুত কাজ করে বসলেন। যেসব তরিতে তিনি জিব্রাল্টার প্রণালি পার হয়েছিলেন, তার সব নষ্ট করে ফেললেন।

তিনি পেছনের পথ বন্ধ করে মুর সৈন্যদের সম্বোধন করে বললেন, ‘বন্ধুরা, অনন্ত গভীর সমুদ্র আমাদের পেছনে গর্জন করে চলছে। আজ যদি কাপুরুষের মতো ফিরে যাই, তাহলে সাগরের অতল গর্ভে আমাদের ডুবে যেতে হবে। আর যদি দেশ, জাতি ও ধর্মের গৌরব রক্ষা করে সত্যের পতাকা উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে চলে জয়লাভ করি, তাহলে জয়মালা আমাদের বরণ করে নেবে। নয়তো মৃত্যুবরণ করে শহীদের মর্যাতা লাভ করব। এই জীবন-মরণ সংগ্রামে কে আমার অনুগামী হবে?’

সবাই সেনাপতির আহ্বানে একবাক্যে সম্মতি জানাল। ‘আল্লাহু আকবর—আল্লাহ মহান’—এই ধ্বনি করতে করতে মুর সৈন্য বিপুল স্পেনীয় বাহিনীর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রচণ্ড আক্রমণের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে স্পেন বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো।

স্পেন বিজয়ী তারিকের অপূর্ব শৌর্যবীর্য ও সাহস দেখে স্পেন সেনাপতি থিওডমির বিস্মিত ও স্তম্ভিত হয়ে রাজা রডারিককে লিখে পাঠালেন, ‘সব শক্তি প্রয়োগ করেও এই অদ্ভুত শৌর্যবীর্যের অধিকারী নবাগতদের অগ্রগতি আমি কিছুতেই রোধ করতে পারলাম না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা