kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

যে যে সময়ে তাকবির পাঠ করতে হয়

মুফতি ইবরাহিম সুলতান   

৩০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যে যে সময়ে তাকবির পাঠ করতে হয়

মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনার সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম শব্দ ‘আল্লাহু আকবার’। এই শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে বান্দা তার প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান এবং রবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়েন।

তাকবির শুধু আজান ও নামাজে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামী শরিয়তে বছরের বিভিন্ন সময় ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়ে তাকবির পাঠের বিশেষ গুরুত্ব ও নির্দেশ রয়েছে। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো—

জিলহজের প্রথম ১৩ দিন বেশি  বেশি তাকবির পাঠ করা

আইয়ামে তাশরিক তথা জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজের পর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক নামাজের পর পুরুষদের জন্য উঁচু আওয়াজে আর মহিলাদের নিচু আওয়াজে, ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ পাঠ করা ওয়াজিব। তবে জিলহজের প্রথম দিন থেকেই তাকবিরের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া মুস্তাহাব। হাদিস শরিফে এ বিষয়ে বিশেষ তাগিদ রয়েছে। কোনো কোনো সাহাবি বাজারে গিয়ে উঁচু আওয়াজে এই তাকবির পড়তেন।

নতুন চাঁদ দেখার সময় তাকবির

নতুন চাঁদ দেখার সময় তাকবির বলা ও দোয়া পড়া নবীজির ধারাবাহিক একটি সুন্নত। বিখ্যাত সাহাবি ইবনে ওমর (রা.) বলেন, নবী ( সা.) নতুন চাঁদ দেখার পর বলতেন,  উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-য়ুমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’

অথর্ : ‘আল্লাহ মহান; হে আল্লাহ, আমাদের জন্য চাঁদটিকে বরকতময় (নিরাপদ), ঈমান, নিরাপত্তা ও শান্তির বাহন করে উদিত করো। হে নতুন চাঁদ, আল্লাহ তাআলা আমারও প্রভু, তোমারও প্রভু।’ (দারেমি, হাদিস : ১৭২৯)

যানবাহনে চলার সময় তাকবির

যানবাহনে চলার সময় নবীজির গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত হলো তাকবির পাঠ করে দোয়া পড়া। নবী (সা.) যানবাহনে ব্যবহৃত পশুর পিঠের ওপর বসে বলতেন, ‘বিসমিল্লাহ’ এবং এর পিঠে চড়ে সোজা হয়ে বসে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়তেন, ‘মহান পবিত্র তিনি, যিনি একে আমাদের অনুগত বানিয়েছেন, তা না হলে একে বশ করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের রবের নিকট ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা : যুখরুক : আয়াত ১৩-১৪)।

পুনরায় তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০২)

ওপরে ওঠার সময় তাকবির

আল্লাহর রসুল (সা.) যখনই কোনো যুদ্ধ বা হজ অথবা উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন, তখনই তিনি প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং সফর থেকে ফেরার দোয়া পড়তেন। (বুখারি, হাদিস : ১৭৯৭)

এমনকি সাহাবাদেরও ওপরে ওঠার সময় তাকবির পড়ার প্রতি নির্দেশ করতেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৪৫)

পশু জবাইয়ের সময় তাকবির

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কোরবানির দিন দুটি ধূসর বর্ণের শিংবিশিষ্ট ও খাসি করা দুম্বা জবাই করেন। তিনি দুম্বা দুটিকে কিবলামুখী করে শুইয়ে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৯৫)

খুশির সংবাদ শুনে তাকবির

সহিহ বুখারির এক দীর্ঘ বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবাদের বলেন, ‘আমি আশা করি, তোমরা সব জান্নাতবাসীর এক-তৃতীয়াংশ হবে। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রা.) বলেন, তখন আমরা এ সংবাদ শুনে আবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দিলাম। তিনি আবার বলেন, আমি আশা করি তোমরা সব জান্নাতীর অর্ধেক হবে। এ কথা শুনে আমরা আবারও ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবির দিলাম। তিনি বলেন, তোমরা তো অন্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কালো পশম অথবা কালো ষাঁড়ের শরীরে কয়েকটি সাদা পশম। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪৮)

আগুন নেভাতে তাকবির বলা

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা কোনো জায়গায় আগুন লেগে গেছে দেখো, তখন ‘আল্লাহ আকবার’ বলতে থাকো। কেননা তাকবির আগুন নেভাতে সহায়ক হয়।’ আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা আগুন নেভাতে তাকবিরের সাহায্য নাও। (মাকাসিদুল হাসানা, হাদিস : ৬৩)

মহান আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি তাকবির পাঠ করার তাওফিক দান করুন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা