kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

মানুষের প্রতি আল্লাহর ৪ জিজ্ঞাসা

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সব সৃষ্টির ওপর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। বিশেষভাবে শারীরিক গঠন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কিন্তু মানবজাতি এতই অকৃতজ্ঞ যে তারা তাদের প্রকৃত মালিকের ব্যাপারে হয়েছে উদাসীন ও নির্ভয়। আর তারা পৃথিবীতে জিনা-ব্যভিচার, অন্যায়-অবিচার, জুলুম-নির্যাতন, সুদ, ঘুষ, মদ্যপান ইত্যাদি সব ধরনের পাপাচারে লিপ্ত। তাই মহান আল্লাহ দুটি সুরার চার আয়াতে তাদের প্রশ্ন করেছেন, কোন জিনিস তাদের নির্ভয়, চিন্তামুক্ত ও উদাসীন করল? প্রশ্নগুলো হলো—

১.         ‘তোমরা কি এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যে যিনি আকাশে আছেন (আল্লাহ) তিনি তোমাদের মাটির মধ্যে ধসিয়ে দেবেন এবং হঠাৎ ভূপৃষ্ঠ জোরে ঝাঁকুনি খেতে থাকবে?’ (সুরা মুলক, আয়াত : ১৬)

            অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করা জরুরি, নির্ভয় হওয়া উচিত নয়। কারণ তিনি ইচ্ছা করলে মানুষকে মাটিতে ধসিয়ে দিতে সক্ষম।

২.         ‘যিনি আকাশে আছেন (আল্লাহ) তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী বাতাস পাঠাবেন—এ ব্যাপারেও কি তোমরা নির্ভয় হয়ে গেছ? তখন জানতে পারবে, আমার সাবধানবাণী কেমন!’ (সুরা মুলক, আয়াত : ১৭)

৩.        ‘তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত রয়েছ যে তিনি তোমাদের স্থলভাগে কোথাও ভূগর্ভস্থ করবেন না? অথবা তোমাদের ওপর প্রস্তর বর্ষণকারী ঘূর্ণিঝড় প্রেরণ করবেন না? (যদি তিনি তা করেন) তখন তোমরা নিজেদের জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পাবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৬৮)

৪.         ‘অথবা তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছ যে তিনি তোমাদের আরেকবার সমুদ্রে নিয়ে যাবেন না? অতঃপর তোমাদের জন্য তীব্র বাতাস প্রেরণ করবেন না? পরে অকৃতজ্ঞতার শাস্তিস্বরূপ তোমাদের নিমজ্জিত করবেন না? তখন তোমরা আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে সাহায্যকারী কাউকে পাবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৬৯)। হে আল্লাহ! আমাদের  থেকে গজব উঠিয়ে নিন এবং আমাদের পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক : প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা