kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বসনিয়ায় মুসলিম গণহত্যার ২৫ বছর

ইসলামী জীবন ডেস্ক   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসনিয়ায় মুসলিম গণহত্যার ২৫ বছর

বসনিয়ায় গণহত্যা ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে, বলকান গৃহযুদ্ধের সময়। বসনিয়ার সার্ব সৈন্যরা যখন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী কর্তৃক নিরাপদ এলাকা বলে ঘোষণা করা স্রেব্রেনিচা শহর এবং তার আশপাশের এলাকা দখল করে নিল, তখনই ঘটেছিল ভয়াবহ সেই গণহত্যা।

সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসেবে মোতায়েন ছিলেন এমন একজন ডাচ সৈন্য ভিম ডাইকেনারের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির অ্যালান জনস্টন।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বলকান যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন টানা তিন বছর আট মাস ধরে বসনিয়ার সারায়েভো ছিল এক অবরুদ্ধ শহর। শহরটি ছিল প্রধানত বসনিয়াক মুসলিম অধ্যুষিত। চারপাশের পাহাড়ের আড়াল থেকে যখন সার্বিয়ান বন্দুকধারীরা গোলাগুলি শুরু করল, শহরের মুসলিম বাসিন্দারা তখন নিজেদের শহরেই জিম্মি হয়ে পড়ে।

সারায়েভো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের শহর স্রেব্রেনিচায় ভিম ডাইকেনার এসেছিলেন ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে ।

তিনি ছিলেন জাতিসংঘের ছয় হাজার হালকা অস্ত্রসজ্জিত শান্তিরক্ষী সেনাদের একজন।

ওই স্রেব্রেনিচা এলাকার হাজার হাজার বেসামরিক লোকের সঙ্গে মুসলিম যোদ্ধারাও ছিল। আর ওই এলাকাটি ঘিরে ছিল বসনিয়ান সার্ব বাহিনী, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল রাটকো ম্লাদিচ। সার্ব বাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রের শক্তিতে ডাচ শান্তিরক্ষীদের কোনোভাবেই পেরে উঠা সম্ভব ছিল না। জুলাই মাসের প্রথম দিকে ডাচ সৈন্যদের তাদের নিয়ন্ত্রিত একটা ফাঁড়ি থেকে পিছিয়ে আসতে হলো। কিন্তু এর ফলে মুসলিম যোদ্ধারা শান্তিরক্ষীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তাদের একজন শান্তিরক্ষীদের ওপর গ্রেনেড ছুড়ল, তাতে একজন ডাচ নিহত হয়। এর কিছু পরই ৩০ জন ডাচ শান্তিরক্ষী সার্বদের কাছে আত্মসমর্পণ করল এবং তাদের জিম্মি করা হলো।

তখন সার্বরা তাদের হাতে থাকা ডাচ জিম্মিদের হত্যা করার হুমকি দিল এবং এর পর আর বিমান আক্রমণ চালানো হলো না।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই সার্ব বাহিনীর হাতে স্রেব্রেনিচার পতনের খবর বিশ্ববাসী জানতে পেল। এরপর শুরু হলো গণহত্যা। বসনিয়ান সার্বরা মুসলিম পুরুষ ও বালকদের ধরে নিয়ে যেতে শুরু করল। মোট আট হাজার লোককে তারা হত্যা করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এত বড় গণহত্যা আর হয়নি।

১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিচায় আট হাজার মুসলিমকে হত্যা করা ছিল সেই যুদ্ধের সবচেয়ে নারকীয় হত্যাকাণ্ড। মুসলিম পুরুষ ও বালকদের বেছে বেছে আলাদা করে হত্যা করা হয়, এরপর তাদের গণকবর দেওয়া হয়।

[বিবিসি বাংলা (সংক্ষেপিত)]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা