kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

মরুজাহাজ উটের বিস্ময়কর জীবন

মুফতি জাওয়াদ তাহের   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরুজাহাজ উটের বিস্ময়কর জীবন

মহান আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়া থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস স্থাপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপায়ে উপদেশ দিয়েছেন। মানুষের হৃদয়ে ঈমান জাগিয়ে তোলার জন্য এমন অলংকারপূর্ণ আলোচনা করেছেন, যা যে কাউকে শিহরিত করে তোলে। সুরা গাশিয়ার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি উটের প্রতি লক্ষ করে না যে তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?’

আল্লাহর নিদর্শনাবলির মধ্যে উট অন্যতম। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে উটের কথা বলেছেন। যে উট নিয়ে একটু ভাববে সে আল্লাহকে চিনবে। রবের পরিচয় জানতে পারবে। বারবার এই আয়াত পড়ে দেখুন আর ভাবুন অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করবে। নিজের অজান্তেই বলে উঠবেন মহান আল্লাহর সৃষ্টি কত সুন্দর!

উট আরবভূমিতে সবচেয়ে দামি প্রাণী। উটকে বলা হয় মরুর জাহাজ। আরবিতে একে বলা হয় ‘সাফিনাতুস সাহরা’। উট ২০০-৩০০ কেজি পর্যন্ত বোঝা নিয়েও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে। তৎকালীন সময় আরবের বণিকদের ব্যাবসায়িক পণ্য নেওয়ার মাধ্যম ছিল উট। উটের পিঠে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে সে যুগের লাক্সারি ভ্রমণ করা হতো। মরুভূমির প্রচণ্ড তাপমাত্রায় নির্বিঘ্নে পথ চলার এক অসাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মরুজাহাজ নামে খ্যাত উটকে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও পানিবিহীন বাঁচতে পারে লাগাতার ১০ দিন। এর শরীরে আল্লাহ এমন অসাধারণ ক্ষমতা দিয়েছেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম, যা অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। মরুভূমির ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরমেও উটের শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয় না। (হায়াতুল হায়ওয়ান)

উটের খাদ্যাভ্যাস অন্য প্রাণীর চেয়ে ভিন্ন। উট যেকোনো কাঁটাযুক্ত গাছপালা চিবিয়ে সাবাড় করে ফেলে, যা অন্য কোনো প্রাণীর সাধ্যে নেই। উটের এমন এক জিব আছে, যা কাঁটা ফুটো করতে পারে না। এর হজমশক্তি এত ভালো যেকোনো খাবার সে নিমিষেই হজম করে ফেলতে পারে।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক উট প্রতি মিনিটে ১০-২০ লিটার পানি পান পারে। অতিরিক্ত পানির কারণে রক্তকণিকায় কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। মহান আল্লাহ উটকে পানি পান করার ক্ষমতা দিয়েছেন, একইভাবে পানিশূন্যতা সহ্য করার প্রচণ্ড ক্ষমতা দিয়েছেন। মরুভূমির খরতাপে পানি পাওয়া বড়ই দুষ্কর। তাই উটকে দেওয়া হয়েছে পানি ধরে রাখার অসম্ভব ক্ষমতা। তবে এর চেয়েও বড় কথা হলো উট খুব মিতব্যয়ী, হিসাব করে পানি খরচ করে। যেমন—উট খুব অল্প পরিমাণ মূত্র ত্যাগ করে। প্রায় ৭৬ শতাংশ মূত্র কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি মলত্যাগের সময় নিঃসৃত পানি কমিয়ে দিতে পারে প্রায় ৫০ শতাংশ।

মহান আল্লাহ তাআলা উটকে মরুভূমির কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছেন। উটের মধ্যে যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো একসঙ্গে না থাকত তাহলে কি উটের পক্ষে এই প্রখর রোদে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো? কখনোই না। তাহলে এই উট কি একা একা ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে? উট কি মরুভূমির তাপমাত্রায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে? একজন বুদ্ধিমান লোকের জন্য উটের সৃষ্টি তার মহান স্রষ্টাকে চেনার জন্য যথেষ্ট। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)। কত নিখুঁত মহান আল্লাহর পরিকল্পনা! নিশ্চয়ই সব প্রশংসা তাঁরই।

লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা