kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

নওমুসলিমের কথা

স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ

আমার মুসলিম নাম কারিমা। জন্মস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বয়স ২৩ বছর। আমার পরিবার কখনো ধার্মিক ছিল না। আমার মা পরিশীলিত ধর্মচর্চার প্রতি ছিলেন সহানুভূতিশীল, আর বাবা ছিলেন পুরোপুরি নাস্তিক। আমরা কখনো চার্চে বা ধর্মসভায় যেতাম না। মা অবশ্য বলতেন তিনি আমার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অবশ্যই সম্মান দেখাবেন। কিশোর বয়সে হঠাৎ স্রষ্টার প্রতি আমার বিশ্বাস তৈরি হয়। আমার বয়স তখন সম্ভবত ১৫ বা ১৬ বছর। এত দিন যে আমি স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসী ছিলাম, সেই আমি এখন সারা রাত স্রষ্টার চিন্তায় কাটিয়ে দিই।

তখন আমি হাই স্কুলে পড়ি। বিশ্ব ইতিহাস ক্লাসে আমাদের একটি যৌথ অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়। আমাদের বলা হয় বিভিন্ন ধর্মের উৎসব নিয়ে গবেষণা করতে। আমার দলের সদস্যরা ঈদুল আজহা নিয়ে কাজ করেছিল। দলের একজন সদস্য হিসেবে অ্যাসাইনমেন্টের প্রাথমিক তথ্যগুলো আমিও একত্র করেছিলাম। অ্যাসাইমেন্টের জন্য আমাকে প্রচুর পড়তে হয় এবং তাতে আমি আগ্রহ বোধ করি। এর আগে আমি ইসলাম সম্পর্কে ভয়ানক ধারণা পোষণ করতাম এবং আগে কখনো কোনো মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎও হয়নি। ফলে আমি ছিলাম পুরোপুরি বিস্মিত।

আমি নিজে নিজে ভাবতাম, আমার এখন ধর্মান্তরিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমি ভাবতে এবং অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে নিজেকে সময় দিয়েছিলাম। ফলাফল শূন্যই হলো। ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মগুলো আমার কাছে একই রকম মনে হলো। অবশেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ আমি স্কুল থেকে বের হলাম এবং হাতে লেখা কলেমা শাহাদাতের একটি অনুবাদ পাঠ করলাম। আমি একই সঙ্গে আনন্দ ও উত্তেজনা অনুভব করলাম।  এরপর আমি নামাজ শিখতে শুরু করলাম এবং হিজাবের প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হলো। আমি কোরআনের আদ্যোপান্ত পাঠ করতে লাগলাম।

আমার ভয় ছিল পরিবার নিয়ে। মা আগে বলতেন, তিনি অবশ্যই সহযোগিতা করবেন। বাস্তবে করলেন না। শুরুতে মা আমার কোরআনের কপিটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন (নাউজুবিল্লাহ) এবং বাবা ভয়ংকর সব কথা বলেছিলেন। দীর্ঘদিন আমি তাঁদের সামনে ইসলামের অনুসরণ করতে পারতাম না। তবে আমি কখনো ইসলামের পথ থেকে সরে যাইনি। এখন মা আগের তুলনায় নম্র আচরণ করছেন, তবে পুরোপুরি মেনে নেননি। আর বাবা বরাবরের মতোই বিরোধিতা করছেন। আমার প্রত্যাশা, আল্লাহ সহায় হলে একদিন তাঁরা আমার চেয়ে ধর্মানুরাগী মুসলিম হবেন!

কোরআনের অবিকৃতি ও কোটি কোটি মানুষ কর্তৃক তা মুখস্থকরণ একটি বিস্ময়কর ব্যাপার। আমার অভিজ্ঞতা হলো, ইসলামই শুধু মানুষের অনুভূতির পূর্ণ মূল্য দিয়েছে। ইসলাম আমার সব প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর প্রতি সন্তুষ্ট। অনুভব করি ইসলাম আমার প্রকৃতির সঙ্গে মিশে আছে। আমি বিশ্বাস করি, ইসলাম মানব প্রকৃতির অনুকূল একটি ধর্ম। নতুন জীবনদানের জন্য আমি মহান স্রষ্টা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ।

অ্যাবাউট ইসলাম থেকে ভাষান্তর মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা