kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ড. কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল

আধুনিক হারামাইনের নকশা করেছিলেন যিনি

ড. জগলুল আন-নাজির   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আধুনিক হারামাইনের নকশা করেছিলেন যিনি

মসজিদুল হারাম ও মসজিদ-ই-নববীর যে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আমরা দেখছি তার সূচনা হয়েছিল মিসরীয় স্থপতি ড. কামাল মুহাম্মদ ইসমাইলের হাতে। তিনিই মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের আধুনিকায়নের প্রথম কারিগর। কামাল মুহাম্মদ ইসমাইলকে বলা হয় ‘প্রফেসর অব জেনারেশনস’। মিসরীয় এই স্থপতির সেরা অর্জন পবিত্র মক্কা ও মদিনার আধুনিক অবকাঠামো। বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ তাঁকে এই কাজের জন্য মনোনীত করেন।

কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৮ মিসরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিসরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হাই স্কুল সার্টিফিকেট ও রয়াল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং সবচেয়ে অল্প বয়সে ইসলামী স্থাপত্যের ওপর পিএইচডি করতে ইউরোপে যান। তিনিই মিসরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে বাদশার কাছ থেকে ‘নিল স্কার্ফ’ ও ‘আয়রন র‌্যাংক’ অর্জন করেন।

কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যান। এর পর থেকে তিনি আর বিয়ে করেননি। জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলোয় গণমাধ্যম, যশ-খ্যাতি ও অর্থের মোহ থেকে দূরে থেকে নিভৃতে পবিত্র দুই মসজিদের সেবা ও আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত করেন।

ড. কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল মসজিদুল হারাম ও মসজিদ-ই-নববীর আধুনিকায়ন প্রকল্পে কাজের কোনো বিনিময় গ্রহণ করেননি। বাদশাহ ফাহাদ ও বিন লাদেন কম্পানিকে শত কোটি টাকার চেক ফিরিয়ে দেওয়ার সময় তিনি বকর বিন লাদেনকে বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদের সেবার বিনিময় আমি কিভাবে গ্রহণ করব? তাহলে বিচার দিবসে আল্লাহকে কিভাবে মুখ দেখাব?’

মসজিদুল হারামের মার্বেল পাথর স্থাপন নিয়ে একটি চমৎকার ঘটনা রয়েছে—যার সঙ্গে ড.  কামাল মুহাম্মদ ইসমাইলের নামও জড়িয়ে আছে। মসজিদুল হারামের আধুনিকায়নের সময় তাওয়াফের স্থানটুকু মার্বেল পাথর বসানোর পরিকল্পনা করা হয়। তখন গ্রিসের একটি পাহাড়েই সবচেয়ে ভালো সাদা মার্বেল পাথর পাওয়া যেত। তিনি গ্রিসে যান এবং প্রয়োজনীয় মার্বেল পাথরের কেনার চুক্তি করেন। পরে মসজিদুল হারামে মার্বেল পাথর বসানোর কাজ সম্পন্ন করেন। ১৫ বছর পর সৌদি সরকার তাঁকে মসজিদুল হারামের মতো মসজিদ-ই-নববীতেও মার্বেল পাথর বসানোর কথা বলেন। বাদশার পরিকল্পনার কথা শুনে প্রকৌশলী কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল চিন্তায় পড়ে যান। কেননা এই মানের পাথর তো কেবল গ্রিসেই পাওয়া যায়। আর মসজিদুল হারামের কাজের জন্য তার প্রায় অর্ধেক আগেই কেনা হয়েছে। তবু তিনি গ্রিসের সেই কম্পানির সিইওর সঙ্গে দেখা করেন এবং সাদা মার্বেল পাথরের মজুদ সম্পর্কে জানতে চান। তাঁকে জানানো হয় তাদের অবশিষ্ট মজুদ ১৫ বছর আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি ব্যথিত হলেন। তবে গ্রিস ত্যাগ করার আগে কম্পানির ক্রেতার ঠিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। পরদিন পাথর কম্পানি জানায় একটি সৌদি কম্পানি মার্বেল পাথরগুলো কিনেছিল। তিনি তাদের কাছ থেকে ক্রেতার ঠিকানা সংগ্রহ করলেন।

প্রকৌশলী কামাল মুহাম্মদ ইসমাইল সৌদি আরবে পৌঁছে পাথর ক্রয়কারীর কম্পানির পরিচালকের সঙ্গে দেখা করলেন। তাদের কেনা পাথরের মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কম্পানির পরিচালক মজুদখানার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানান তাদের কেনা পাথরের পুরোটাই থেকে গেছে। তা কোথাও ব্যবহূত হয়নি। পরিচালকের কথা শুনে কামাল শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করলেন এবং কম্পানির পরিচালককে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তিনি তাঁকে একটি ‘ব্লাংক চেক’ দিয়ে বলেন আপনার ইচ্ছামতো পরিমাণ লিখে নিন। কিন্তু মসজিদ-ই-নববীতে ব্যবহূত হবে জেনে কম্পানির পরিচালক এক টাকাও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পুরো মার্বেল পাথর মসজিদ-ই-নববীর কাজে ব্যবহূত হয়। ২ আগস্ট ২০০৮ মহান এই প্রকৌশলী ইন্তেকাল করেন।

ভারতের ইসমা টাইমসে প্রকাশিত লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা