kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

এসো শিখি ইসলাম-৫

ঈমান ও কুফর

আহমাদ রাইদ   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার। ঈমানই জীবন, কুফর মৃত্যুতুল্য। ঈমান সরল পথ, আর কুফর ভ্রষ্টতার রাস্তা। ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামকে তার সব অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্রাণে গ্রহণ করার নাম ঈমান। ঈমান হলো, ওহি বা আসমানি প্রত্যাদেশের মাধ্যমে জানা সব কিছুকে সত্য বলে বিশ্বাস করা। অজ্ঞতা-অনুমান আর কল্পনা-কুসংস্কারের কোনো অবকাশ ঈমানে নেই। ঈমান অবিচল বিশ্বাসের নাম। সংশয় ও দোদুল্যমানতা এখানে থাকতে পারে না। বিশ্বাস যদি দৃঢ়ই না হলো, তাহলে তা ঈমান হয় কিভাবে?

কোনো বিষয় শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে মেনে নেওয়া ঈমানের দাবি।

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও দৃশ্যমান বিষয় ঈমানের বিষয়বস্তু নয়। এসব তো মানুষ এমনিতেই মেনে নেয়। এতে ঈমান আনা না আনার প্রশ্নই অবান্তর। মুমিনকে এ জন্য মুমিন বলা হয় যে সে না দেখা বিষয় শুধু আল্লাহ বা তাঁর রাসুলের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে মেনে নেয় ও বিশ্বাস করে।

সত্যের সাক্ষ্যদান ও ইসলামের স্তম্ভগুলো যথাযথ পালন ঈমানের দাবি। অন্তরের বিশ্বাসের সঙ্গে মুখে সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া ঈমানের অন্যতম স্তম্ভ। মহানবী (সা.) রবিআ গোত্রের প্রতিনিধিদলকে ঈমানের ব্যাপারে বলেছিলেন, ‘তোমরা কি জানো ঈমান কী? তারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। আল্লাহর রাসুল বললেন, ঈমান হলো এ সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। আর সালাত (নামাজ) কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (রাষ্ট্রীয় কোষাগারে) প্রেরণ করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩)

ঈমান ও ইসলামের ক্ষেত্র এক, কিন্তু শুরু ও শেষের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য বিদ্যমান। ঈমান অন্তর থেকে শুরু হয় এবং দৈহিক আমলে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ করে। একইভাবে ইসলাম দৈহিক আমল থেকে শুরু হয় এবং অন্তরে পৌঁছে পূর্ণতা লাভ করে। অন্তরের বিশ্বাস প্রকাশ্য আমল পর্যন্ত না পৌঁছালে তা গ্রহণযোগ্য হয় না। অনুরূপ প্রকাশ্য আনুগত্য আন্তরিক বিশ্বাসে না পৌঁছালে গ্রহণযোগ্য হয় না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা