kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

ইমাম উসমান ইয়াং জিং

হংকংয়ের মুসলিম কণ্ঠস্বর

আতাউর রহমান খসরু   

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ের মুসলিম কণ্ঠস্বর

সবুজ প্রাঙ্গণে একটি সাদা ভবন। পাশেই উঁচু স্মৃতির মিনার। প্রবেশপথেই সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। ইমাম উসমান ইয়াং জিং আল্লাহর ঘরের অতিথিদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন। হংকংয়ের ওয়ান চাই জেলার মসজিদে আম্মার ও উসমান রামজু সাদিক ইসলামিক সেন্টারের প্রতিদিনের চিত্র এটি। মসজিদে প্রবেশ করলেই দেয়ালে কাবাঘরের চিত্র। ইমাম ইয়াং জিং দেয়ালচিত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, ‘মুসলমানের জীবনে কাবার প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কাবা সফরের জন্য মুসলিমদের সুস্বাস্থ্য, আর্থিক সামর্থ্য, সময় ও নিরাপদে যাতায়াতের নিশ্চয়তার প্রয়োজন হয়।’

ইয়াং জিং হংকংয়ের চায়না ভাষা বলতে পারা দুই ইমামের একজন। সম্প্রতি তাঁর ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলাম’ বই প্রকাশ পেয়েছে। চায়না ভাষায় লেখা এই বইয়ে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, রীতি-নীতি ও সংস্কৃতির পাশাপাশি হংকংয়ে ইসলাম আগমনের ইতিহাসও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। মূলত তিনি নিত্যদিনের ইসলামী বিধি-বিধানের সঙ্গে সঙ্গে হংকংয়ের মুসলিমদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরতে চেয়েছেন।

১৮৪১ সালে হংকংয়ে মুসলমানের আগমন হয় ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর—যাদের ভারত থেকে নিয়ে আসা হয়। সে সময় আসা বেশির ভাগ মুসলিমই ছিল সেনা সদস্য। তবে তাদের মধ্যে মুসলিম ব্যবসায়ীও ছিল। বর্তমানে ওয়ান চাই শহরে ১২ হাজার মুসলিম পরিবার বসবাস করে। ক্রমবর্ধমান মুসলিমরা একটি জামে মসজিদও নির্মাণ করেছে—৩০ শেলি স্ট্রিটে ১৮৫০ সালে যার সূচনা হয়েছিল। ১৯১৫ সালে তার পুনর্নির্মাণ হয়। এর পর থেকে তা এখনো দাঁড়িয়ে আছে আশপাশের সুউচ্চ ভবনের ছায়ায়।

হংকংয়ের দ্বিতীয় মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৯৬ সালে নাথান রোডে ভিক্টোরিয়া হার্বারের পাশে, যা কলিন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নামে পরিচিত। ১৯৭৬ সালে সিম শ সুইয়ের মধ্য দিয়ে রেললাইনের টানেল করার সময় মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৮০ সালে তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

মসজিদে আম্মার হংকংয়ের তৃতীয় মসজিদ। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের নামের সঙ্গে ‘সাদিক’ শব্দটি পরে যোগ করা হয়। সাদিক ছিলেন এক চীনা মুসলিম স্থপতি। তিনি মসজিদে আম্মারের প্রতিষ্ঠাতা ও নকশাকারী। হংকংয়ে মুসলমানের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ১৯৯৩ সালে ইমাম ইয়াং জিং যখন হংকং আসেন তখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। বর্তমানে হংকংয়ে মুসলমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন লাখে। তাদের ৬০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ান। এ ছাড়া ৪০ হাজার চীনা মুসলিম, ৩০ হাজার পাকিস্তানি মুসলিম রয়েছে।

ইমাম উসমান ইয়াং জিংয়ের জন্ম পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশে। তিনি প্রথমে বেইজিংয়ে অবস্থিত চায়না ইসলামিক ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করেন এবং পরে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ইসলামাবাদে চার বছর লেখাপড়া করেন। ১৯৯২ সালে ইসলামিক ইউনিয়ন অব হংকং তাঁকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর পর থেকে হংকংয়ে মসজিদ পরিচালনা ও ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত তিনি। তিনি তাঁর ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলাম’ বই সম্পর্কে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমি বইটি লেখা শুরু করি। কেননা আমি চায়না ভাষায় লেখা এমন কোনো বই খুঁজে পাইনি। আমি মূলত অমুসলিমদের ইসলাম ও মুসলমানের জীবন বুঝতে সাহায্য করতে চাই।’

ইমাম উসমান ইয়াং জিং স্বপ্ন দেখেন একসময় ইসলাম সম্পর্কে হংকংয়ের অধিবাসীদের ভুল ধারণাগুলো ভেঙে যাবে এবং তারা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অবলম্বনে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা