kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

এসো শিখি ইসলাম-৪

মুনাফিক কাকে বলে?

আহমাদ রাইদ   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুনাফিক শব্দটি নিফাক শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ কোনো কিছুকে গোপন রেখে এর বিপরীত কথা বা কাজ প্রকাশ করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মুনাফিক বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যে অন্তরে কুফরি ও ইসলামবিরোধিতা রেখে মুখে মুসলমান হওয়ার দাবি করে। মুনাফিকরা দুমুখো আচরণ করে। বাহ্যিকভাবে নিজেদের মুমিন বলে পরিচয় দেয় অথচ তাদের ভেতরে ঈমান নেই। ঈমান তিনটি জিনিসের সমন্বয়ের নাম। ১. অন্তরের বিশ্বাস। ২. মৌখিক স্বীকৃতি। ৩. স্বীকৃতি অনুযায়ী আমল করা। মুনাফিক শুধু মৌখিকভাবে ঈমানের স্বীকৃতি দান করে; কিন্তু অন্তরে মোটেও বিশ্বাস লালন করে না। ইসলামের ইতিহাসে মুনাফিকের সর্দার হিসেবে কুখ্যাতি লাভ করেছে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল। মুনাফিকদের অন্যতম নিকৃষ্ট কাজ হলো মুমিনদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা।

নিফাক ও মুনাফিকি দুই ধরনের : এক. বিশ্বাসগত মুনাফিকি। দুই. কর্মগত মুনাফিকি।

বিশ্বাসগত মুনাফিকি হলো, অন্তরে কুফরি রেখে নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করা। এ ধরনের মুনাফিকির মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। আর কর্মগত মুনাফিকি হলো, আমানতের খিয়ানত করা, মিথ্যা কথা বলা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, গালিগালাজ করা ইত্যাদি। এসব কর্ম মুনাফিকি হলেও এসবের মাধ্যমে কেউ ইসলাম ধর্ম থেকে বের হয়ে যায় না।

নামধারী মুসলমানদের মধ্যে কে কে মুনাফিক, সেটি ওহি ছাড়া অকাট্যভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর কাউকে নিশ্চিতভাবে মুনাফিক বলার সুযোগ নেই।

তবে কোরআন ও হাদিসে মুনাফিকদের যেসব চরিত্রের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কারো মধ্যে পাওয়া গেলে এমন বলা যাবে যে এটি মুনাফিকি কাজ বা এটি মুনাফিকি চরিত্র। কিন্তু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মুনাফিক বলা যাবে না। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ১৪৫তম আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, ‘মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।’

আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ৮ থেকে ২০ পর্যন্ত মোট ১৩টি আয়াতে মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন সুরায় আরো ৩৮টি আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা