kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়

মুফতি মাহমুদ হাসান   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাক্শক্তির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষমতা মানুষকে অন্য পশুর থেকে আলাদা করেছে। এর ওপর নির্ভর করে একজন মানুষের উত্কৃষ্টতা ও নিকৃষ্টতা। অসতর্ক কথাবার্তা মুহূর্তেই দীর্ঘ শ্রমে উপার্জিত বস্তু ও নেক আমল বরবাদ করে দিতে পারে। আর একজন মুসলিমের তো সর্বদা এ কথা স্মরণ রাখা আবশ্যক যে প্রতিটি কথাবার্তা ফেরেশতাদের দ্বারা রেকর্ড করে রাখা হয় এবং একদিন এই রেকর্ডকৃত কথাবার্তা নিয়ে জবাবদিহির জন্য অবশ্যই দণ্ডায়মান হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন লিপিবদ্ধকারী দুজন ফেরেশতা লিপিবদ্ধ করে, একজন ডানে ও অন্যজন বাঁয়ে বসা থাকে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার জন্য একজন সদা প্রস্তুত প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে।’ (সুরা কাফ, আয়াত : ১৭-১৮)

এ জন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) জবানের হেফাজতের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (তথা মুখ) ও দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান (তথা লজ্জাস্থান) সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিতে পারবে, আমি তার জান্নাত লাভের নিশ্চয়তা দিলাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

 

জবান নিয়ন্ত্রণ করা মুক্তির উপায়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা কখনো আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কথা বলে অথচ সে কথা সম্পর্কে তার অত গুরুত্বও নেই। কিন্তু এ কথার দ্বারা আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আবার বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কথা বলে ফেলে যার পরিণতি সম্পর্কে তার ধারণাও নেই, অথচ সে কথার কারণে সে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।’ (বুখারি, হাদিস ৬৪৭৮)

উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে মুক্তি মিলবে? তিনি বলেন, তুমি তোমার জবানকে নিয়ন্ত্রণ করো, অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে না এবং তোমার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬)

 

ভালো কথা বলব, নচেৎ চুপ থাকব

খারাপ কিছু বলার চেয়ে নীরব থাকা উত্তম, আর একেবারে নিশ্চুপ থাকার পরিবর্তে ভালো কিছু বলা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসী, তার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা নীরব থাকা।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৯৪)

 

অতিকথন সামাজিক সমস্যার কারণ

বর্তমান সময়ে প্রচলিত এই অতিকথনের মনোভাব খুব স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো ধরনের পাপ ও অপরাধের দিকে চালিত করে। এই মনোভাব থেকেই তৈরি হয় নিরর্থক আড্ডা, ঔদ্ধত্য, অন্যকে ছোট করা, পশ্চাতে নিন্দা করা, কুৎসা রটনা, নৈতিক অবনতি, মিথ্যা ও অসততা ইত্যাদি। অথচ এগুলোকে ইসলাম জঘন্য ও মারাত্মক পাপ বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের জবান নিয়ন্ত্রণ করার তাওফিক দান করুন।

 

মন্তব্য