kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

কেমন আছে বুলগেরিয়ার মুসলমানরা

আবরার আবদুল্লাহ   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেমন আছে বুলগেরিয়ার মুসলমানরা

ইউরোপের বলকান অঞ্চলের পাহাড়, নদী ও সাগরঘেরা দেশ বুলগেরিয়া। রোমানিয়া, সার্বিয়া, মেসিডোনিয়া ও তুরস্কের প্রতিবেশী এই দেশে বাস করে ছয় লক্ষাধিক মুসলিম—যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে মুসলিম জনসংখ্যার হার ক্রমবর্ধমান। মুসলিমদের বেশির ভাগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে। তুরস্কের উসমানীয় শাসকরা পাঁচ শ বছরেরও বেশি সময় বুলগেরিয়া শাসন করেন।

 

বুলগেরিয়ায় ইসলাম ও মুসলিম শাসন

বুলগেরিয়ায় মুসলমানের আগমন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। নবম শতকে বরিস অব বুলগেরিয়াকে লেখা পোপ নিকোলাসের এক চিঠিতে মুসলমানের বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে ধারণা করা হয় তার আগেই বুলগেরিয়ায় পৌঁছেছিল ইসলাম প্রচারকদের দল। পরবর্তী সময়ে তুরস্কের উসমানীয় খলিফা সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন হলে বুলগেরিয়ায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হয়। ১৩৬২ সালে সুলতান প্রথম মুরাদ বাইজান্টাইন সম্রাটের কাছ থেকে বুলগেরিয়ার আড্রিয়ানোপল জয় করেন। ১৩৮২ সালে রাজধানী সোফিয়া উসমানীয়দের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রায় পুরো বুলগেরিয়া উসমানীয়দের শাসনাধীন হয়। ১৩৯৬ সালে ‘ব্যাটল অব নিকোপলিস’-এর মাধ্যমে ভিডিনের পতন হয়। ১৪৫৩ সালে সর্বশেষ বুলগেরীয় ভূখণ্ড মুসলিমদের শাসনাধীন হয়।

রুশ-তুর্কি যুদ্ধ এবং ১৮৭৮ সালের বার্লিন চুক্তির মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় মুসলিম শাসনের অবসানের সূচনা হয়। ১৯৮৪ সালে বুলগেরিয়ায় কমিউনিস্টদের উত্থান হলে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে। মুসলিমদের বুলগেরীয় নাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়। ১৯৮৯ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখ তুর্কি মুসলিম বুলগেরিয়া ত্যাগে বাধ্য হয়। কমিউনিস্ট শাসন আমলে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। জিবকভ শাসনব্যবস্থার অবসানের পর মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভ করে। তখন বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদ-মাদরাসা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

 

বুলগেরিয়ায় কেমন আছে মুসলিমরা

বুলগেরিয়ায় মুসলিমরা কমিউনিস্ট আমলের তুলনায় বেশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করছে।  ১৯৮০ সালে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠার আগে বুলগেরিয়ায় দুই হাজার ৩৫৬টি মসজিদ ছিল। কমে যা এক হাজার ২৬০টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব মসজিদের মধ্যে চার শতাধিক তুর্কি আমলে তৈরি। ফলে সংস্কারের অভাবে তা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার ঐতিহাসিক কিছু মসজিদ সরকারি সম্পত্তি হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বুলগেরীয় মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনের নেতৃত্ব দেয় ‘সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল অব বুলগেরিয়া’, যার সদস্য ৩০ জন। সুপ্রিম কাউন্সিল হজ ও ইসলামী শিক্ষাসহ মুসলিম জীবনের ২০টি বিষয় তত্ত্বাবধান করে। এ ছাড়া তাদের আছে ২১ জন আঞ্চলিক মুফতি—যাঁরা বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। বুলগেরিয়ার বর্তমান প্রধান মুফতি মোস্তফা হাদজি। তিনি ২০১৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ বুলগেরিয়ার পার্লামেন্ট জনসমাগমের স্থানে বোরকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিকাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সূত্র : উইকিপিডিয়া

আলজাজিরা ও ইসলাম হিস্ট্রি

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা