kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ইসলামের বিধান

ঘ্রাণে রঙে জাফরান

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘ্রাণে রঙে জাফরান

বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান। এর ইংরেজি নাম স্যাফরন। বৈজ্ঞানিক নাম ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus)। অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় জাফরানকে বাণিজ্যিক অঙ্গনে বলা হয় লাল সোনা (red gold) ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে জাফরান বেশি জন্মে। বাণিজ্যিকভাবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জাফরান উৎপাদন হয় স্পেনে। এ ছাড়াও গ্রিস, ইতালি, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, ইরান ও চীনে জাফরান চাষ হয়। বিশ্বে ইরানি জাফরানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে।

বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রংপুর, খুলনা ও বান্দরবানে কিছু এলাকায় জাফরান চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে।

জাফরান ফুল দেখতে সুন্দর। আকর্ষণীয় এর সুগন্ধি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এর ফুল হয় অথচ বীজ হয় না। জাফরান থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান মসলা উৎপাদন করা হয়। এই মসলার নামও জাফরান।

এক কেজি জাফরানের দাম চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। জাফরানের এত মূল্য হওয়ার পেছনে রয়েছে এর উৎপাদন প্রণালী আর দুষ্প্রাপ্যতা। জাফরান চাষে প্রচুর জমি আর শ্রম দরকার হয়। তাই এর উৎপাদন খরচ বেশি।

আধুনিক বিশ্বে জাফরানের বহুমুখী ব্যবহার দেখা যায়। জাফরান স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও অন্য অনেক শারীরিক সমস্যা নির্মূলে ওষুধ হিসেবে কাজ করে থাকে।

ভিটামিন এ, বি, সি, জিংক, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায় জাফরান থেকে। খাবারে চমৎকার ফ্লেভার যোগ করে জাফরান। ত্বকের যত্নেও এটি অনন্য। রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয় জাফরান।

জাফরান স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এক চিমটি জাফরান দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে হরমোন উদ্দীপিত হয়। ঠাণ্ডা লাগা ও জ্বরের হাত থেকে বাঁচায় জাফরান।

আধুনিক দুনিয়ায় খাবারের সঙ্গে, দুধের সঙ্গে জাফরান খাওয়ার কথা শোনা যায়। এমনকি আরববিশ্বে কফির সঙ্গে জাফরান খাওয়ার প্রচলন আছে। ইসলামে জাফরান খাওয়া নিষিদ্ধ নয়। ইবনে কুদামা (রহ.) আল-মুগনি নামক কিতাবে লিখেছেন, চার মাজহাব মতে, রান্না করে জাফরান খাওয়া বৈধ। ইহরাম অবস্থায় রান্নাকৃত জাফরান খেলে হজ ও ওমরাহ ভাঙবে না। (ইসলাম ওয়েব ডটনেট)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে জাফরানের বেশি ব্যবহার ছিল পোশাকের ক্ষেত্রে। ইসলাম পুরুষের জন্য জাফরান রঙের পোশাক নিষিদ্ধ করেছে। তবে নারীদের জন্য তা নিষিদ্ধ নয়। আনাস (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) পুরুষদের জাফরানি রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৪৬)

ইহরাম অবস্থায় জাফরান রঙের পোশাক পরা নিষিদ্ধ। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইহরামকারী যেন ওয়ারস ঘাসের কিংবা জাফরানের রং দ্বারা রাঙানো কাপড় না পরে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৮৪৭)

আর আতর ও সুগন্ধি বিষয়ে ইসলামের মূলনীতির আলোকে ইসলামী আইনবিদরা বলেছেন যে সুগন্ধি হিসেবে জাফরান ব্যবহার করা পুরুষের জন্য বৈধ। (https://bit.ly/2D50JNP)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা