kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

লবণ আসে আল্লাহর দেওয়া নিয়মে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লবণ আসে আল্লাহর দেওয়া নিয়মে

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর দুনিয়ার সব কিছু সৃষ্টি করেছেন মানুষের জন্য। মানুষের প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তিনি পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন। যার মধ্যে অন্যতম একটি জিনিস হলো লবণ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর সাগর দুটি একরূপ নয়। একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অন্যটির পানি লোনা, খর। আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ করো অলংকার, যা তোমরা পরিধান করো। আর তোমরা দেখো তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পারো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১২)

আমরা খাওয়ার জন্য যে লবণ ব্যবহার করি তার বেশির ভাগই আসে সমুদ্রের লবণ থেকে। সমুদ্র থেকে যে লবণ আনা হয় তা একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধন করা হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের লোনা পানি জমা করে রাখা হয় বড় বড় জমিতে। এরপর সেই জমির চারপাশ বাঁধ দিয়ে পানি আটকে ফেলা হয়। এরপর সূর্যের আলোতে সেই পানি বাষ্প হয়ে গেলে তার নিচে লবণ পড়ে থাকে। পরে আবার সেই লবণ পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রয় করা হয়। ইংরেজিতে একে টেবিল সল্টও বলা হয়। আজ আমরা যে সালাদ খাই সে শব্দটিও এসেছে সল্ট থেকে সল্টেড হয়ে। প্রাচীন রোমে সৈন্যদের বেতন দেওয়া হতো এই লবণ দিয়ে। ইংরেজিতে ‘সোলজার’ মানে হলো সৈন্য আর সেলারি মানে বেতন। এই দুটি শব্দ এসেছে ‘সল্ট’ থেকে।

আয়েশা (রা.) গোশত সংরক্ষণের জন্য লবণ ব্যবহার করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৫৭০)

জীবনের জন্য লবণের গুরুত্ব অপরিসীম। লবণে আছে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম। সোডিয়াম শরীরের জন্য দরকারি ইলেকট্রোলাইট। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ইলেকট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম অপরিশোধিত লবণে পাওয়া যায়। তবে তা গ্রহণ করতে হবে পরিমিত। শরীরে লবণ বেড়ে যাওয়া বা লবণের পরিমাণ কমে যাওয়া দুটিই দেহের জন্য বিপজ্জনক। তাই লবণের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার ব্যাপারটি বেশ সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত তা বলাই বাহুল্য।

হাজার হাজার বছর ধরে লবণ যে শুধু রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে তা কিন্তু নয়। কোনো কোনো ধর্মেও লবণের রয়েছে আলাদা মর্যাদা। জাপানের শিন্টোরায় যেকোনো মানুষ বা স্থানকে পরিশুদ্ধ করতে লবণ ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

লবণ নিয়ে রীতিমতো একটা আন্দোলন হয়েছিল, যেটিকে লবণ আইন অভিযান বা লবণ সত্যাগ্রহ বলা হয়। ইংরেজিতে একে সল্ট মার্চ বলে অভিহিত করা হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই আন্দোলনের বিশেষ মর্যাদা ছিল। লবণের ওপর ব্রিটিশ সরকার যে কর আরোপ করে তারই প্রতিবাদে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ মানুষ সেদিন সেই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিল।

মহান আল্লাহর এই নিয়ামত পরিমিত ব্যবহারে যেমন খাবার সুস্বাদ করে, তেমনি বিভিন্ন ভাইরাস দমনে এটি ওষুধ হিসেবে কাজ করে। রাসুল (সা.) নিজেও ওষুধ হিসেবে লবণ ব্যবহার করেছেন। একবার রাসুল (সা.)-কে নামাজরত অবস্থায় বিচ্ছু কামড় দিলে তিনি কিছু লবণ ও পানি চেয়ে নিলেন এবং তা একটি পাত্রে মেশালেন, অতঃপর অঙ্গুলির দংশিত স্থানে পানি ঢালতে এবং ওই স্থান মুছতে লাগলেন এবং সুরা ফালাক ও নাস দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন। (মিশকাত, হাদিস : ৪৫৬৭)

বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ডাক্তাররা লবণপানিতে গার্গল করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর কোটি কোটি নিয়ামত দিয়ে আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ। যেগুলো নিয়ে চিন্তা করলে মুমিনের ঈমান আরো দৃঢ় হয়ে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা