kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

জানতে চাই

ফরজ নামাজ ছেড়ে দিতে হলে

মাহমুদা ইসলাম, সাভার, ঢাকা   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফরজ নামাজ ছেড়ে দিতে হলে

প্রশ্ন : আমার বাচ্চাদের বয়স যথাক্রমে দুই ও সাড়ে চার বছর। আমি নামাজে দাঁড়ানোর পর অনেক সময় তারা প্রচণ্ড কান্না শুরু করে, কখনো কাচের জিনিসপত্রে হাত দেয়, ভারী জিনিসপত্র নিয়ে টানাটানি করে আবার কখনো আমার স্বামী বাহির থেকে এসে দরজায় বেল বাজাতে থাকে—যাতে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে কি আমি ফরজ নামাজ ছেড়ে দিতে পারি? আর কখন কখন নামাজ ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ রয়েছে?

 

উত্তর : হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তাকবিরে তাহরিমা বলার পর নফল নামাজও ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং নামাজ ফরজ হোক বা নফল সর্বাবস্থায় ছেড়ে না দেওয়াই উত্তম। তবে প্রয়োজনে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ ইসলামী শরিয়তে রয়েছে। নিজের বা অন্যের আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক আর বিশেষ প্রয়োজনে তা ছেড়ে দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে। তবে নামাজ পুনরায় নতুন করে আদায় করতে হবে।

 

যেসব কারণে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব

১. জীবন বিপন্ন হলে : মুসল্লির নিজের বা অন্যের জীবন হুমকির মুখে পড়লে নামাজ ছেড়ে দেওয়া ওয়াজিব। যেমন—কোনো ব্যক্তি পানিতে বা আগুনে পড়ে গেলে এবং অন্য কোনো সাহায্যকারী না থাকলে, মুসল্লির গায়ে কোনো বিষাক্ত প্রাণী উঠলে, কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নামাজের স্থানে হামলা করলে।

২. ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা করলে : মুসল্লি যখন কোনো অন্ধ, শিশু বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিপদে পড়ার প্রবল আশঙ্কা করবে, তখন নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে। যেমন—শিশুর পানির কূপে বা ট্যাংকে পড়ে যাওয়ার, ঘরের কোথাও আগুন ধরার, পশুপালে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের প্রবল ধারণা হলে।

প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে করণীয় হলো, সন্তানদের সামলানোর জন্য বা দরজা খোলার জন্য অন্য কাউকে প্রস্তুত রাখা। যদি সহযোগিতা করার মতো কেউ না থাকে তবে এমন পরিস্থিতিতে সম্ভব হলে নামাজ ছেড়ে না দিয়ে দ্রুত তা শেষ করা। তবে যদি সন্তান বা সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে। আর দরজা খোলার জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করার সুযোগ থাকলেও তা ছেড়ে দেওয়া বৈধ হবে না।

 

যখন নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে

ঘরে চোর ঢুকলে : নামাজে দাঁড়ানোর পর যদি ঘরে চোর ঢোকে এবং চুরি করার মতো পণ্যের মূল্য একটি রৌপ্যমুদ্রা বা তার চেয়ে বেশি হয়, তা হলে ফরজ নামাজও ছেড়ে দেওয়া যাবে।

সন্তানের ব্যাপারে ভয় হলে : মা যদি সন্তানের অঙ্গহানি বা তার পথ হারিয়ে ফেলার ভয় করে, তাহলে নামাজ বিলম্বিত করা এবং নামাজে থাকলে তা ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ আছে।

খাবার পুড়ে নষ্ট হওয়ার ভয় হলে : যদি চুলায় খাবার থাকে এবং তা পুড়ে নষ্ট হওয়ার বা উথলিয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় হয় তবে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ আছে।

পথিক ডাকাতের হাতে পড়ার ভয় করলে : নামাজে দাঁড়ানোর পর পথিক যদি ডাকাত বা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার ভয় করে তবে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে।

বিষাক্ত প্রাণী ধেয়ে এলে : নামাজির দিকে বিষাক্ত প্রাণী ধেয়ে এলে বা ঘরে গবাদি পশু ঢুকে পড়লে নামাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের প্রতিহত করা যাবে।

প্রাকৃতিক প্রয়োজনে : প্রস্রাব বা পায়খানার প্রবল চাপ তৈরি হলে মুসল্লি নামাজ ছেড়ে প্রয়োজন পূরণ করবে।

♦ নফল নামাজে থাকা অবস্থায় মা-বাবা ডাকলে : নফল নামাজে থাকা অবস্থায় মা-বাবা ডাকলে নামাজ ছেড়ে তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে। তবে তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ফরজ নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। (আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু : ২/২২০; হাশিয়াতুত-তাহতাভি আলা মারাকিল ফালাহ : ১/২৪৯)

মন্তব্য