kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ন্যাদারল্যান্ডসে ইসলামী শিক্ষায় সাফল্য

ড. ইকবাল কবীর মোহন   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের অপূর্ব সুন্দর দেশ ন্যাদারল্যান্ডস। এটি হল্যান্ড নামেও বিশেষভাবে পরিচিত। অসংখ্য খাল (প্রণালি), দৃষ্টিনন্দন টিউলিপ আর বায়ুকলের জন্য দেশটির রয়েছে আলাদা পরিচয়। ন্যাদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম। এর দাপ্তরিক ভাষা ডাচ্ হলেও ইংরেজিসহ অন্য কিছু ভাষায়ও মানুষ কথা বলে। দেশটি উত্তর-পশ্চিমে নর্থ সি, পূর্বে জার্মানি এবং দক্ষিণে বেলজিয়াম দ্বারা বেষ্টিত। ন্যাদারল্যান্ডসের আয়তন মাত্র ১৩ হাজার ১৪৩ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা এক কোটি ৭৩ লাখ (২০১৯)। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে দেশটির ২৩.৭ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক, ১৫.৫ শতাংশ প্রোটেস্ট্যান্ট, ৪.৯ শতাংশ মুসলিম এবং বাকিদের বেশির ভাগই কোনো ধর্মের অনুসারী নয়। সংখ্যায় কম হলেও মুসলমানরা ন্যাদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। দেশটিতে বেশ কয়েক শতক আগেই ইসলামের আগমন ঘটেছে। মুসলমানদের বেশির ভাগই তুরস্ক ও মরক্কোর সুন্নি অধিবাসী। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ থেকে সেখানে মুসলমানদের আগমন ঘটে। ব্যবসা-বাণিজ্য, লেখাপড়া বা চাকরির সূত্রে আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, সোমালিয়া, বলকান অঞ্চল এবং সিরিয়া থেকে অনেক মুসলমান ন্যাদারল্যান্ডসে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তা ছাড়া স্থানীয় ডাচেদর অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম পরিচিতি গ্রহণ করেছে। তারা অবশ্য খুব ক্ষুদ্র অংশ। ন্যাদারল্যান্ডসে ইসলামী বিধান পালনের ক্ষেত্রে মুসলমানরা অন্য অমুসলিম দেশের মতোই নানা ধরনের বাধা ও বৈষম্যের শিকার। ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশের মতো সেখানে নারীদের বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সেখানে মুসলিম নারীদের হিজাব পরার অনুমতি আছে। 

সম্প্রতি ন্যাদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠান ‘ডাচ্ কম্পানি আরটিএল’  সেখানকার মুসলিম শিক্ষার ওপর একটি গবেষণা জরিপ চালিয়েছে। রিপোর্ট মতে দেখা যায়, ন্যাদারল্যান্ডসে অনেক ইসলামী প্রাইমারি স্কুল আছে। জরিপে বলা হয়েছে, এসব স্কুল দেশের অগ্রসর স্কুলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্কুলে দেশের কারিকুলামের বাইরেও ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। বিশেষ করে ইসলামী জীবনচর্চার মৌলিক বিষয় যেমন—ঈমান, আদব-কায়দা ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যাবহারিক বিধানগুলো শিক্ষা দেওয়া হয়। তা ছাড়া সমাজে মিলেমিশে থাকার বিষয়গুলোও শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সহনশীল আচরণ করা এবং যেকোনো উগ্রতা পরিহার করার প্রতি বিশেষ ধারণা দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের জরিপ থেকে আরো বেশ চমৎকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংস্থাটি ইসলামী প্রাইমারি স্কুলগুলোর নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার ক্ষেত্রে একাগ্রতা এবং দক্ষ পরিচালনার বিষয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে। শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ, যত্ন এবং শিক্ষার মান নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি সন্তোষ প্রকাশ করে।

 

ইসলামী স্কুলগুলোর উচ্চ স্তর লাভ

‘ডাচ্ কম্পানি আরটিএল’, ‘ডাচ্ মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন, কালচার অ্যান্ড সায়েন্স’-এর অধীনে পরিচালিত দেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোর ‘বার্ষিক’ ফলাফলের ওপর গত বছর একটি জরিপ চালিয়েছে। জরিপে ইসলামী প্রাইমারি স্কুলগুলোর ফলাফলের একটি অভূতপূর্ব চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, দেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত লিরডাম শহরের ‘ইসলামী বুখারি প্রাইমারি’ স্কুল দেশের ছয় হাজার স্কুলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। ন্যাদারল্যান্ডসের দক্ষিণের শহর মাসট্রিচটে অবস্থিত ‘আল-হাবিব’ স্কুল অধিকার করেছে নবম স্থান। আর দেশের মধ্যাঞ্চলের শহর আমারসফোর্ট এলাকার ‘বিলাল’ স্কুলের অবস্থান ছিল দশম। তা ছাড়া আরো অনেক ইসলামী প্রাইমারি স্কুলের অবস্থান ছিল ওপরের দিকে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসলামী প্রাইমারি স্কুলগুলো সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর এগুলোর প্রতি সবার মনোযোগও অনেক বেড়েছে।

 

ন্যাদারল্যান্ডসে ইসলামী স্কুল

ন্যাদারল্যান্ডসে ইসলামী স্কুলগুলোর সংস্থার প্রধান কুকহান চোপিন বলেন, ‘ইসলামী স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা দেশের প্রচলিত ধারার শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ এবং জীবনধারা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ন্যাদারল্যান্ডসে প্রথম ইসলামী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ৩০ বছর আগে। ইসলামী স্কুলের ব্যাপক চাহিদা এবং শিক্ষার উন্নত মানের কারণে এখন দেশে অনেক ইসলামী স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এসব স্কুল প্রতিষ্ঠার কারণে এখানকার শিক্ষার্থীরা ন্যাদারল্যান্ডস সমাজে সহনশীলভাবে বসবাস করার শিক্ষা লাভ করতে পারছে। তার মতে, বর্তমানে ন্যাদারল্যান্ডসে ৫৩টি স্কুল আছে এবং এগুলোর মোট শিক্ষার্থীসংখ্যা ১২ হাজার ৫০০। এসব স্কুল ‘ডাচ্ মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন, কালচার অ্যান্ড সায়েন্স’-এর নীতিমালা এবং পাঠ্যক্রম মেনে চলছে। তিনি এসব স্কুলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক ও সাবেক ডিএমডি

ইসলামী ব্যাংক

[email protected]   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা