kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

কৃতজ্ঞ মুমিনরা আল্লাহর প্রিয়

মুফতি আবদুল্লাহ আল ফুআদ   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃতজ্ঞ মুমিনরা আল্লাহর প্রিয়

সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি শোকর বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মুমিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অত্যন্ত উঁচু ও মহৎ এই গুণ সবাই অর্জন করতে পারে না। খুব কম মানুষই আছে যারা আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল হয়। এ জন্যই পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমার বান্দাগণের মধ্যে অল্প লোকই কৃতজ্ঞতা আদায় করে।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ১৩)

কৃতজ্ঞ বান্দা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আর শয়তান কোনোভাবেই চায় না মানুষ আল্লাহর প্রিয় হয়ে উঠুক। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে চেষ্টা সাধন করুক। তাই মানুষকে অকৃতজ্ঞ বানাতে সে সবসময় মরিয়া থাকে। মানুষ সৃষ্টির শুরুতেই এ মানুষকে নিন্দা করে শয়তান আল্লাহকে বলেছিল, ‘তাদের (মানুষের) অধিকাংশকেই তুমি কৃতজ্ঞ পাবে না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ১৭)

শয়তান কোনো খাঁটি মুমিনকে সহজে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ করতে পারবে না। কারণ একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন মাত্রই এ বিশ্বাস দৃঢ়ভাবে অন্তরে লালন করে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সব কিছুই হয়। ভালো-মন্দ, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, সুখ-দুঃখ সব কিছুর নিয়ন্ত্রক মহান আল্লাহ।

কৃতজ্ঞতা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুমিনের অনন্য এ কল্যাণকর বৈশিষ্ট্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘ঈমানদারের জীবনাচার কত আশ্চর্য ধরনের! তার সব কিছুই কল্যাণকর। এটা শুধু ঈমানদারের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সচ্ছলতায় সে কৃতজ্ঞতা আদায় করে। সেটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তার ওপর কোনো বিপদ নেমে আসে, তাহলে সে ধৈর্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)

আল্লাহর জিকির ও অন্যান্য ইবাদতের মতো কৃতজ্ঞতাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার হজরত মুআজ (রা.)-কে বলেছেন, ‘হে মুআজ! আমি তোমাকে বলছি, কখনো নামাজের পরে এ দোয়া পড়তে ভুল কোরো না, হে আল্লাহ! আপনার স্মরণ, আপনার কৃতজ্ঞতা আদায় ও সুন্দর করে আপনার ইবাদত করতে আপনি আমাকে সাহায্য করুন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২৪)

মহান আল্লাহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীর জন্য যেমনি তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধি করে দেন, আবার যারা অকৃতজ্ঞ তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের পরিমাণ হ্রাস করার পাশাপাশি কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদের (আমার নিয়ামত) আরো বাড়িয়ে দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে (জেনে রেখো) আমার শাস্তি কঠোরতম।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

এ কারণেই প্রতিটি মুমিনের জন্য সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত। আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অন্যতম মাধ্যম হলো তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করা। জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পথে পরিচালিত করা। সুখে-দুঃখে তাঁর স্মরণ থেকে উদাসীন না হয়ে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি নেক আমল করা। রাসুল (সা.) ছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে বড় কৃতজ্ঞ বান্দা। তিনি প্রায় রাতেই দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে নফল নামাজ আদায় করতেন। কখনো কখনো তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত। হজরত আয়েশা (রা.) একদিন তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, ‘আপনি এত কষ্ট করেন কেন? আল্লাহ কি আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেননি?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) জবাবে বললেন, ‘আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ (বুখারি, হাদিস : ৪৮৩৭)

আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন।

লেখক : মুদাররিস, মারকাযুত তাকওয়া

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা