kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বিদায় রমজান

জীবনের ধারাপাতে প্রাপ্ত শিক্ষা

নাজমুল হুদা   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবনের ধারাপাতে প্রাপ্ত শিক্ষা

পবিত্র রমজান মাসের মতো মহিমান্বিত একটি মাস আমাদের মধ্য হতে এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে। যে মাস ছিল আমাদের জন্য অর্জনের এবং নানা প্রাপ্তির। রমজান আসে রমজান যায়, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় প্রাপ্ত অর্জিত শিক্ষার সে ধারার কথা। রমজান বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এ মাসের উপদেশ আমাদের জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা পাঠ দিয়ে গেছে। রমজান আমাদের জীবনে ভিন্ন কিছু নয়। জীবন চলার এক রূপরেখা যেন এ মাসের রাত-দিনের প্রতিটি মুহূর্ত। বলা চলে, রমজান আমাদের জীবনের পরতে পরতে কার্যকরী নানা উপদেশ দিয়ে রেখেছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 

প্রতিটি কষ্টের পরই রয়েছে স্বস্তি

রোজাদার সারা দিন খাবার ও পানাহার হতে বিরত থাকে। নানা কাজ ও ঘাম-শ্রমে অতিবাহিত করে পুরো দিন। কিন্তু সন্ধা ঘনিয়ে যখন আজানের ধ্বনিতে ইফতার মুখে দেয়, সব কিছুর যেন অবসান ঘটে। তাই আমরা ইফতারের পর বলি, ‘জাহাবাজ-জমাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ। অর্থাৎ, পিপাসা দূরীভূত হলো, শিরা-উপশিরাগুলো শীতল হলো এবং আল্লাহ চাহে তো প্রতিদান সাব্যস্ত হয়েছে। অন্যত্র আল্লাহর ইরশাদ এসেছে, ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত : ৫)

 

ধৈর্যের মহান পাঠ গ্রহণ

এক কথায় যদি বলি, তাহলে বলব রমজান হলো ধৈর্যের শিক্ষালয়। যেকোনো সাফল্য ও উন্নতির মূলে হলো ধৈর্য। বিজয়মাল্য কিন্তু ধৈর্যের ফুল দিয়ে গাঁথা। তাই সংযম হতে শুরু করে জীবনের নানা অঙ্গনে এর পরিচয় দেওয়ায় মুমিনের জন্য রয়েছে শুভ বার্তা। আল্লাহর ইরশাদ, ‘যারা সবরকারী তারাই তাদের পুরস্কার পায় অগণিত।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ১০)

 

দাসত্বকে শুধু আল্লাহর জন্য সাব্যস্তকরণ

দেখুন, রমজানজুড়ে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার গ্রহণ করেছি। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সাহরি থেকে হাত উঠিয়ে নিয়েছি। এসবের মধ্য দিয়ে বান্দা আল্লাহর হুকুমের প্রতি সমর্পিত হয়ে তাঁর নৈকট্য লাভ করে। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ, ‘তাদেরকে এ ছাড়া কোনো নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’ (সুরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত : ৫)

 

কোরআনের সঙ্গে সুগভীর সম্পর্ক স্থাপন

পুরো রমজান মাসে কোরআনের সঙ্গে কমবেশি আমাদের সময়গুলো কেটেছে। নামাজে এবং নামাজের বাইরে। সেসবকে পুঁজি করে রমজানের বাইরেও এ কোরআন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার শিক্ষা আমরা রমজান থেকেই লাভ করি।

 

অসহায় অভুক্তদের প্রতি সদয় হওয়ার প্রেরণা

দেখুন না, আমাদের নাগালে নানা রকমের খাবার থাকা সত্ত্বেও আমরা তা হতে বিরত থেকেই রোজা রেখেছি। এই যে দিনের বেলা উদরকে খালি রাখা। এতে করে আমরা আমাদের আশপাশের অনাহারি মানুষদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হওয়ার এক মহান শিক্ষা লাভ করি। সামাজিকভাবে আমাদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে। নবীজির একে অপরকে ইফতার করানোর উৎসাহ দানের প্রেরণা রমজান বয়ে পরবর্তী জীবনে কাজে লাগানোই হলো এ মাসের যথার্থ শিক্ষা।

 

শৃঙ্খলা বিন্যস্ততার শিক্ষা

এ রমজানে আমরা সময়ের সঙ্গে নিজেদের মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে রুটিনমাফিক নানা কার্যাবলি সম্পাদনের চেষ্টায় ছিলাম। একজন মুমিনের গুণাবলির অন্যতম একটি হলো, বিশেষ কোনো ওজর না থাকলে সুশৃঙ্খলতার সঙ্গে সময়ের কাজ সময়ে সম্পাদন করা। রমজান হোক কিংবা রমজানের বাইরে হোক, মুমিন সব সময় সচেতন হয়। আল্লাহ তাআলা কোরআনে মুমিনের বৈশিষ্ট্য এভাবে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মুসলমানদের জন্য ফরজ’। (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)

 

রাতের নামাজ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হওয়ার সুযোগ

নিজের মাঝে আমূল পরিবর্তনের ইচ্ছা পোষণে তাহাজ্জুদের বিকল্প নেই। জান্নাত লাভের প্রত্যাশী ব্যক্তি রাতের একটি অংশকে নিমগ্নচিত্তে আল্লাহর তরে কাটিয়ে দেওয়ার শিক্ষা রমজানে লাভ করে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফরজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ তথা তাহাজ্জুদ।’ (মুসলিম, হাদিস : ২০২)

 

 

নৈতিকতার ভিত তৈরিতে জবানের হেফাজত

রমজানে আমাদের সংযত হওয়ার শিক্ষা দেয়। নিজেদের নানা বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে রোজা আমাদের জন্য একে মহৌষধতুল্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে তখন সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে এবং হৈচৈ না করে। আর যদি কেউ তাকে গালি দেয়, তাহলে সে যেন বলে আমি রোজাদার।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা