kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

কিভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেব

মুফতি তাজুল ইসলাম   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইহকালীন ও পরকালীন যেকোনো কাজেরই প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রস্তুতি ছাড়া কোনো কাজ করলে তাতে সফল হওয়া যায় না। পবিত্র মাহে রমজানের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাসে যথাযথভাবে আমল করার জন্য প্রাক-প্রস্তুতির বিকল্প নেই। নিম্নে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি : বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রে বিশেষ ইবাদতের দিনগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা থাকে। কখনো সেখানে জননিরাপত্তামূলক নানা আইন-কানুন জারি করা হয়, আবার কখনো উদ্যাপনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার শবেবরাত এমন সময় সমাগত, যখন গোটা পৃথিবী করোনাভাইরাসের করালগ্রাসে বিধ্বস্ত। এর মধ্যেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মসজিদের নামাজ আদায়ে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশে শবেবরাতের ইবাদত ঘরে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক প্রস্তুতি : সামাজিকভাবে রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া যায়। সমাজের লোকজন একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে রমজানের বিভিন্ন ফজিলত ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে পারে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ মাস আসার আগেই সামাজিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, যেন সমাজ ইসলামবান্ধব হয়ে ওঠে।

বর্তমানে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আমরা সামাজিকভাবে একে অন্যকে রমজান বিষয়ে সচেতন করতে পারি।

পারিবারিক প্রস্তুতি : পারিবারিক পরিমণ্ডলে রমজানের প্রস্তুতির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনের দিনগুলোতে প্রতিদিন রমজান বিষয়ে কিছু সময় ঘরোয়া তালিম হতে পারে। এ ব্যাপারে পিতা-মাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পরিবারে এমন একটি রুটিন করে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে কাজের কারণে ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে। একটি মুহূর্তও নফল ইবাদত, তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকিরমুক্ত না হয়। হাতের কাছে রমজান বিষয়ে বই রাখলে বিষয়টি সহজতর হয়।

গৃহিণীর প্রস্তুতি : সংসারের কাজের কারণে যেন গৃহিণী রমজানের ফজিলত ও বরকত থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে সংসারের কাজ কিছুটা কমিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করা যায়। কিছুতেই যেন ফরজ নামাজ, তারাবি ছুটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা।

প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন : প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া। প্রয়োজনে রমজানের আগেই এ বিষয়ে কিছু পুস্তক কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তা পড়তে পারে। ইতিকাফ করতে আগ্রহীরা ইতিকাফের জন্য প্রস্তুতি নেবেন আগে থেকেই।

ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি : রমজানকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। চাল, ডাল, ছোলা, চিনি, ভোজ্য তেল, খেজুর ইত্যাদির দাম হয় গগনচুম্বী। কিন্তু এ মাসে তাঁদের মনোভাব বদলানো দরকার। কেননা সত্ভাবে ব্যবসা করলে দুনিয়ায় রিজিকে বরকত পাওয়ার পাশাপাশি হাশরের ময়দানেও পুরস্কৃত হবে। তাঁর হাশর হবে নবীদের সঙ্গে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে হাশর হবে।’ (তিরমিজি : ৩/৫১৫)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা