kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তাআলার চার জিজ্ঞাসা

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তাআলার চার জিজ্ঞাসা

আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সব সৃষ্টির ওপর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দিয়েছি।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৭০)

বিশেষ করে শারীরিক গঠন ও জ্ঞানবুদ্ধিতে সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। কিন্তু মানবজাতি এতই অকৃতজ্ঞ যে তারা তাদের প্রকৃত মালিকের ব্যাপারে উদাসীন ও নির্ভয়। তাই আল্লাহ দুটি সুরার চারটি আয়াতে তাদের প্রশ্ন করেছেন, কোন জিনিস তাদের নির্ভয়, চিন্তামুক্ত ও উদাসীন করল। প্রশ্নগুলো হলো—

১. তোমরা কি এ ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে গেছ যে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের মাটির মধ্যে ধসিয়ে দেবেন এবং অকস্মাৎ ভূপৃষ্ঠে জোরে ঝাঁকুনি খেতে থাকবে? (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৬)

অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করা কর্তব্য, নির্ভয় হওয়া উচিত নয়। কারণ, তিনি ইচ্ছা করলে মানুষগুলোকে মাটির মধ্যে ধসিয়ে দিতে সক্ষম।

২. যিনি আকাশে আছেন তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী বাতাস পাঠাবেন, এ ব্যাপারেও কি তোমরা নির্ভয় হয়ে গিয়েছ? তখন জানতে পারবে, আমার সাবধানবাণী কেমন! (সুরা : মুলক, আয়াত : ১৭)

৩. তোমরা কী এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত রয়েছ যে তিনি তোমাদের স্থলভাগে কোথাও ভূগর্ভস্থ করবেন না? অথবা তোমাদের ওপর প্রস্তর বর্ষণকারী ঘূর্ণিঝড় প্রেরণ করবেন না? (যদি তিনি তা করেন) তখন তোমরা নিজেদের জন্য কোনো কর্মবিধায়ক পাবে না। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৬৮)

৪. অথবা তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছ যে তিনি তোমাদের আরেকবার সমুদ্রে নিয়ে যাবেন না? অতঃপর তোমাদের জন্য তীব্র বাতাস প্রেরণ করবেন না? অতঃপর অকৃতজ্ঞতার শাস্তিস্বরূপ তোমাদের নিমজ্জিত করবেন না? তখন তোমরা আমার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে সাহায্যকারী কাউকে পাবে না। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৬৯)

বর্তমানে বিশ্বের সব মানুষ এমনকি মুসলমানরাও আল্লাহর আজাব-গজবের কথা ভুলে গেছে, তাদের প্রতি প্রদত্ত নিয়ামতের ব্যাপারে অকৃতজ্ঞ হয়েছ এবং পাপের মধ্যে ডুবে রয়েছ। তাই বর্তমানে করোনাভাইরাস, পঙ্গপাল ইত্যাদি গজব, আজাব ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আমাদের উচিত, আল্লাহকে ভয় করে সব ধরনের পাপাচার বর্জন করা। হে আল্লাহ! আমাদের  থেকে গজব উঠিয়ে নিন এবং আমাদের পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন।

লেখক : প্রধান ফকিহ, আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা