kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

হাদিসের নির্দেশনা

আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার পুরস্কার

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার পুরস্কার

আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ লাভ করেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন (জীবন বিধান) হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে খুশি মনে মেনে নিয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৬২৩)

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) ঈমান ও ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা দান করেছেন। মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। এটা তাঁর ধর্মীয় জীবনের সাফল্য ও পরিতৃপ্তি লাভের মাধ্যম। প্রকৃতার্থে তা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর দ্বিনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করবে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের ভেতর এমন লোকও আছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আত্মবিক্রয় (উৎসর্গ) করে থাকে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৭)

 

আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার অর্থ

ইমাম নববী (রহ.) আলোচ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘কোনো জিনিসের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার অর্থ তাতে তৃপ্ত হওয়া এবং তা নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করা। সুতরাং হাদিসের অর্থ হবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রত্যাশা, ইসলাম পরিপন্থী পথে চলা ও রাসুল (সা.)-এর প্রবর্তিত শরিয়ত ছেড়ে অন্য কোনো জীবন বিধানের অনুসরণ পরিত্যাগ করা। আর যে এই গুণ অর্জন করবে, সে অবশ্যই ঈমানের মিষ্টতা ও স্বাদ (ভালো কাজের তৃপ্তি) লাভ করবে।’ (শরহুন-নববী আলা মুসলিম : ২/২)

মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ, ইসলাম ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার অর্থ হলো প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তাঁদের আনুগত্য করা। তাঁদের সিদ্ধান্তের ওপর সন্তোষ প্রকাশ করা। আর আনুগত্য পূর্ণতা লাভ করে আল্লাহ বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষা নিলে ধৈর্য ধারণ, অনুগ্রহ করলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাঁর নির্ধারিত ভাগ্য, ফায়সালা, দান ও ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতি সন্তোষ প্রকাশের মাধ্যমে। মুমিন সর্বাবস্থায় ইসলামের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে এবং রীতিনীতি, শিষ্টাচার, আদর্শ, নৈতিকতা, জীবনযাপন, দুনিয়াবিমুখতা ও পরকালীন কল্যাণ লাভে সচেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যথাযথ আনুগত্য করবে।’ (মিরকাতুল মাফাতিহ : ৬/২৪৯১)

 

নবী-রাসুল সাহাবিদের বৈশিষ্ট্য

নবী-রাসুল ও সাহাবিদের একটি মৎসদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা যেমন আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন, তেমনি তাঁদের প্রতিও মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাতে সন্তুষ্ট।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১০০)। পবিত্র কোরআনে ইসমাইল (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সে তার পরিবার-পরিজনকে নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার প্রতিপালকের সন্তোষভাজন।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৫৫)

 

আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার পুরস্কার

আল্লাহ ও তাঁর দ্বিনের প্রতি সন্তুষ্ট থাকার নানাবিধ পুরস্কার কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন—

পার্থিব জীবনে প্রশান্তি লাভ : যে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ তার পার্থিব জীবনকে প্রশান্তিময় করার—যেমনটি আলোচ্য হাদিস থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ : যারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্য ও জীবন-জীবিকার প্রতি এবং তাঁর দ্বিনের অনুসরণে সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে প্রশান্ত চিত্ত! তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (সুরা : ফাজর, আয়াত : ২৭-৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন (জীবন বিধান) হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে খুশি মনে মেনে নিয়েছে, তার জন্য জান্নাত আবশ্যক হয়ে গেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮৮৪)

পরকালে মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে : আল্লাহর ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট ব্যক্তির মুখমণ্ডল পরকালে উজ্জ্বল হবে এবং তারা পার্থিব জীবনের মতো পরকালে থাকবে পরিতৃপ্ত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে আনন্দোজ্জ্বল। নিজেদের কর্ম-সাফল্যে পরিতৃপ্ত।’ (সুরা : গাশিয়া, আয়াত : ৮-৯)

আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট হবেন : যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে আল্লাহ ইহকালে ও পরকালে তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। আল্লাহ বলেন, ‘ভালো হতো যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তাদের যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট হতো এবং বলত, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আল্লাহ আমাদের দেবেন নিজ করুণায় এবং অচিরেই তাঁর রাসুলও; আমরা আল্লাহর প্রতি অনুরক্ত।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৫৯)

 

আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট না থাকার শাস্তি

যারা আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও দ্বিনের ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকবে না আল্লাহ তাদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন ফেরেশতারা তাদের মুখমণ্ডল ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের প্রাণ হরণ করবে, তখন তাদের দশা কেমন হবে! এটা এ জন্য যে তারা তা অনুসরণ করে, যাতে আল্লাহর অসন্তোষ জন্মায় এবং তার সন্তুষ্টিকে অপ্রিয় গণ্য করে; তিনি তাদের কাজ নিষ্ফল করে দেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২৭-২৮)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিসি)

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা