kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা নিয়ে ভিন্ন ভাবনা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা নিয়ে ভিন্ন ভাবনা

ইতিহাস আমাদের এই মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছে যে প্রায় প্রতিটি শতাব্দীতে মহামারি দেখা দিয়েছে। যদিও প্রতিটি মহামারির ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ভিন্ন ছিল। এবং একটা সময় এসব দুর্যোগ পেরিয়ে মানুষ ঠিকই নতুনভাবে যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু প্রতিটি মহামারি ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়ে গেছে। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) (মৃত্যু ৮৫২ হি.), তাঁর রচিত ‘বাজলুল মাউন ফি ফাদলিত তাউন’ গ্রন্থে মহামারি বিষয়ে ইবনুল ওয়ার্দি (রহ.)-এর একটি শিষ্টাচারপূর্ণ ও সরস উক্তি তুলে ধরেছেন। অবশ্য তিনিও ৭৪৯ হিজরি সনে শামের হালাবে সংঘটিত মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।

 

ইবনুল ওয়ার্দি (রহ.) বলেন, মহামারির নানাবিধ কল্যাণ রয়েছে তন্মধ্যে

১. মানুষের ভেতর যাপিত আশা হ্রাস করে।

২. আখিরাতের জন্য কৃত আমলকে আরো সুন্দর করে।

৩. অলসতা থেকে জাগিয়ে তোলে।

৪. পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহের অবারিত সুযোগ তৈরি হয়।

(সূত্র : বাজলুল মাউন ফি ফাদলিত তাউন, পৃষ্ঠা ৩৭১)

সম্পতি যে করোনাভাইরাস বিশ্বকে গ্রাস করেছে, এ থেকে মুমিনের চিন্তার জগতে এসব বিষয় দোল খায় :

১. করোনার মাধ্যমে অবিশ্বাসীদের গড়া প্রাসাদটি মুহূর্তেই ধসে পড়েছে। নাস্তিকতার মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় এখানে সীমাহীন গুরুত্বপূর্ণ। যারা জীবনে কখনো আল্লাহর দরবারে হাজিরা দেওয়ার কথা ভাবেনি, তারাও মূলে ফেরার চেষ্টা করছে। কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। তবে সামগ্রিকভাবে নাস্তিকতার মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় এখানে দর্শনীয়।

২. যারা মনে করত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ সীমাহীন অপ্রতিরোধ্য শক্তি অর্জন করেছে, তাদের মিথ্যা অহমিকা ধুলোয় মিশে গেছে। মানুষকে অবশ্যই তার অসহায়ত্ব স্বীকার করে নিতে হবে। এটাই বাস্তবতা। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু এটাকে অপ্রতিরোধ্য চিন্তা করাটা অন্যায়। কেউই আল্লাহর দেওয়া সীমারেখার বাইরে যেতে পারবে না। এই বাস্তবতা এখন পুরো বিশ্বের সামনে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

৩. নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ বিবর্জিত পুঁজিবাদী সমাজের অন্তঃসারশূন্যতাও স্পষ্ট হচ্ছে। যেই সমাজে মানুষ শুধু অর্থ উপার্জনের মেশিন, সেখানে এ ধরনের বিপদে কাউকে পাশে না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। নিজের বাসায় হাজার চিত্কার করলেও কেউ ডাকে সাড়া দেবে না। করোনার রোগী এলাকায় দাফন করতে দেবে না! করোনার রোগী হাসপাতালে রাখতে দেবে না!! এমনকি করোনার হাসপাতালও বানাতে দেবে না!!! কতটা আদর্শ বিবর্জিত মানবসমাজ আমরা তৈরি করছি, ভেবে দেখা দরকার।

৪. দুর্বল রাষ্ট্রগুলো পরাশক্তিগুলোকে ‘প্রভু’ মনে করে তাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ‘পূজা’ করে আসছে এত দিন। ফেরাউনের মতো এই পরাশক্তিগুলোকে যখন করোনার সুনামিতে ডুবতে দেখছে, তখন এসব পরাশক্তি-পূজারিদের অনুভূতি জানতে ইচ্ছা করে। এবং সেই সব লোকের অনুভূতিও জানতে মনে চায়, যারা এসব পরাশক্তির বুট লিকিংকে নিজেদের জীবনের পরম আরাধ্য বানিয়েছে।

৫. দুনিয়ার মর্যাদা আল্লাহর কাছে একটা মাছির পাখার সমানও না। দুনিয়ার যা কিছু আছে তার চেয়ে আল্লাহর কালেমা ও কালেমায় বিশ্বাসী মুমিন উত্তম। কয়েক শতাব্দী ধরে এই কালেমায় বিশ্বাসীদের হত্যা করা হচ্ছে। দেশের পর দেশ উজাড় করা হচ্ছে। জনপদের পর জনপদ খালি করা হচ্ছে। জুলুমে জুলুমে আসমান-জমিন ভরে ফেলা হয়েছে। এর প্রতিফল তো হওয়ারই ছিল। হয়তো দুনিয়ায়, নয়তো আখিরাতে। সুতরাং দুনিয়ায় কিছু প্রতিফল দেখলে বিস্ময়ের কিছু নেই!

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা