kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মানবমনে অমরত্বের আকুতি

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবমনে অমরত্বের আকুতি

অমরত্বের সাধ-সাধনা অসম্ভব। তবু সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে কেউ চলে যেতে চায় না। জীবন চলার বাঁকে বাঁকে সুখ-দুঃখের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ মানুষ ব্যাধি ও জরাগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায় ও যাচ্ছে।

মৃত্যু ছাড়া বেহেশতে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। সবাই বেহেশতে যেতে চায়, অথচ কেউ মরতে চায় না! মহান আল্লাহর নির্দেশ : ‘ওয়ালা তামুতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমুন...’ অর্থাৎ ‘প্রকৃত মুসলমান না হয়ে মরো না।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)

জীবন-মৃত্যুর মালিক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। মানুষের জন্ম যেমন জীবনের অংশ, মৃত্যুও তেমনি জীবনের বাইরের বিষয় নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন কে সৎকর্ম করে তা পরীক্ষা করার জন্য।’ (সুরা মুলক, আয়াত : ২)

মরণের অনুগামী প্রতি প্রাণও প্রত্যেকেই। পবিত্র কোরআনের বিখ্যাত বাণী : ‘কুল্লু নাফসিন যায়িকাতুল মাউত...।’ অর্থাৎ সবাইকে মরণের স্বাদ আস্বাদন করতেই হবে। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

মৃত্যুকে অস্বীকার করা যায় না, পালানোর পথও নেই। কেউ চাইলে মহান আল্লাহর সব হুকুম ও শক্তিকে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু তার পরও তাকে মৃত্যুর কোলে জীবনের তরি ভেড়াতে হবেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যে মৃত্যু হতে পালাতে চাও, তোমাদের সেই মৃত্যুর সামনে যেতেই হবে...।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ৮) 

ইতিহাসখ্যাত আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট এবং বাদশাহ সিকান্দর একই ব্যক্তি কি না, এ নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে তিনি অমরত্বের অমিয় সুধা পানে সবচেয়ে বেশি তত্পর হয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে : ‘বাদশাহ ছিল সিকান্দর

চাঁদ সুরুজে দিত কর...!’

তবে শেষ অবধি তিনি অমরত্ব লাভ করতে পারেননি। বরং তিনি কাফনের কাপড়ের বাইরে হাত বের করে রাখার অন্তিম ইচ্ছার মধ্য দিয়ে জানিয়ে গেলেন বিদায়কালে তিনি খালি হাতে পৃথিবী ত্যাগ করছেন। ‘শাহনামা’র কবি ফেরদৌসী অমর কীর্তির জন্য জীবদ্দশায় বাদশাহর প্রতিশ্রুত পুরস্কার পাননি। যখন বাদশাহ পুরস্কার পাঠালেন, তখন কবির বাড়ি সেজেছিল শবযাত্রার প্রস্তুতিতে! মহামতি প্লেটো গিয়েছিলেন এক বিয়েবাড়িতে, সহসাই বললেন ‘একটু বিশ্রাম’ নেবেন। চারদিকে বাজছে সানাই কিন্তু কোনো সুরই ভাঙাতে পারল না মহামতি প্লেটোর অনন্ত নিদ্রা!

আমাদের জন্মের আবাহনে ধ্বনিত হয় ক্ষুধা-তৃষ্ণার বন্দনা এবং যাপিত জীবনের যবনিকাপাত ঘটে সাদামাটা এক অজ্ঞাত ক্ষণে, না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে। চোখের সামনে দেখছি, সকাল সকাল মারা গেলে জুমা অথবা জোহরের সময় জানাজা শেষ। রাতে মারা গেলে পরদিন সকাল, বড়জোর বরফ দিয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা। তারপর মাটির ওপরের স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়মুখটি মাটির নিচে পাঠিয়ে দেন। কারণ, এটাই নিয়ম! কবির ভাষায় বলতে হয়—

‘মিছে মায়ার সংসার কেউ কারো নয়

পথিকে পথিক যেমন পথে পরিচয়...

টাকা-কড়ি ধন-জন সঙ্গে নাহি যাবে

একাকী এসেছ তুমি একাই চলে যেতে হবে।’

(মৈমনসিংহ গীতিকা : ‘দস্যু কেনারামে’র পালা)।

আমাদের ভাগ্যলিপির অদৃশ্য লিখনে মরণের স্থান-ক্ষণ লেখা, অথচ তা জানার উপায় নেই। আমরা জানি না কে কখন মারা যাব। তাই পরকালের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সব সময়।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ

কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, গাজীপুর।

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা