kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মিঠাপুকুর উপজেলার ফুলচৌকি মসজিদ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিঠাপুকুর উপজেলার ফুলচৌকি মসজিদ

বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার একটি প্রাচীন মসজিদ। মোগল আমলের দিকে তৈরি ছিমছাম এই মসজিদটি খুব সুন্দর। রংপুর থেকে ২৪ কিমি দক্ষিণে গড়ের মাথা নামক স্থান হয়ে পশ্চিম দিকে বিরামপুর-দিনাজপুর সড়কে শুকুরের হাট হয়ে সেখান থেকে আরো দুই কিমি পশ্চিমে ফুলচৌকি গ্রামে এর অবস্থান। ফুলচৌকি নামক স্থানে অবস্থিত বলেই সম্ভবত এই গ্রামকে কেন্দ্র  করে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে।

মসজিদ আঙিনার প্রবেশপথটি চোখে পড়ার মতো। মোটা দেয়াল ও নান্দনিক ডিজাইনে সাজানো হয়েছে। মসজিদের দেয়াল ও স্তম্ভগুলোও বেশ মোটা ও কারুকাজ করা। মসজিদটি আয়তাকার এবং প্রতিটি কোনায় গোলাকার কিউপলাযুক্ত স্তম্ভ রয়েছে। যার নিচের অংশ কলসাকৃতি। মসজিদের দেয়ালগুলোতে খোদাই করা বিভিন্ন ফুলের কারুকাজ যে কারো মনকে শীতল করে দেয়। আছে দিল্লির জামে মসজিদের মতো খোপ খোপ ডিজাইন। মসজিদের ভেতরটাও সাজানো হয়েছে নান্দনিক ডিজাইনে। মসজিদের ওপরের গম্বুজগুলো বাইরে থেকে যেমন মানুষের নজর কাড়ে তেমনি ভেতর থেকেও গম্বুজের কারুকাজগুলো মসজিদটিকে আরো দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। আছে ছোট ছোট দৃষ্টিনন্দন মিনার। মসজিদের মেহরাবটি খুব বড় না, কিন্তু মেরহাবজুড়ে শোভা পাচ্ছে ইসলামিক প্যাটার্নসংবলিত ডিজাইন। একসময় এই মসজিদে বিদ্যুৎ ছিল না। এখন সেখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের ওয়ারিং আরো যত্নসহকারে করলে মসজিদের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন থাকত। মসজিদের সামনের দিকে আছে তিনটি দরজা। মাঝখানের দরজাটি বড়, দুই পাশের দরজাগুলো তুলনামূলক ছোট। মসজিদের সামনে খোলা অঙ্গন (সাহান) অনুচ্চ প্রাচীর বা বেষ্টনী দ্বারা আবৃত। মসজিদের প্রবেশদ্বার পূর্বপাশ ঘেঁষে একটি পরিকল্পিত এলাকা, যেটি এখন কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে; যদিও সেখানে একসময় শোভা পেত স্থাপত্য সৌকর্যমণ্ডিত শোভিত ও সৌরভমুখরিত ফুল বাগান। এখন মসজিদের পাশে বড় বড় গাছ রয়েছে, যেগুলোর ছায়া মসজিদ আঙিনাকে শীতল করে রাখে।

মসজিদের পাশেই রয়েছে ইমাম সাহেবের কক্ষ। ওপরে নান্দনিক গম্বুজ, ছোট ছোট মিনার, দেয়ালে খোপ খোপ ডিজাইন। চার কোনায় গোলাকার কিউপলাযুক্ত স্তম্ভ, যার নিচের অংশ কলসাকৃতির। মূলত ইমাম সাহেবের জন্য বরাদ্দকৃত ক্ষুদ্র কক্ষটি বানানো মসজিদের ডিজাইন অনুকরণে। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে মসজিদ ও ইমাম সাহেবের কক্ষটি দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। মসজিদের ভেতরে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারগুলো মসজিদের আগত মুসল্লিদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেহেতু এটি মোগল আমলের মসজিদ, তাই এটিকে কেউ সংস্কার না করে সে অবস্থাতেই রেখে দিয়েছেন।

কিন্তু যেহেতু মোগল আমলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি শুধু রংপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের সম্পদ। তাই তা অবিলম্বে রক্ষা করা আবশ্যক। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন স্থাপনাগুলোর প্রতি সুদৃষ্টি দেবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা