kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

মহামারিতে শহীদ সাহাবি

আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রা.)

সাহাবা-চরিত

মাওলানা মুহিউদ্দীন হাতিয়ুভী   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রা.)

আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রা.) উম্মাতে মুহাম্মাদীর বিশ্বস্ত ব্যক্তি। সপ্তম পুরুষে গিয়ে রাসুল (সা.) ও তাঁর বংশ মিলিত হয়। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির একজন। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, হালকা-পাতলা গঠন ও দীর্ঘ দেহের অধিকারী। তাঁকে দেখলে যেকোনো ব্যক্তির চোখ জুড়িয়ে যেত, সাক্ষাতে অন্তরে ভক্তি ও ভালোবাসার উদয় হতো এবং হৃদয়ে নির্ভরতার ভাব সৃষ্টি হতো। তিনি ছিলেন তীক্ষ মেধাবী, অত্যন্ত বিনয়ী ও লাজুক প্রকৃতির। তবে যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে ধৈর্য-সহ্য ও দৃঢ়তা তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৬; আল-ইসতিআব : ৪/১৭১০)

 

ইসলাম গ্রহণ : আবু উবাইদা (রা.) ইসলামের প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখনো রাসুল (সা.) দারুল আরকামে অবস্থান নেননি। (আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৭/২৬৯)

আল্লামা জাহাবি (রহ.) ইয়াজিদ ইবনে রুমান সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) দারুল আরকামের প্রবেশের পূর্বে একদিন ইবনে মাজউন, উবাইদা ইবনে হারিস, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, আবু সামালা ইবনে আব্দুল আসাদ ও আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ (রা.) রাসুল (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হন। রাসুল (সা.) তাঁদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং ইসলামের সৌন্দর্যের কথা তাঁদের সামনে তুলে ধরেন। তখন তাঁরা সবাই একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করলেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/৬)

ইসলাম গ্রহণের পর অন্য মুসলমানের মতো তিনিও মক্কার মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হাবশায় হিজরতকারী দ্বিতীয় দলের সঙ্গে তিনি হাবশায় হিজরত করেন। এরপর মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে সাদ ইবনে মুআজ (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। (আসহাবে রাসূলের জীবনকথা : ১/৯০)

মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা  : আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর কাছে আবু উবাইদা (রা.)-এর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা ছিল। রাসুল (সা.)-এর পক্ষ থেকে তিনি জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছেন। এবং এ ‘উম্মতের আমানতদার’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও ছিল তাঁর বিশেষ মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা। শীর্ষস্থানীয় মর্যাদাবান সাহাবিদের কাতারে ছিল তাঁর স্থান। রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাকিফায়ে বনু সায়েদায় খলিফা নির্বাচন-শীর্ষক আলোচনাসভায় খলিফা নির্বাচনের জন্য আবু বকর (রা.) দুজনের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। একজন এই আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রা.) ও অপরজন উমার (রা.)। (আল-ইসতিআব ৪/১৭১০—১৭১১)

একদা ইয়েমেনের লোকজন রাসুল (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের সঙ্গে এমন একজন লোক দিন, যিনি আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা দান করতে পারেন। তখন রাসুল (সা.) আবু উবাইদা (রা.)-এর হাত ধরে ইরশাদ করেন, এই ব্যক্তি এ উম্মতের আমিন তথা বিশ্বস্ত ও আমানতদার। (আল-ইসতিআব ৪/১৭১১)

ইন্তেকাল : আবু উবাইদা (রা.) ১৮ হিজরি তাউনে আমওয়াস তথা—আমওয়াসের মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে সিরিয়ায় ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৮ বছর। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) তাঁর জানাজা পড়ান। মুআজ (রা.), আমর ইবনে আস (রা.) ও যাহহাক ইবনে কাইস (রা.) তাঁকে কবরে রাখেন। মুআজ (রা.) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তিনিও কিছুদিন পর প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। উল্লেখ্য, ইবনে আব্দুল বার (রহ)-এর বর্ণনামতে ওই মহামারিতে ২৬ হাজার এবং ইবনে আসিরের বর্ণনামতে, ২৫ হাজার লোক মৃত্যুবরণ করে। (আল-ইসতিআব : ৪/১৭১১; উসদুল গাবাহ ৫/২০৬)

লেখক : মুহাদ্দিস, আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া, মাইজদী, নোয়াখালী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা