kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

মহানবী (সা.)-এর অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিরোধ দিবস

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহানবী (সা.)-এর অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিরোধ দিবস

১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি শেখ মুজিবুর রহমান, এমসিএ নিম্নোক্ত বিবৃতি দিয়েছেন : “গত ২৯ জানুয়ারি ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন সম্পর্কে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে যে বিবরণী প্রকাশিত হয়েছে তা পাঠ করিয়া আমি অত্যন্ত বিস্মিত হলাম। এসব সংবাদে ২৯ জানুয়ারি ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন সম্পর্কে যথেষ্ট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রায় ১৫ দিন আগে মওলানা ভাসানী এই দিবস পালনের কথা ঘোষণা করেন এবং এই সম্পর্কে প্রস্তুতিমূলক কার্য যখন অনেকদূর অগ্রসর হয়ে গেছে, তখন কিছুসংখ্যক লোক ভারতে এক শ্রেণির সংবাদপত্র কর্তৃক হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তারিখ হিসেবে ওই দিনটিকেই বেছে নেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এইরূপ জঘন্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সম্পর্কিত এইরূপ একটি সভার প্রতি আমাদের অবশ্য পূর্ণ সমর্থন ও সহানুভূতি ছিল। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে তারিখ ও সময় নির্ধারণের ব্যাপার দেখে আমাদের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। কারণ, কিছুসংখ্যক লোক জনসাধারণের মনোভাবের সুযোগ নিয়ে আমাদের উদ্দেশ্য পণ্ড করে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে, এরূপ অভিজ্ঞতা অতীতেও আমরা লাভ করেছি।”

সূত্র : দৈনিক আজাদ, এপিপি, বৃহস্পতিবার, ১৯ মাঘ ১৩৬২, ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬

মুসলমানদের জন্য পৃথক দেশ গড়ার আন্দোলন

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা বহু আগে থেকেই চাইতেন মুসলমানদের জন্য পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হোক। বঙ্গবন্ধু তাঁর পিতা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আর একদিনের কথা, গোপালগঞ্জ শহরের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি আমার আব্বাকে বলেছিলেন, আপনার ছেলে যা আরম্ভ করেছে তাতে তার জেল খাটতে হবে। তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে, তাকে এখনই বাধা দেন। আমার আব্বা যে উত্তর করেছিলেন তা আমি নিজে শুনেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘দেশের কাজ করছে, অন্যায় তো করছে না; যদি জেল খাটতে হয়, খাটবে; তাতে আমি দুঃখ পাব না। জীবনটা নষ্ট নাও তো হতে পারে, আমি ওর কাজে বাধা দেব না। আমার মনে হয়, পাকিস্তান না আনতে পারলে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা : ২১-২২)

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল? তিনি লিখেছেন, ‘অখণ্ড ভারতে যে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকবে না, এটা আমি মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতাম। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হিন্দু নেতারা ক্ষেপে গেছেন কেন? ভারতবর্ষেও মুসলমান থাকবে এবং পাকিস্তানেও হিন্দুরা থাকবে। সবাই সমান অধিকার পাবে।’ (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-৩৬)

এ বিষয়ে লেখক মযহারুল ইসলামের পর্যবেক্ষণ হলো,  ‘বাংলার মুসলিম সমাজ পাকিস্তান আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সমর্থন জানিয়েছে আর্থিক ও সামাজিক মুক্তির তাড়নায়। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয় এ সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলার শোষিত-নির্যাতিত, উত্পীড়িত মুসলমান পাকিস্তান বলতে এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে শুধু ধর্মীয় নিরাপত্তাই থাকবে না, থাকবে আর্থিক মুক্তির ও শোষণহীন সমাজব্যবস্থার এক নতুন সম্ভাবনা। সুতরাং পাকিস্তান একমাত্র ধর্মীয় কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, এ কথা সত্য নয়।’ (মযহারুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা-৩১)

মুসলমানদের ইতিহাস পড়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির প্রেরণা

মুসলমান বীরের জাতি। যুগে যুগে তারা জালিমের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেদের অধিকার আদায় করেছে। সে ইতিহাস রপ্ত ছিল বঙ্গবন্ধুর। সেই ইতিহাস তাঁকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। এদিকে ইঙ্গিত করে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘সিপাহি বিদ্রোহ এবং ওহাবি আন্দোলনের ইতিহাসও আমার জানা ছিল।

কেমন করে ব্রিটিশরাজ মুসলমানদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল, কী করে রাতারাতি মুসলমানদের সর্বস্বান্ত করে হিন্দুদের সাহায্য করেছিল, মুসলমানরা ব্যবসা-বাণিজ্য, জমিদারি, সিপাহির চাকরি থেকে কিভাবে বিতাড়িত হলো—মুসলমানদের স্থান হিন্দুদের দ্বারা পূরণ করতে শুরু করেছিল ইংরেজরা, কেন?

মুসলমানরা কিছুদিন আগেও দেশ শাসন করেছে, তাই ইংরেজদের গ্রহণ করতে পারেনি। সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ করত। ওহাবি আন্দোলন কী করে শুরু করেছিল হাজার হাজার বাঙালি মুজাহিদ? বাংলাদেশ থেকে সব ভারতবর্ষ পায়ে হেঁটে সীমান্ত প্রদেশে গিয়ে জেহাদে শরিক হয়েছিল। তিতুমীরের জেহাদ, হাজি শরিয়তুল্লাহর ফারায়েজি আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করেই আমি পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস বলতাম।’

(অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা : ২২-২৩)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা