kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

নওমুসলিমের কথা

সন্ত্রাসী হামলা চোখ খুলে দেয় পিটারের

৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্ত্রাসী হামলা চোখ খুলে দেয় পিটারের

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ জার্মানির হানাউ শহরের একটি সিসা বারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। একজন উগ্র জাতীয়তাবাদী কর্তৃক পারিচালিত এই হামলায় আটজন নিহত হয়। হামলায় ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে যায় পিটার। এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখা এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা চোখ খুলে দেয় তার এবং ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয় সে। অ্যাবাউট ইসলামে তাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভাষান্তর করেছেন আবরার আবদুল্লাহ পিটারের মা-বাবা ক্যামেরুনের অধিবাসী ছিলেন। কিন্তু সে জার্মানির হানাউ শহরে বড় হয়েছে—যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির জন্য বিখ্যাত। এ জন্য বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে যেমন মুসলিম আছে, তেমনি অমুসলিমও আছে। তবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ছিল মুসলিম। সে তার সঙ্গে তাত্ত্বিক আলোচনা করত। তারা জীবনের অর্থ, স্রষ্টা ও পৃথিবীতে মানুষের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলত। এসব আলোচনা থেকে পিটার ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও নিয়মগুলো জানতে পারে এবং ইসলামের প্রতি তার দুর্বলতা তৈরি হয়।

সেদিন সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল পিটার। তারা একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে পছন্দ করত। কিন্তু তাদের এই সংঘবদ্ধ চলাফেরা একসময় ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে। একজন উগ্র জাতীয়তাবাদী সন্ত্রাসীর গুলিতে আটজন প্রাণ হারায়। যাদের মধ্যে কয়েকজন মুসলিমও ছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পিটার ও তার বন্ধু মুহাম্মদ বেঁচে যায়। কিন্তু ঠিক তার পাশেরজনকে মারা যায়।  ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী হামলা এবং তা থেকে বেঁচে যাওয়া পিটারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জীবন রক্ষা পাওয়া তার কাছে একটি অলৌকিক ব্যাপার এবং স্রষ্টার অনুগ্রহ বলেই মনে হলো—তিনি তাকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। সে হানাউ শহরের একটি মসজিদে গেল এবং ইমামের সামনে বসে কালেমা পাঠ করল। ইমাম নিজের হাতের ভেতর তার হাত ধরে তাকে কালেমা পাঠ করান। জার্মানির মুসলিমরা তার ইসলাম গ্রহণের ছবি টুইটারে শেয়ার করেছে। তারা মনে করছে, ইউরোপীয় রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদের উত্থানের এই অন্ধকার সময় পিটারের ইসলাম গ্রহণ বিশেষ বার্তা বহন করে।

পিটার বলেছে, সন্ত্রাসী হামলা তার ভেতর যে হতাশা ও ক্ষত তৈরি করেছিল ইসলাম গ্রহণ তা থেকে মুক্তি দিয়েছে তাকে। সে এখন জীবনের প্রতি আশাবাদী। সে অন্ধকার জীবনে ঈমান ও ইসলামের আলো খুঁজে পেয়েছে। সে মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের জন্য এবং তাদের পরিবার ও জার্মানির সব মুসলিমের জন্য দোয়া করে। আল্লাহ যেন তার আনুগত্যের তাওফিক দেন, তার সাহায্য প্রেরণ করেন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা