kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ইসলামে মদ কেন নিষিদ্ধ

প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইসলামে মদ কেন নিষিদ্ধ

প্রাচীনকাল থেকে মানব সমাজে মাদকের প্রচলন রয়েছে এবং যা মানব সমাজে বহু বিবাদ ও অনিষ্টেরও কারণ। মাদকাসক্তির কারণে ইতিহাসের বহু কীর্তিমান জাতি বিপর্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে আছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য উপকার। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা  বেশি।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২১৯)

আলোচ্য আয়াতে মদের ক্ষতি ও উপকারিতা উভয় দিক তুলে ধরা হয়েছে এবং তাতে যে ক্ষতির পরিমাণ বেশি সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমান সমাজের অনেকেই মদপানের ক্ষতিকর দিকগুলো না ভেবে নিছক বিনোদনের জন্য মদ পান করে। অথচ তা ইসলামে সুস্পষ্ট হারাম। যদিও তারা জীবনে হতাশা, বেকারত্ব, সন্তানের প্রতি মা-বাবার ঔদাসীন্য, তাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সমাজে নীতি-নৈতিকতার অভাব, অসৎ সঙ্গ ইত্যাদিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে।

মদপানে সামাজিক অবক্ষয়

মদপান ও মাদক মারাত্মক সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ। মদপানের কারণে অকালে ঝরে পড়ছে অনেক তরুণ প্রাণ। যেমন—৮ এপ্রিল ২০১৯ ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর একটি শিরোনাম ছিল ‘মদ পান করে রাবির দুই শিক্ষার্থী ও রুশ প্রকৌশলীর মৃত্যু’। সংবাদে বলা হয়েছে, ‘আলাদা আলাদা মদপানের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থী ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক রাশিয়ান প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া তিনজন হলেন রাবির আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোহতাসিম রাফিক খান, অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র তূর্য রায়, রাশিয়ান নাগরিক প্রকৌশলী বেলি দিমিত্রি (৪১)।’ নিহত এই তিন ব্যক্তির প্রতি খেয়াল করলেই বোঝা যায় মদ সমাজকে কিভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

আমেরিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘জাস্টিন ডিপার্টমেন্ট’ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে। যা থেকে জানা যায়, এই বছর আমেরিকায় প্রতিদিন দুই হাজার ৭১৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং ধর্ষণকারীদের বেশির ভাগ ছিল নেশাগ্রস্ত।

 

মাদকে বিপর্যস্ত পরিবার

মদপান ও মাদকের কারণে বহু পরিবার বিপর্যস্ত ও সর্বস্বান্ত। সমাজের নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সব ধরনের পরিবারে মাদক এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাদকের কারণে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কর্ণাটকে মদ নিষিদ্ধ করতে চার হাজার নারীর পদযাত্রা’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। যাতে বলা হয়, মদ নিষিদ্ধের দাবিতে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ১২ দিন ধরে চলা ২০০ কিলোমিটার পদযাত্রা শেষে বেঙ্গালুরুতে সমাবেশ করেছে নারীরা। রাজ্যের প্রায় চার হাজার নারী এই পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশ নেন। তাঁরা দাবি করেছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করা যাবে না। পদযাত্রায় অংশ নেওয়া অম্বিকা জানান, স্বামী মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই তাঁকে মারধর করেন। আমাকে হুমকি দেয়। আমি মরার মতো বেঁচে আছি। এই সংবাদ থেকেও ধারণা পাওয়া যায়, পারিবারিক জীবনে মদ ও মাদকের ভয়াবহতা কোন পর্যায়ে রয়েছে। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও মাদকের কারণে বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে।

 

মুসলমানের জন্য মদ নিষিদ্ধ

মদ ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ। কোনো মুমিনের জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ নয়। কোরআন ও হাদিসের একাধিক বর্ণনায় মুমিনদের মদপান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন—আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! মদ, জুয়া, পূজার বেদি ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা : মায়িদাহ, আয়াত : ৯০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ মদের ওপর, তা পানকারীর ওপর, যে পান করায় তার ওপর, যে বিক্রি করে তার ওপর, যে তা নিষ্কাশন করে এবং যার আদেশে নিষ্কাশন করে তার ওপর আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার কাছে পৌঁছে দেয়, সবার ওপর।’ (সুনানে আবি দাউদ)

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা    

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা