kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

মিথ্যা সফলতার অন্তরায়

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিথ্যা সফলতার অন্তরায়

আমরা সবাই জানি মিথ্যা বলা মহাপাপ। কিন্তু আমরা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকি। মিথ্যাচারে পটু মানুষের সাময়িক সফলতা দেখে মিথ্যাকেই সফলতার চাবিকাঠি মনে করি। রাসুল (সা.) এ ব্যাপারে তাঁর উম্মতদের সতর্ক করেছেন। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, বিশাল একটি হাদিসের একাংশে উল্লেখ আছে, ... সাবধান! তোমরা মিথ্যাচারিতা থেকে দূরে থাক। কেননা মিথ্যাচারিতা দ্বারা না সফলতা অর্জন করা যায়, না অর্থহীন অপলাপ থেকে বাঁচা যায়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৬)

তা ছাড়া মিথ্যা বলা মুমিনের কাজ নয়। এটা মুনাফিকদের চিরাচরিত অভ্যাস। হাদিসের ভাষায় এই অভ্যাসটিকে মুনাফিকের চিহ্ন বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি : ১) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২) যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং ৩) আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে। (বুখারি, হাদিস : ৩৩)

মিথ্যাবাদীরা মানবতার শত্রু। শুধু ইসলাম ধর্মই নয়, অন্যান্য ধর্মেও মিথ্যাবাদীকে ভালো চোখে দেখা হয় না। মিথ্যা বলার অপরাধে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল আমেরিকার ৩৭তম প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে।

শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট নিক্সনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন এডওয়ার্ড কেনেডি। কিন্তু ১৯৬৯ সালে চাপাকুইডিক নামে এক স্থানে, গভীর রাতে ব্রিজের ওপর থেকে তাঁর গাড়ি পড়ে যায় বিলের পানিতে। এতে কেনেডির করুনি স্টাফ মেরি জো কোপেকনের মৃত্যু হয়। কেলেঙ্কারির ভয়ে তখন কেনেডি এই দুর্ঘটনা বিষয়ে তথ্য চেপে যান। এ সত্য গোপন করার দায়ে কেনেডির প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা চিরতরে শেষ হয়ে যায়।

এই ঘটনাগুলো দ্বারা আমরা অনুধাবন করতে পারি যে মিথ্যা শুধু আখিরাতই ধ্বংস করে না, বরং দুনিয়াও ধ্বংস করে দেয়।

গুছিয়ে মিথ্যা বলা মানুষগুলোকে আমরা অনেকেই পছন্দ করি। বর্তমান বিশ্বে তেলবাজি আর মিথ্যাচার না জানলে বর্তমান যুগে চলা দুষ্কর। কিন্তু আমাদের প্রিয়নবী এ ধরনের লোকদের কখনো প্রশ্রয় দিতেন না। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিথ্যা থেকে অধিক ঘৃণিত চরিত্র রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আর কিছুই ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কেউ মিথ্যা বললে তা অবিরত তাঁর মনে থাকত, যে পর্যন্ত না তিনি জানতেন যে মিথ্যাবাদী তাঁর মিথ্যা কথন থেকে তাওবা করেছে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৩)

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মিথ্যা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, এবং (তোমরা) মিথ্যা কথা পরিহার কর। (সুরা : হজ, আয়াত : ৩০)

বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত অপরিসীম। কিন্তু তিনি মিথ্যাবাদীদের ভীষণ ঘৃণা করেন। তাই তিনি মিথ্যাবাদীদের হেদায়েত দেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে হেদায়েত দেন না, যে সীমা লঙ্ঘনকারী, মিথ্যাবাদী’। (সুরা : গাফির, আয়াত : ২৮)

মিথ্যাবাদীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। দুনিয়ায় কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাজপ্রাসাদ গড়লেও তাতে অনুপ্রাণিত হওয়ার অবকাশ নেই। কারণ এই জীবনের পর আরেকটি জীবন আছে, সেই জীবনের সফলতাই প্রকৃত সফলতা।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই সত্যের পথ অবলম্বন করবে। কেননা, সততাই মানুষকে কল্যাণের পথে নিয়ে যায়। আর কল্যাণ জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। কোনো মানুষ প্রতিনিয়ত সত্য কথা বলতে থাকলে এবং সত্যের প্রতি মনোযোগী থাকলে শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহ তাআলার দরবারে পরম সত্যবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। তোমরা মিথ্যাকে অবশ্যই পরিহার করবে। কেননা, মিথ্যা (মানুষকে) পাপের পথ দেখায়, আর পাপ জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়। কোনো বান্দা প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলতে থাকলে এবং মিথ্যার প্রতি ঝুঁকে থাকলে শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহ তাআলার দরবারে চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭১)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা