kalerkantho

সোমবার । ৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কার জানাজা পড়ব, কার পড়ব না

মুফতি মাহমুদ হাসান   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কার জানাজা পড়ব, কার পড়ব না

‘মুসলিমে’র পরিচয় সংক্ষেপে এভাবে বলা যায়—যে ব্যক্তি ইসলামকে একমাত্র সত্যধর্ম মেনে কবুল করে এবং নিরবচ্ছিন্ন সূত্রে অকাট্যভাবে প্রমাণিত ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস ও বিধানাবলিকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে। তবে এমতাবস্থায় কোনো কবিরা গুনাহ তথা নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি অবহেলায় ছেড়ে দেওয়া অথবা শয়তানের ধোঁকায় বা প্রবৃত্তির তাড়নায় ব্যভিচার, খুন-খারাবি, নেশা গ্রহণ, চুরি-ডাকাতি এবং সুদ ও অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদির দ্বারা সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয় না। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো—একজন মানুষ যখন মুসলিম প্রমাণিত হবে, তার ইন্তেকালের পর মুসলিমদের ওপর তার জানাজা ও কাফন-দাফন ফরজে কেফায়া, চাই সে যত বড়ই পাপকর্মশীল হোক না কেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা নেককার ও বদকার সব মুসলিমেরই জানাজা পড়ো।’ (সুনানে দারাকুতনি, হাদিস : ১৭৬৮, বায়হাকি, হাদিস : ৬৮৩২) অন্য বর্ণনায় ওই হাদিসে এ শব্দও রয়েছে যে ‘যদিও সে কবিরা তথা বড় গুনাহে লিপ্ত হয়’। (মুসনাদে শামিয়্যীন-তাবারনি, হাদিস : ৩৪৬১)

প্রকাশ্যে পেশাদার পাপাচারীর জানাজা

কিন্তু শরিয়ত এখানে একটি নীতিনির্ধারণ করেছে, তা হচ্ছে যেসব মুসলিম নারী-পুরুষ প্রকাশ্যে বড় গুনাহ তথা ব্যভিচার, খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদিতে লিপ্ত থেকে তাওবা ছাড়া মারা যাবে তাদের জানাজা পড়তে হবে, তবে সমাজের গণ্যমান্য নেককার ব্যক্তিরা ও নেতৃস্থানীয় আলেমরা তাদের জানাজায় শরিক হওয়া থেকে বিরত থাকবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৩৬, ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৫/৩০৯)

এর কারণ এই নয় যে মৃত পাপীকে ঘৃণা করা হচ্ছে। বরং কারণ হলো, যাতে জীবিত পাপিষ্ঠদের পাপকর্মে দুঃসাহসিকতা না বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতের জন্য অন্য পাপিষ্ঠরা যেন এটা ভেবে সাবধান হয়ে পাপাচার থেকে ফিরে আসে যে আমি মারা গেলেও তো নেককার ব্যক্তিরা আমার জানাজা পড়বে না। (সুনানে বায়হাকি : ৪/২৯)

হাদিস শরিফে এসেছে—জনৈক ব্যক্তি আত্মহত্যা করে মারা যাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার জানাজায় শরিক হননি, বরং সাধারণ লোকেরা তার জানাজা দিয়ে কবর দিয়ে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ৯৭৮) হাদিসের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজায় শরিক না হওয়ার কারণ হলো আত্মহত্যার গুনাহের প্রতি মুসলিমদের সতর্ক করা। (শরহে মুসলিম-নববি : ৭/৪৭)

ইসলাম অস্বীকারকারীর জানাজা

ওই সব ব্যক্তি যারা ইসলামকে একমাত্র সত্যধর্ম মেনে কবুল করেনি এবং অকাট্যভাবে প্রমাণিত ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস ও বিধানাবলিকে সত্য মনে করে না, বরং ইসলামের সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং ইসলামের সর্বসম্মত কোনো বিশ্বাস বা বিধানকে কটাক্ষ করে অথবা আল্লাহ ও রাসুলের অবমাননা করে, তার জানাজা পড়া কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। কোরআনে কারিমে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা জনৈক ইসলামবিদ্বেষীর জানাজা পড়ে ফেলেছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের মধ্যে যে মারা গিয়েছে, তুমি তার জানাজা পড়বে না এবং তার কবরের ওপর দাঁড়াবে না। নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছে এবং তারা ফাসিক অবস্থায় মারা গেছে। আর তোমাকে যেন মুগ্ধ না করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি, আল্লাহ এর দ্বারা শুধু তাদের দুনিয়ার জীবনে আজাব দিতে চান এবং কাফির অবস্থায় তাদের জান বের হয়ে যাবে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৮৪, ৮৫)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা