kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী উদ্যোগ

মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী উদ্যোগ

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সফল হজ ব্যবস্থাপনা, সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করাসহ বহু ক্ষেত্রেই ধর্ম মন্ত্রণালয় সুনাম কুড়িয়েছে। বিশেষত ২০১৯ সালে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইসলামের খেদমতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা হলো—

১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে আট হাজার ৭২২ কোটি টাকার অনুমোদিত ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ৫৫৯টি স্থানের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। ৫০২টি কেন্দ্রের টেন্ডার আহ্বান, ৪৭৫টির NOA প্রদান এবং ২৮৫টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

২. সার্বিক স্বাক্ষরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ষষ্ঠ পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৭৩ হাজার ৭৬৮টি প্রাক-প্রাথমিক, পবিত্র সহজ কোরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ২৪ লাখ ১৪ হাজার ২০০ জনকে অক্ষরজ্ঞান দানসহ নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ডিসেম্বর ২০১৯-এ সমাপ্ত হবে। এ ছাড়া ৫৫০টি উপজেলায় ৫৫০টি মডেল ও এক হাজার ৫০০টি সাধারণ রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।

৩. মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের (যেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেসব এলাকায় প্রতি উপজেলায় দুটি করে মোট এক হাজার ১০টি ‘দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠাপূর্বক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে দুই হাজার ২০ জন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে আলেম-ওলামাসহ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে তিন হাজার ৩০ জন আলিয়া, কওমি নেসাব, সাধারণ শিক্ষক পদে ওই প্রকল্পে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৪. ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ সাতটি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট তিন হাজার ৭০০ জন ইমামকে ৪৫ দিনব্যাপী নিয়মিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই হাজার ১০০ জন ইমামকে রিফ্রেশার্স কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ৩৪০ জন ইমাম, মাদরাসার ছাত্র ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং ৫১১ জন ইমামকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তিন হাজার ৭০০ জন ইমামকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১৪১ জন কর্মকর্তা ও ২০০ জন কর্মচারীকে অফিস ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

৫. ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ট্রাস্টের সদস্যভুক্ত স্বল্প আয়ের এক হাজার ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে ১২ হাজার টাকা হারে মোট এক কোটি ২০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ এবং তিন হাজার ৫০০ জন গরিব দুস্থ ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে পাঁচ হাজার টাকা হারে মোট এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।

৬. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আটটি বিভাগীয় ও ৬৪টি জেলা কার্যালয় জাকাত বোর্ডের আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাত হাজার ৯৭০ জন দুস্থ ও অসহায়কে জাকাতের অর্থ ও অন্য সুবিধা এবং জাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতাল টঙ্গী, গাজীপুরের মাধ্যমে ৩০ হাজার ২০০ জন গরিব রোগীর মধ্যে বিনা মূল্যে ওষুধসহ চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার ৫০০ জনকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়।

৭. ৪৯টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্র, ঝালকাঠি ইসলামিক মিশন হাসপাতাল, টঙ্গী শিশু হাসপাতাল, বায়তুল মোকাররম ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ও আগারগাঁও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আট লাখ ৯৫ হাজার ১২৬ জন রোগীকে অ্যালোপ্যাথিক এবং দুই লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৫ জন রোগীকে বিনা মূল্যে ওষুধসহ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ৪৬৩টি মক্তবের মাধ্যমে ২৪ হাজার ৬৮৫ জন এবং ২৬টি ইবতেদায়ি মাদরাসার মাধ্যমে দুই হাজার ৯৩৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম ডিসেম্বর ২০১৯-এ সমাপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৪ হাজার ৯১ জনকে নামাজ শিক্ষা এবং ১৩ হাজার ১২০ জনকে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়। জাতীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্‌যাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উদ্বুদ্ধকরণ মাহফিল দুই হাজার ২২৩টি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ৭৬টি এবং বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক প্রতিরোধ বিষয়ক ৩৩টি অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করা হয়।

৮. ইসলামিক ফাউন্ডেশন আওতাধীন ‘মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ২য় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ৬০০টি মসজিদে নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা ও এক হাজার ২৮০টি নতুন মসজিদ পাঠাগারের পুস্তক সংরক্ষণের জন্য এক হাজার ২৮০টি আলমারি প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠিত ৮০০টি পুরাতন মসজিদ পাঠাগারে পুস্তক সংযোজন করা হয়। ৫৫৫টি জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগারে কেয়ারটেকারদের জন্য ৫৫৫টি বাইসাইকেল ক্রয় করা হয়।

৯. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ছয় হাজার ১৯৩টি কপি দেশি-বিদেশি পুস্তক, ১৪২ কপি পুস্তিকা, ৯ হাজার ৬২০টি দেশি-বিদেশি পত্র-পত্রিকা ও জার্নাল সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া দুই লাখ চার হাজার ২৯৬ জনকে পাঠক সেবা প্রদান, ৩১১ জন গবেষককে গবেষণার বিষয়ে সেবা প্রদান, ৯২৩ জনকে ফটোকপি সরবরাহের সেবা প্রদানসহ ১১০টি আইএসবিএন নম্বর প্রদান করা হয়।

১০. প্রকাশনা বিভাগের মাধ্যমে ৬৬টি শিরোনামের দুই লাখ ৭৪ হাজার কপি পুস্তক প্রকাশ, শিশু-কিশোর বিষয়ক মাসিক ‘সবুজ পাতা’ ১২টি সংখ্যা প্রকাশ, কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাসহ অন্যান্য বইমেলা,  বাংলা একাডেমি (ঢাকা) বইমেলায় অংশগ্রহণ, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪০ হিজরি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে পৃথকভাবে বায়তুল মোকাররমে ইসলামী বইমেলার আয়োজন, জেলা ও উপজেলায় উন্নয়ন মেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুস্তক প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের জন্য অংশগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া ওআইসি আগত মেহমানদের পুস্তক উপহার প্রদান করা হয়।

১১. গবেষণা বিভাগ কর্তৃক ত্রৈমাসিক গবেষণাধর্মী জার্নাল ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা’ চারটি সংখ্যা প্রকাশ, বিভিন্ন বিষয়ে ১১০টি ফতোয়া প্রদান এবং ২২টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

১২. ‘ইসলামী পুস্তক প্রকাশনা কার্যক্রম-২য় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৮৭টি শিরোনামে দুই লাখ ৭৭ হাজার কপি পুস্তক ছাপানো হয়। এ ছাড়া ‘অগ্রপথিক’ শিরোনামের মাসিক পত্রিকার ১২টি সংখ্যা প্রকাশ/অগ্রগতি করা হয়।

১৩. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল বিভাগের মাধ্যমে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন এবং ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় হালাল সনদ প্রদান করা হয়।

১৪. মোবাইল ফোনে কল সেন্টার/এসএমএস/ ওয়াপ/ আইভি-এর মাধ্যমে ইসলাম বিষয়ক বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েল, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত সম্পর্কিত তথ্য, চাঁদ দেখার তথ্য, নামাজের সময়সূচি, সমসাময়িক সমস্যাদির ইসলাম নির্দেশিত সমাধান দেওয়া হয় এবং তা অব্যাহত রয়েছে। আইসিটি বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিজিটাল আর্কাইভস ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল স্টুডিওর মাধ্যমে ২২১টি অনুষ্ঠান ধারণ/রেকর্ডিং ও ১৯০টি অনুষ্ঠান সম্পাদনা করা হয়। এ ছাড়া ‘ইসলাম ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ৩১টি পর্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ও আশা বাড়ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা