kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মোবাইল ফোনে কথা বলার শিষ্টাচার

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল ফোনে কথা বলার শিষ্টাচার

১.       প্রথমে সতর্কতার সঙ্গে নম্বর ওঠানো এবং কল করার আগে তা চেক করে নেওয়া। ভুলবশত কারো কল আপনার মোবাইল ফোনে চলে এলে বিরক্ত না হয়ে ভদ্রতার সঙ্গে সুন্দরভাবে ভুলের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া উচিত। এটিই উত্তম আখলাকের পরিচায়ক। অবশ্য কারো ব্যাপারে যদি জানতে পারেন আপনাকে বিরক্ত ও হয়রানি করার জন্য ইচ্ছা করেই অপরিচিত নম্বর থেকে কল করছে। তবে তাকে প্রথমে এই ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে। এতে কাজ না হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

২.      কল করার পর সালাম আদান-প্রদানের মাধ্যমে কথা শুরু করা।

৩.      এরপর স্পষ্টভাবে নিজের পরিচয় দেওয়া, যদি তিনি আপনাকে চিনতে না পারেন। এ ক্ষেত্রে শুধু নাম বলাই যথেষ্ট নয়। জাবের (রা.) বলেন, একবার আমি আমার পিতার ঋণসংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খিদমতে হাজির হয়ে দরজার কড়া নাড়লাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আমি। এটা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি! আমি!! ‘আমি আমি’ বলার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভাব এমন ছিল যে আমার (পরিচয়ে প্রদানের ক্ষেত্রে) শুধু ‘আমি’ বলা তিনি অপছন্দ করেছেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহুল মুসলিম; মিশকাত : ২/৪০০)

৪.      রিসিভকারী উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া। অন্যথায় রিসিভকারী যেমন বিব্রত হতে পারে, তেমনি পরে ফোনকারীও লজ্জিত হতে পারে।

৫.      লম্বা কথা বলার প্রয়োজন হলে আনুমানিক সময়ের জন্য রিসিভকারীর অনুমতি নেওয়া, যেন রিসিভকারী ব্যস্ত হলে তা জানাতে পারে। আল্লামা তাকি উসমানি বলেন, ‘আমার পিতা মুফতি মুহাম্মদ শফি সাহেব (রহ.) বলতেন, ফোন নামে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার একটি যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মাধ্যমে অন্যকে যত ইচ্ছা কষ্ট দেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ফোন করার একটি আদব হলো কারো সঙ্গে যদি লম্বা কথা বলতে হলে তার কাছে বলে নেওয়া। (দুসরু কো তাকলিফ মাত, জিয়ে, পৃষ্ঠা ৩৭)

৬.     সাজিয়ে-গুছিয়ে মধ্যম আওয়াজে স্পষ্ট করে বলা। আপনার আওয়াজ যেন অবশ্যই কর্কশ বা এত উঁচু না হয়, যাতে রিসিভকারীর কষ্ট বা বিরক্তি হয়। আবার কথা বুঝতে কষ্ট হয় এত আস্তে কথা বলাও অনুচিত। বরং কথা হবে ভদ্রতা ও শালীনতার সঙ্গে হাসিমুখে, হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের মতো দ্রুত মিলিয়ে কথা বলতেন না। বরং তিনি কথা বলতেন স্পষ্ট ভাষায়, পৃথক পৃথক বাক্যে। ফলে উপস্থিত যে কেউ তার কথা সহজেই মুখস্থ করে নিতে পারত।’ (শামায়েলে তিরমিজি, পৃষ্ঠা ১৮)

৭.      মোবাইল ফোনে কথা বলা শেষে সালামের মাধ্যমে বিদায় গ্রহণ করা। কথা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সালামের আগে ফোনকারী বা রিসিভকারী যদি শুকরিয়া আদায় বা দোয়া হিসেবে আল্লাহ হাফিজ, জাজাকাল্লাহ, ধন্যবাদ ইত্যাদি বললে দোষের কিছুই নেই। সালামের জবাব শেষ হওয়ার আগে লাইন কেটে দেওয়া অভদ্রতা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা