kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

হাদিসের নির্দেশনা

আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহ যাদের রক্ষা করেন

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘হে বৎস! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শেখাব। আল্লাহর বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলবে, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন। আল্লাহর দাবিগুলো (হুকুমকে) আদায় করো, তুমি আল্লাহকে তোমার সামনেই পাবে। আর তোমার কারো কাছে কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাইবে। সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার উপকার করতে পারবে না। আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাগুলো শুকিয়ে গেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫১৬)

আলোচ্য হাদিসে মহানবী (সা.) উম্মতকে আল্লাহর দয়া, অনুগ্রহ ও সাহায্য লাভের উপায় শিখিয়েছেন। তা হলো, সব সময় এবং সব কাজে আল্লাহমুখী হয়ে থাকা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। তিনি আরো শিখিয়েছেন, আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে বান্দার কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ হতে পারে না। সুতরাং বান্দার উচিত সর্বতোভাবে আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। আল্লাহর সব বিধান মান্য করা বান্দার জন্য আবশ্যক। তবে এমন কিছু বিধান রয়েছে যেগুলো সংরক্ষণ করার প্রতি মহানবী (সা.) বারবার তাগিদ দিয়েছেন। যেমন—

 

১. ঈমান : ঈমান রক্ষা করা মুমিনের প্রথম কাজ। ঈমান তথা বিশ্বাস রক্ষার অর্থ হলো, ঈমানবিরোধী কথা ও কাজ পরিহার। ঈমানের পরিপন্থী জীবন থেকে দূরে থাকা এবং পার্থিব জীবনে মুমিন হিসেবে জীবনযাপন করা। আর ঈমান দৃঢ় হয় এমন কাজ বেশি বেশি করা। ঈমান রক্ষার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তার ওপর দৃঢ় থাকে, তিনি অবশ্যই তাদের তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে শামিল করবেন এবং তাদের সরল পথে পরিচালিত করবেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৭৫)

 

২. নামাজ : ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। পবিত্র কোরআনের অসংখ্য স্থানে আল্লাহ নামাজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের অন্তিম মুহূর্তে নামাজ সংরক্ষণের অসিয়ত করেন। নামাজ সংরক্ষণের অর্থ হলো, যথাসময়ে যথানিয়মে একাগ্র চিত্তে নামাজ আদায় করা। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৩৮)

 

৩. পবিত্রতা : পবিত্রতা মুমিনজীবনের সৌন্দর্য। মুমিন দেহ ও মনের দিক থেকে সব সময় পবিত্র থাকার চেষ্টা করবে। অপবিত্রতা থেকে নিজের দেহ-মনকে রক্ষা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্রতা রক্ষায় মুমিনকে যত্নবান হতে উদ্বুদ্ধ করে বলেছেন, ‘প্রকৃত মুমিন ছাড়া আর কেউই অজুর প্রতি যত্নবান হয় না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২৪৩৬)

 

৪. মাথা ও পেট : মাথা সংরক্ষণের অর্থ হলো, সুচিন্তা করা এবং ভালো ও পুণ্যের কাজে নিজের বিবেক-বুদ্ধি ও মেধা ব্যবহার করা, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞানার্জন করা। আর পেটের হেফাজতের অর্থ হলো, হারাম উপার্জন ও খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহকে যথাযথ লজ্জা করার অর্থ হলো মাথা ও তা যা কিছু ধারণ করে তার হেফাজত করা এবং পেট ও তাতে যা প্রবেশ করে তা সংরক্ষণ করা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৫৪)

 

৫. লজ্জাস্থান : লজ্জাস্থানের সংরক্ষণের অর্থ হলো হারাম উপায়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ না করা এবং আল্লাহর নির্দেশ মতে বৈধ উপায়ে তা পূরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি মুমিনদের বলুন! তারা যেন তাদের চোখ অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩০)

 

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিসি), বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা