kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিসর বিজয়ের ১৩৮০ বছর

মিসরে মুসলিম শাসনের ধারাবাহিকতা

মুফতি সাইফুল ইসলাম

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিসরে মুসলিম শাসনের ধারাবাহিকতা

পৃথিবীর দীর্ঘতম নিল নদ, সিনাই পাহাড়, সাহারা মরুভূমি, পিরামিড আর আধুনিককালের সুয়েজ খালের দেশ মিসর নিয়ে আগ্রহ আছে বিশ্বের অনেক মানুষের। মিসর পৃথিবীর প্রাচীনতম জনপদগুলোর একটি। ফারাওদের রাজকীয় পিরামিড, রানি নেফারতিতির সমাধিস্থল, মিসরীয় চিত্রলিপি আর প্যাপিরাস কাগজে লেখা অজস্র পুঁথি আজও ধরে রেখেছে পাঁচ সহস্রাব্দের প্রাচীন সভ্যতার স্মৃতিকে। এ ছাড়া ফেরাউনের মমি, নবী মুসা (আ.)-এর স্মৃতি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, আলেকজান্দ্রিয়া পাঠাগার ও আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের স্মৃতিচিহ্ন মিসর আলোচনায় রেখেছে এখনো।

ফারাও রাজাদের কয়েক হাজার বছরের অমানবিক শাসন শেষে ৩০ খ্রিস্টাব্দে মিসরে শুরু হয় রোমান শাসন। যা ৬৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যদিও ৬১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬২৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর সাসানীয়রা মিসরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। মহানবী (সা.)-এর তিরোধানের পর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনামলে ১২ ডিসেম্বর ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রা.) মিসর জয় করেন এবং রোমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর থেকে মিসর মুসলিমদের হাতছাড়া হয়নি কখনো।

খলিফা ওমরের নির্দেশে আমর ইবনুল আস (রা.) মিসরের ‘ফুসতাত’ নগরীর গোড়াপত্তন করেন। এটাই ছিল মুসলিম মিসরের প্রথম রাজধানী। এই শহরের প্রাণকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয় সুবিশাল মসজিদ। যা আজও আমর ইবনুল আস মসজিদ নামে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে মিসরে উমাইয়া খিলাফতের শাসন শুরু হয় আর তা ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়িত্ব লাভ করে।

উমাইয়াদের পর ৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আব্বাসীয় শাসন, ১১৭৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ফাতেমি শাসন, ১২৬০ পর্যন্ত আইয়ুবি শাসন, ১৫১৭ পর্যন্ত মামলুক সালতানাতের শাসন এবং ১৮৬৭ পর্যন্ত উসমানি শাসন অব্যাহত থাকে। (French Invasion of Egypt, 1798-1801; History of War)

১৮৬৭-র শুরুর দিকে মিসর একটি  নামমাত্র স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যে পরিণত হয়। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে অ্যাংলো-ইজিপশিয়ান যুদ্ধে ব্রিটিশরা মিসর দখল করতে সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯১৯ সালের মিসরীয় অভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাপ্রবাহের শেষে ১৯৫৩ সালে স্থানীয় মুসলিমদের হাতে আবারও আধুনিক গণপ্রজাতন্ত্রী মিসর প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের সুয়েজ সংকটের পর ব্রিটিশরা মিসর ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে মিসর। ব্রিটিশরা মিসর ছেড়ে গেলেও জনগণের প্রত্যাশিত সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি মিসরে। সেনাশাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা মিসরীয়দের নিত্যসঙ্গী। এসব বিষয় নিয়ে দেশটির সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ, ভয় ও নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা