kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

আমেরিকায় সর্বাধিক জনপ্রিয় নামের তালিকায় ‘মুহাম্মদ’

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমেরিকায় সর্বাধিক জনপ্রিয় নামের তালিকায় ‘মুহাম্মদ’

আমেরিকায় নবজাতকদের নাম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০টি নামের তালিকায় মুহাম্মদ নামটিও যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিশু পরিচর্যাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘বেবি সেন্টার’ ২০১৯ সালের সর্বাধিক ব্যবহৃত নামের তালিকা প্রকাশ করে। এতে শিশুদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নামের মধ্যে মুহাম্মদ নামটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় মুহাম্মদ নামটি দশম স্থানে আছে।

ব্রিটেনেও এ বছর মুহাম্মদ নামটি ছেলেশিশুর নাম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। অতঃপর ফ্রান্সেও প্রথমবারের মতো নামটি ছিল সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। জার্মানিতেও মুহাম্মদ নামটি নবজাতকের নাম হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এখন আমেরিকায়ও মুহাম্মদ নামটি সর্বাধিক ব্যবহৃত নামের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অমুসলিমরা নবজাতকের নানা রকম নাম নির্বাচন করলেও মুসলিমদের অনেকেই ইসলামের মহান নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নামকে নিজের সন্তানের নাম হিসেবে নির্বাচন করে। তাই এবারই প্রথম মুহাম্মদ নামটি তালিকার দশম স্থানে যুক্ত হয়েছে। ছেলেদের তালিকার অন্যান্য নাম হলো—লিয়াম, জেকসন, নুহ, আইদান, গেসন, কাদিন, লুকাস, এলিজাহ ও মুহাম্মদ।

ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত সব মুসলিমের নামের শুরুতে ‘মুহাম্মদ’ লেখার প্রচলন আছে। অনেকে এটি সংক্ষেপে লিখে থাকেন। আবার কেউ কেউ পুরো শব্দটি লেখেন। তবে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এর কোনো বাধ্যবাধ্যকতা নেই। তবে ভারত উপমহাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে নামের শুরুতে মুহাম্মদ লেখার প্রচলন নেই। বরং মুহাম্মদ শব্দটি স্বতন্ত্র নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সব মুসলিমের কাছে সুন্দর অর্থবহ নামের গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুল (সা.) অনেক সাহাবির নাম সুন্দর অর্থবহ না হওয়ায় পরিবর্তন করেছেন। তাই একজন মুসলিম হিসেবে সন্তানের প্রতি মা-বাবার প্রথম কর্তব্য হলো, সন্তানের জন্য একটি সুন্দর নাম নির্বাচন করা। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতাদের নামে ডাকা হবে। অতএব তোমরা সুন্দর নাম নির্বাচন করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস নম্বর : ৪৯৪৮)

প্রিয় নবীর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তির প্রদর্শন করে সন্তানের নাম মুহাম্মদ রাখা যাবে। আবদুল্লাহ বিন জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাদের এক লোকের সন্তান হলে তার নাম কাসেম রাখে। এতে আনসাররা এসে তাকে বলল, উপনাম হিসেবে আমরা তোমাকে আবুল কাসেম বলব না। সে রাসুল (সা.)-এর কাছে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার একটি সন্তান হয়। আমি তার নাম কাসেম রাখি। আনসাররা আমাকে বলল, আমরা তোমাকে আবুল কাসেম নামে ডাকব না। তার কথা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আনসাররা ঠিক করেছে। তোমরা আমার নামে নাম রাখো। তবে আমার উপনাম গ্রহণ কোরো না। কেননা আমি কাসেম।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩১১৫)

মুহাম্মদ শব্দটি আরবি ভাষায় বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো প্রশংসিত। পবিত্র কোরআনে এটি সর্বমোট চারবার ব্যবহৃত হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৪৪ নম্বর আয়াত, সুরা আহজাবের ৪০, সুরা আল-ফাতাহের ২ নম্বর, সুরা মুহাম্মদের ২৯ নম্বর আয়াতে রাসুল (সা.)-এর সম্পর্কিত বর্ণনায় মুহাম্মদ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা