kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শক্তিশালী মানবিক সমাজের স্বপ্ন

খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শক্তিশালী মানবিক সমাজের স্বপ্ন

প্রিবর্তনের পর থেকে প্রতিবছর একেকটি প্রতিপাদ্য উচ্চকিত করে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উদ্যাপিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, মানবাধিকারের চেয়ে ‘মানবাধিকার দিবস’ নিয়েই আমাদের মাতামাতি বেশি। প্রতিবছর এ দিবসটি সামনে রেখে গোটা দুনিয়ায় রকমারি অনুষ্ঠান-আনুষ্ঠানিকতার পসরা সাজে। বিশ্বের প্রধান শক্তিধর দেশটি ‘পদাধিকার বলে’ একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সেই রিপোর্টে তার এক নম্বরের আর্থ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। অধিকাংশ সময় তাতে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়ানক চিত্র উঠে আসে। চীন এই রিপোর্ট তুবড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় এবং পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন মুলুকের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যক্কারজনক তথ্যচিত্র যত্নের সঙ্গে পেশ করে। চীনের দেখাদেখি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের কিছু সমস্যাজর্জরিত রাষ্ট্রও সাহস সঞ্চয় করে মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যানের ‘নজির স্থাপন’ করছে। ঢালাওভাবে নাকচ করছে সবগুলো অভিযোগ।

দিবস উদ্‌যাপন আর পাল্টাপাল্টি প্রতিবেদন আর রিপোর্টবাজিতে কিন্তু দুনিয়ার নানা প্রান্তের সেসব বনি আদমের ‘দিন’ খুব একটা বদলায় না। ইসরায়েলি বুলডোজার আগের মতো ফিলিস্তিনিদের জনবসতি গুঁড়িয়ে দিতে থাকে, সিরিয়ানদের বাড়িঘরে আকাশ থেকে টনে টনে গোলাবারুদ আগুন-বর্ষণও থামে না। এখানে আমেরিকা আর রাশিয়া পাল্লা দিয়ে মানবাধিকারকে বনবাসে পাঠায়; আবার পরস্পরকে দোষারোপ করে নিজে সাধু-সন্ত সাজে। মনুষ্য অধিকারকে পায়ের তলায় পিষ্ট করে দুনিয়ার নাকের ডগায় চীন উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিত্যনতুন অত্যাচারের এক্সপেরিমেন্ট চালাচ্ছে। আমাদের ঘরের পাশের অসভ্য, গোঁয়ার মিয়ানমার মিনি পরাশক্তিগুলোর প্রশ্রয়ে মুসলমানদের কচুকাটা করতে কিঞ্চিৎ পরোয়া করে না। ইয়েমেনের হাজার হাজার নিরীহ জনগণ ও নিরপরাধ নারী-শিশুদের রক্তের নদী তৈরি করেও নেতানিয়াহু আর সিসির ‘কাছের বন্ধু’ বিন সালমানরা বিশ্বসভায় বরিত হয়।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যেন ‘মুসলমানদের মানবাধিকার থাকতে নেই।’ শুধু মুসলমানের কথা কেন বললাম, অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার হরণ কি গ্রহণযোগ্য? না। একদম না! তবে আজকের বাস্তবতা হলো, গোটা দুনিয়ার রিপোর্টে নজর বোলালে আনুপাতিক হিসেবে মুসলমান আর অমুসলিম নিপীড়িতদের সংখ্যার ব্যবধান আকাশ-পাতাল। পরিসংখ্যানে কম হোক বা বেশি—নৈতিকতার জায়গা থেকে আমরা সব জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি পারিবারিক কারণেও হলে তা নিন্দনীয় বরং প্রতিরোধযোগ্য।

৮ ডিসেম্বর ২০১৮। যুগান্তরে প্রাসঙ্গিক একটি নিবন্ধে বলা হয়, ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প প্রত্যেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বিপক্ষে। ‘বিশ্বে মানবাধিকার কেবল কথার কথা’ শিরোনামের নিবন্ধটিতে লেখক জামির হোসেন উল্লেখ করেন—‘ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে ১৯৪৮ সালের এই দিনেই গৃহীত হয় ঘোষণাটি। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমানে তা নজিরবিহীন হুমকির মুখে।’

সারা বিশ্বেই মানবতা ও মানবাধিকার আজ হুমকির মুখে। সবখানেই অধিকার লঙ্ঘনের মহোৎসব, এক অরাজক পরিস্থিতি। স্বাভাবিকভাবে জীবনধারণের অধিকার হারিয়েছে মানুষ।

একটি নিরাপদ, ইনসাফপূর্ণ, শক্তিশালী মানবিক পৃথিবীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাইলে আমাদের সব বিদ্বেষ, ক্ষুদ্রতা, হীনস্বার্থ ও ভণ্ডামি দুপায়ে দলে সর্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একাট্টা হতে হবে। আর এ লক্ষ্যে অতন্দ্র পাহারায় সচকিত থাকতে হবে ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, রাষ্ট্র ও বিশ্বসম্প্রদায়কে।

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা