kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের তাগিদ

আতাউর রহমান খসরু

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের তাগিদ

ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ইকরা’ (পড়ো) শব্দের মাধ্যমে। জ্ঞানে উদ্দীপ্ত এমন যাত্রা পৃথিবীর অন্য কোনো ধর্মের হয়নি। শুধু যাত্রা নয়, ইসলামের সামগ্রিক অবয়ব, অবকাঠামো ও বিধি-বিধানে জ্ঞানচর্চার এই অনুপ্রেরণা বিরাজমান। প্রয়োজনীয় জ্ঞান, যা ছাড়া এক মুসলিম ধর্মীয় জীবনযাপন করতে পারে না, তা অর্জন করা ফরজ। তা ধর্মীয় জ্ঞান হোক বা জাগতিক। আর যেসব জ্ঞান ইসলামসংশ্লিষ্ট নয়, তবে জাতির সামগ্রিক কল্যাণ, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নির্ভরশীল তা অর্জন করা ফরজে কিফায়া বা সম্মিলিত কর্তব্য। সে হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখা এবং তা দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং জাতিকে তার ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা করা মুসলমানের সম্মিলিত কর্তব্য।

 

প্রযুক্তির প্রতি ইসলামের দৃষ্টিকোণ

ইসলামী শরিয়তের একটি মূলনীতি হলো, ‘মৌলিকভাবে প্রতিটি বস্তু হালাল।’ (কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়া লিল-মুবতাদি, পৃষ্ঠা ৬৮) যদি না তার নেতিবাচক দিকগুলো প্রমাণিত হয়। এই মূলনীতির আলোকে প্রযুক্তির ব্যবহার অবৈধ নয়; বরং সমকালীন ইসলামিক স্কলাররা প্রযুক্তির ব্যবহারকে ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। তবে তা অবশ্যই নিঃসংকোচে নয়। ড. ইউসুফ আল কারজাভি প্রযুক্তির প্রতি ইসলামের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে গিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় রকম ব্যবহার সম্ভব। পাশাপাশি তিনি ইসলাম প্রচারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মুসলিম উম্মাহকে আহ্বানও জানিয়েছেন। (https://bit.ly/2rCgiH7)

ইসলামী আইনবেত্তারা বলেন, প্রযুক্তি দ্বারা ব্যাপকভাবে মানুষের উপকৃত হওয়ার সুযোগ থাকায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করা দূষণীয় নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাকে যা উপকৃত করবে সে ব্যাপারে তুমি ধাবিত হও এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করো। নিরাশ হয়ো না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)

জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা মানুষের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করেছে। তবে এই সৌন্দর্যে রয়েছে আল্লাহর পরীক্ষা। যেমনটি আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি পৃথিবীর সব কিছুকে তার শোভা হিসেবে সৃষ্টি করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করতে পারি তাদের মধ্যে কে ভালো কাজ করে।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৭)

আল্লাহর অনুগ্রহ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলেই তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব হবে এবং তা হবে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। নতুবা আমরা অকৃতকার্য ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হব। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই আরো বাড়িয়ে দেব। আর যদি তোমরা অস্বীকার করো, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৭)

 

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার

ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার প্রসার, অসহায় মানুষের সেবা, জ্ঞানচর্চাসহ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের বহু দিক রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের মাধ্যমে খুব সহজে অসংখ্য মানুষের কাছে দ্বিনের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, যা আরো বেশি কার্যকরী ও ফলপ্রসূ হবে। ড. ইউসুফ আল কারজাভি বলেন, ‘প্রত্যেক যুগে আল্লাহর পথে আহ্বানের কৌশল ও উপকরণ ভিন্ন হয়। এই যুগের উপায় ও অবলম্বন হলো আধুনিক প্রযুক্তি। আল্লাহ মানুষের দ্বিনি দায়িত্ব সহজ করার জন্য তা দান করেছেন।’ (https://bit.ly/2sjy6ag)

প্রযুক্তি জ্ঞান ও ইসলামী জ্ঞানচর্চার সুযোগকেও বিস্তৃত করেছে। এখন ‘মাকতাবায়ে শামেলা’, ‘জাওয়ামিউল কালিম’, ‘মাকতাবায়ে ওকাফিয়া’, ‘মাকতাবায়ে জিবরিল’, ‘আল ওয়াজিজ’, ‘আল বাহসুল কোরআনি’-এর মতো সফটওয়্যারগুলো ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে অনেকটাই সহজ করেছে। এ ছাড়া অসংখ্য ওয়েবসাইট মানুষের জ্ঞানপিপাসা নিবারণে কাজ করছে। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সহজেই মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করা সম্ভব হচ্ছে। সামাজিক সংকট রোধে যা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

 

প্রযুক্তি ব্যবহারে চাই সতর্কতা

তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও সহজলভ্যতা প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের মাত্রাও বাড়ায় দিন দিন। ধোঁকা, প্রতারণা, ভুল তথ্য ও ভ্রান্ত মতবাদের প্রচারের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। তাই প্রযুক্তির নেতিবাচক ব্যবহারের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। প্রযুক্তির অন্যায় ব্যবহারে আল্লাহভীতি জাগ্রত করা, আইনি জবাবদিহি, উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার করতে চায়, নিশ্চয়ই তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার জন্য তৎপর প্রহরী তার কাছেই রয়েছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ১৮)

[email protected]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা