kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গাম্বিয়ার মুসলমানদের ধর্মনিষ্ঠা

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাম্বিয়ার মুসলমানদের ধর্মনিষ্ঠা

কৃষিপ্রধান দেশ গাম্বিয়া। একে নদীপ্রধান দেশ বললেও ভুল হবে না। কারণ এ দেশের নামকরণই করা হয়েছে নদীর নামে। গাম্বিয়া মূলত ছিল একটি নদীর নাম, যা দেশটির মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে। বিশাল এই নদীর তীরজুড়ে সারা বেলা খেলা করে রংবেরঙের পাখি। সে হিসেবে এটিকে পাখির দেশও বলা যায়। বর্তমানে এর রাষ্ট্রীয় নাম গাম্বিয়া ইসলামী প্রজাতন্ত্র।

এর অবস্থান আফ্রিকা মহাদেশে। বলা হয়, সেখানকার মূল ভূখণ্ডের ক্ষুদ্রতম দেশ এটি। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে সেনেগাল দ্বারা পরিবেষ্টিত। পশ্চিমে রয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর। সাগর উপকূল থেকে মহাদেশের প্রায় ৩২০ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত চলে গেছে গাম্বিয়া। তবে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ মাত্র ৫০ কিলোমিটার।

এ দেশের রাজধানী বাঞ্জুল। বৃহত্তম শহর সেরেকুন্দা। সুজলা সুফলা এই দেশের মোট আয়তন ১০ হাজার ৩৮০ বর্গকিলোমিটার, যেখানে বাস করে ২০ লাখ ৯২ হাজার ৭৩১ জন মানুষ। (ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক) এখানকার ৯৫.৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তাদের বেশির ভাগ মালিকি মাজহাবের অনুসারী। পাশাপাশি দেশটিতে বাস করে রোমান ক্যাথলিক ও প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের খ্রিস্টানরাও।

অর্থনৈতিক দিক থেকে গাম্বিয়া খুব সচ্ছল দেশ নয়। দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র। মাছ ধরা দেশটির জনগণের প্রধান পেশা। তাদের দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারেরও কম। এ দেশের প্রধান উৎপাদিত শস্য এবং প্রধান রপ্তানিপণ্য চিনাবাদাম। এ ছাড়া পর্যটনশিল্পও তাদের অন্যতম আয়ের উৎস। আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলের সমুদ্রসৈকতগুলোতে ঘুরতে এবং গাম্বিয়া নদীর বিচিত্র পাখপাখালি দেখতে পর্যটকরা গাম্বিয়ায় আসে।

গাম্বিয়া একসময় ছিল পর্তুগিজ উপনিবেশ। ১৯ শতকে ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। ১৯৬৫ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর দেশটি একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গণ্য হয়। ১৯৯৪ সালে এক রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হয় এবং সামরিক নেতা ইয়াহইয়া জাম্মেহ তাঁর স্থান নেন। জাম্মেহ পরবর্তীকালে গাম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন। ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেশটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়।

তবে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হলেও দেশটিতে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অধিকারও রক্ষিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহইয়া। তিনি বলেন, ‘পোশাকের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে না। আমরা একটি ইসলামিক রাষ্ট্র হব, যেখানে সব নাগরিক ও অনাগরিকের অধিকারও রক্ষিত হবে।’

শুধু নিজেদের দেশই নয়। তারা চিন্তা করে ভিন্ন দেশের নির্যাতিত মুসলমানদের নিয়েও। সম্প্রতি মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে গাম্বিয়া। গত ১১ নভেম্বর ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে মামলাটি করে তারা। এই মহতী উদ্যোগে তাদের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে গাম্বিয়ার দাবিকে জোরালো করতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা দেবে কানাডা ও নেদারল্যান্ডস।

খুব বড় দেশ না হয়েও ন্যায়ের পক্ষে এমন সাহসিকতার স্বাক্ষর রাখা সত্যিই দৃষ্টান্তমূলক। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তারাও প্রশংসার দাবিদার। আল্লাহ সবার চেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা