kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধর্মতত্ত্ব

পাগড়ি কি শুধুই আরবের সংস্কৃতি

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাগড়ি কি শুধুই আরবের সংস্কৃতি

কিছু মানুষ মনে করেন যে পাগড়ি আরব দেশের সংস্কৃতি। তাই অনেকে পাগড়ি পরিধান করতে অনীহা দেখিয়ে থাকেন। এটা ঠিক যে ইসলামের আগমনের আগেও আরবে পাগড়ির প্রচলন ছিল। কিন্তু এটা কিছুতেই বলা যায় না যে ইসলামে পাগড়ির প্রচলন আরবের অনুকরণেই হয়েছে। কেননা পাগড়ির ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান ও পাগড়ি পরিধানের ইসলামী পদ্ধতি অনেকটাই আরব্য সংস্কৃতির চেয়ে ভিন্ন ধরনের। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমাদের মধ্যে ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো টুপির ওপর পাগড়ি পরিধান করা।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১৭৮৪)

কাজেই পাগড়িকে নিছক আরব্য সংস্কৃতি বলে তা পরিহার করা যুক্তিযুক্ত নয়। পাগড়ি পোশাকের একটি সুন্নত। রাসুলে কারিম (সা.) সাধারণত যেসব পোশাক ব্যবহার করতেন, পাগড়িও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাসুলে কারিম (সা.), সাহাবা, তাবেঈন ও তাবেতাবেঈনের কাছে পাগড়ি একটি পছন্দনীয় পোশাক ছিল। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় পাগড়ি ব্যবহার করেছেন, তা বহু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত আছে। এখানে দু-একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো। হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৫৮)

সহিহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আমর ইবনে হুরাইস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার লোকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিলেন। সে সময় তিনি কালো পাগড়ি পরিহিত ছিলেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৫৯)

তাঁর পাগড়ি পরিধানসংক্রান্ত এ ধরনের আরো অনেক বর্ণনা হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

সাহাবা, তাবেঈগণও নামাজে ও নামাজের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি ব্যবহার করতেন। (সহিহ বুখারি : ১/৫৬)

সুলাইমান ইবনে আবু আবদুল্লাহ (রহ.) বলেন, আমি মুহাজির সাহাবিদের কালো, সাদা, হলুদ, সবুজ বিভিন্ন রঙের পাগড়ি পরতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২৫৪৮৯)

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে বের হলে সঙ্গে পাগড়ি নিতেন এবং তা পরিধান করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৫২)

আবু উবাইদ (রহ.) বলেছেন, আমি আতা ইবনে ইয়াজিদকে পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় নামাজ পড়তে দেখেছি। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১৭৮০)

উপরোক্ত হাদিস ও আসার থেকে এ কথা সুস্পষ্ট হয় যে সাহাবা, তাবেঈন নামাজে ও নামাজের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি পরতেন। তাঁদের কাছে পোশাক হিসেবে পাগড়ির একটি বিশেষ অবস্থান ও গুরুত্ব ছিল।

তাই পোশাকের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফের অভ্যাসের অনুসরণ করা উচিত। তবে জেনে রাখা দরকার যে পাগড়ি নির্দিষ্ট কোনো সময়, স্থান বা বিশেষ ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়। পাগড়িকে নামাজের জন্য অপরিহার্য মনে করা উচিত নয়। বরং পাগড়ি পোশাকেরই একটি ঐচ্ছিক অংশ। পোশাক হিসেবে তা পরিধান করা বা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো অনুষ্ঠানে পরা বা সব নামাজের জন্য পাগড়ি পরা কিংবা জুমা, ঈদ ইত্যাদিতে পরিধান করা যায়।

এ আলোচনার মাধ্যমে জানা গেল, পাগড়িকে নিছক আরব্য সংস্কৃতি বলে তা থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ইতিহাসের আলোকেও আমরা দেখতে পাই, আরব ছাড়া বিভিন্ন দেশে, এমনকি ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মে পাগড়ি পরিধানের রেওয়াজ বা সংস্কৃতি চালু আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা