kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

আল্লাহকে কিভাবে চিনব

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, বান্দার জীবনের সার্থকতা হলো সে আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে এবং তাঁকে ভালোবাসবে। অতঃপর পরকালে তাঁকে দেখবে এবং দেখে সীমাহীন তৃপ্তি লাভ করবে। (আর-রিসালাতুস সাফাদিয়া, পৃষ্ঠা ৩৪৬)

আতাউর রহমান খসরু   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহকে কিভাবে চিনব

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা ত্বিন, আয়াত : ৪) যদি প্রশ্ন করা হয়, মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী? কোরআন উত্তর দিচ্ছে, ‘আমি জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি যেন তারা আমার ইবাদত করে।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৫৬) কোরআনের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার ‘যেন আমার ইবাদত করে’-এর ব্যাখ্যা ‘যেন তারা আমার পরিচয় লাভ করে’ দ্বারা করেছেন। কিন্তু আল্লাহর মতো মহান সত্তার পরিচয় মানুষের মতো ক্ষুদ্র সৃষ্টি কিভাবে অর্জন করবে? তাহলে শুনুন! আল্লাহ তাঁর পরিচয় লাভের জন্য মানুষকে ‘আকল’ (বিবেক ও বুদ্ধি) দান করেছেন। আর সৃষ্টি জগতে দান করেছেন অসংখ্য নিদর্শনাবলি। মানুষ চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তার মহান স্রষ্টার পরিচয় লাভ করবে। আল্লাহ বলেন, ‘পৃথিবীতে রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনাবলি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ২০)

বিশাল সৃষ্টিজগতে আল্লাহর নিদর্শনের অনুসন্ধান কিভাবে শুরু হবে তাও বলে দিয়েছেন রাব্বুল আলামিন। বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদের নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে না?’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ২১)। ইমাম তাবারি (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মানুষের দেহে আল্লাহর অনেক নিদর্শন রয়েছে। চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, হৃিপণ্ডসহ মানুষের প্রতিটি অঙ্গই আল্লাহর বিস্ময়কর নিদর্শন। এছাড়া মানুষের সৃষ্টি ও জন্ম প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও আল্লাহর পরিচয় লাভ করা সম্ভব। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর নিদর্শন হলো তিনি তোমাদের মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তারপর তোমরা মানুষ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছ।’ (সুরা রোম, আয়াত : ২০)

এরপর মানুষ তার চারপাশের প্রাণী, পরিবেশ ও প্রকৃতিতে আল্লাহর নিদর্শন অনুসন্ধান করবে। প্রাণী ও প্রকৃতির সৃষ্টি-নিপুণতা ও শৃঙ্খলা আল্লাহর অস্তিত্ব ও অসীম ক্ষমতারই সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি উটের প্রতি লক্ষ করে না তা কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আসমানের দিকে, কিভাবে তা ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? পাহাড়ের দিকে, কিভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর ভূ-তলের দিকে, কিভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে?’ (সুরা গাশিয়াত, আয়াত : ১৭-২০)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তাতে (আসমান ও জমিনে) আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভু থাকত, তবে তা ধ্বংস হয়ে যেত।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ২২)

নিদর্শন দেখে যারা তার স্রষ্টার পরিচয় বুঝতে পারে না, তাদের জন্য আল্লাহ নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলেছেন, ‘আল্লাহ আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দিয়ে ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। যে সম্প্রদায় কথা শোনে এতে তাদের জন্য রয়েছে নিদর্শন।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৬৫)

আল্লাহ আরো বলেছেন, ‘মহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর করায়ত্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান। যিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য; তোমাদের মধ্যে কে কাজে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, শক্তিময়। যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ। দয়াময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাও? তুমি আবার দেখ, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও। দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।’ (সুরা মুলক, আয়াত : ১-৪)

কিন্তু মানুষ কি চেষ্টা করলেই আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পারে? আল্লাহর অঙ্গীকার হলো, তিনি চেষ্টাকারীর জন্য পথ খুলে দেন। যে তাঁকে ডাকে তার ডাকে সাড়া দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আমার ব্যাপারে চেষ্টা করে আমি অবশ্যই তাদের পথ খুলে দিই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

অন্যত্র বলেন, ‘আমার বান্দা যখন আমার সম্পর্কে জানতে চায়, (বলুন) আমি তো কাছেই। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে আহ্বান করে। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করুক যেন তারা সঠিক পথে চলতে পারে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)

যেহেতু মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহর পরিচয় লাভের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করা। আল্লাহর পরিচয় লাভ মুমিন জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘বান্দার জীবনের সার্থকতা হলো সে আল্লাহর পরিচয় লাভ করবে এবং তাঁকে ভালোবাসবে। অতঃপর পরকালে তাঁকে দেখবে এবং দেখে সীমাহীন তৃপ্তি লাভ করবে।’ (আর-রিসালাতুস সাফাদিয়া, পৃষ্ঠা ৩৪৬)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা