kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কবরে শাস্তি ও প্রশান্তি লাভের নমুনা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কবরে শাস্তি ও প্রশান্তি লাভের নমুনা

কবরের জগতে আজাব ও প্রশান্তি লাভের বিষয়টি নজিরবিহীন নয়। দেখুন—দুই ব্যক্তি একই বিছানায় শুয়ে আছে এবং একজনের রুহ শান্তিতে রয়েছে। যখন সে জাগ্রত হয় তখন তার সুখ-শান্তি, আরাম ইত্যাদি প্রতিক্রিয়া শরীরের ওপর প্রকাশিত হয়। অন্যজনের রুহ দুঃখ-কষ্টে থাকে। যখন সে জাগ্রত হয় তখন ওই দুঃখ ও শাস্তির প্রতিক্রিয়া তার শরীরে প্রকাশিত হয়। দুজন একে অপরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। এটি কবর জগতের শাস্তি ও সওয়াবের প্রমাণ বহন করে। আর এটা স্বতঃসিদ্ধ যে শরীরের হৃদ্যতা রুহের সঙ্গে সদাসর্বদা থাকে। মৃত্যুর পর ধ্বংসপ্রাপ্ত এ শরীর রুহ থেকে পৃথক হয়ে যায়; কিন্তু কবর জগতে অলৌকিক পদ্ধতি রুহের নিজ আমলের স্বাদ আস্বাদনের জন্য একটি শরীর মিলবে। ওই শরীর এ জাতীয় শরীর হবে না; বরং একটি নূরের চিকন ও হালকা অন্ধকারের মিশ্রণে তৈরি আকৃতি হবে। এবং সেটি নিজের আমলের অনুযায়ী হবে। অর্থাৎ আমল যদি ভালো হয়, তাহলে অন্ধকারের পরিমাণ কম হবে আর যদি খারাপ আমল হয়, তাহলে অধিক অন্ধকার এবং ধোঁয়ার আকৃতি হবে। যেন এ কবর জগতে মানুষের আমলের অবস্থা শরীরের কাজ দিতে থাকবে। যদিও এ রহস্যটি খুবই সূক্ষ্ম; কিন্তু অযৌক্তিক নয়।

মোটকথা, যে শরীর আমলের অবস্থার দ্বারা তৈরি হয় সেটাই কবর জগতে ভালো-মন্দের প্রতিদানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। মৃত্যুর পর সবার একটি নতুন শরীর হবে। চাই সেটা নূরানি হোক অথবা অন্ধকারাচ্ছন্ন হোক। কিন্তু আল্লাহ তাআলা পরকালের এ বিষয়াবলিকে আমলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিবেকের কাছে গোপন রেখেছেন।

অতএব ফেরেশতারা মৃত্যুর সময় মানুষের কাছে আসে, তার কাছে বসে এবং তাকে দেখে। তার সঙ্গে কথা বলে। তার জন্য কাফন, সুগন্ধি বেহেশতের মধ্য থেকে অথবা দুর্গন্ধ দোজখ থেকে আসে। উপস্থিত লোকদের সালাম দেয় এবং তাদের দোয়ার ওপর আমিন বলে। আবার কখনো মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তাকে সালাম করে, আবার কখনো সে সালামের উত্তর শব্দের দ্বারা দেয় অথবা ইশারার দ্বারা দেয়। আবার কখনো অন্তর দ্বারা দেয়। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে কখনো কখনো বলে ওঠে ‘খোশ আমদেদ’। মৃত ব্যক্তি ছাড়া উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এ ফেরেশতাকে দেখতে পায় না। এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।

আখিরাতের বিষয়াবলির মধ্যে এটাই হলো প্রথম বিষয়। যেটা দুনিয়াতেই আমাদের কাছে বাস্তবায়িত হয়। দুনিয়ায় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আমরা সেটা দেখতে পাই না। অথচ এ সবকিছুই দুনিয়াতে বাস্তবায়িত হয়। অতঃপর ফেরেশতা হাত বাড়িয়ে তার রুহ কবজা করে নেয় এবং রুহের সঙ্গে কথাবার্তা বলে। উপস্থিত ব্যক্তিরা না ফেরেশতাকে দেখতে পায়, না তার আওয়াজ শুনতে পায়। এরপর রুহ বের করে এবং তার নূর সূর্যের আলো থেকেও অধিক এবং তার ঘ্রাণ মেশকের থেকেও অধিক ঘ্রাণযুক্ত হয়। উপস্থিতরা এসব কিছুর কোনো কিছুই দেখতে পায় না এমনকি ঘ্রাণও শুঁকতে পায় না। এরপর ফেরেশতা রুহটা নিয়ে ফেরেশতাদের দলের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়। কিন্তু মানুষ তা দেখতে পায় না। এরপর বিশেষ পদ্ধতিতে রুহ ফিরে এসে মৃতদেহকে গোসল দেয় এবং তাকে উঠানোর দৃশ্য দেখতে থাকে। আর বলতে থাকে আমাকে সামনে নিয়ে চলো, সামনে নিয়ে চলো, অথবা বলতে থাকে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? কিন্তু লোকেরা কিছুই শুনে না।

ঠিক তেমনি কবরে শাস্তি কিংবা প্রশান্তি লাভের বিষয়টি জীবিতদের কাছে অজ্ঞাত থাকে।

(আহকামে ইসলাম আকল কি

নজর মে থেকে ভাষান্তর)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা