kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রাচীন নিদর্শন

কালের সাক্ষী খেরুয়া মসজিদ

তানভির ইবনে কবির   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের সাক্ষী খেরুয়া মসজিদ

বগুড়ায় কালের সাক্ষী হয়ে আছে প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন খেরুয়া মসজিদ। বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা শহরের অদূরে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে খন্দকারটোলায় গ্রামীণ সবুজ-শ্যামল পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। মসজিদটির নির্মাণশৈলী আজো হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের হৃদয় মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

মোগল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের সামনের দেয়ালে একটি প্রাচীন ফারসি শিলালিপি দর্শনার্থীর চোখে পড়বে। শিলালিপিটি একটি ঐতিহাসিক দর্পণও বটে। এই শিলালিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃৃতি দিয়ে ইতিহাসবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রোস্তম আলী তাঁর ‘শেরপুরের ইতিহাস’ বইয়ে লিখেছেন, ৯৮৯ হিজরির ২৫ জিলহজ সোমবার (২০ জানুয়ারি ১৫৮২ খ্রি.) মসজিদের জায়গা পরিদর্শন করা হয়। এবং মির্জা নবাব মুরাদ খানের পৃষ্ঠপোষকতায় আব্দুস সামাদ ফকির ২৬ জিলহজ মঙ্গলবার ওই স্থানে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তিন গম্বুজবিশিষ্ট নজরকাড়া মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। এর বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট এবং প্রস্থ ২৪ ফুট। ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট ভেতরের দিক। আর মসজিদের চারদিকের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট। চারকোনায় চারটি মিনার ও পূর্ব দেয়ালে তিনটিসহ উত্তর-দক্ষিণে আরো দুটি দরজা রয়েছে। মাঝের দরজাটি অন্য দুটি থেকে আকারে অনেক বড়। আয়তকার ফ্রেমের মধ্যে অর্ধগোলাকার মেহরাবগুলো স্থাপিত। মসজিদের কার্নিশগুলো বাঁকানো। মসজিদের দেয়ালে কোনো কারুকার্য চোখে পড়ে না। এর দেয়াল সাদাসিধেই বলা যায়। মসজিদের প্রবেশদ্বারের দুই পাশে দুটি শিলালিপি ছিল। ডান পাশেরটি করাচি জাদুঘরে রাখা হয়েছে। আর বাম পাশেরটি অক্ষত অবস্থায় দেখা যায়। আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো, জানালাবিহীন মসজিদটির প্রবেশদ্বারগুলোতে কোনো খিলানের ব্যবহার নেই। মসজিদ নির্মাণে ইট, চুন ও সুরকি ছাড়াও বৃহদাকার কৃষ্ণ পাথর ব্যবহার করা হয়েছে।

সম্রাট আকবরের সময় নির্মিত হওয়ায় মসজিদের দেয়ালের কিছু চিহ্ন নিয়ে অসংগতি প্রকাশ পায়। এই মসজিদ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক কিংবদন্তি বিদ্যমান। প্রচলিত আছে, এই মসজিদটি জিন জাতির দ্বারা নির্মিত। কেউ কেউ বলে থাকেন, মসজিদটি রাতারাতি তৈরি হয়েছে। তবে এখন এগুলোর পরিবর্তন হয়েছে।

দীর্ঘদিন মসজিদটি অবহেলা অযত্নে পড়ে থাকে। সেই সময় ঝোপঝাড়, গাছপালায় ঢেকে ছিল মসজিদের সামনের অংশ। চারদিকেও বেড়ে উঠেছিল অনেক জঙ্গল। পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এরপর ১৯৮৮ সাল থেকে মসজিদ এবং এর ৪৮ শতক জায়গা দেখাশোনার জন্য একজন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন মসজিদটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক, দর্শনার্থীরা দেখতে আসে এই মসজিদটি। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে এখানে বিদেশি পর্যটক ও গবেষকদের দেখা মিলে। তবে এখন যে মসজিদটি খুব ভালো অবস্থায় আছে তাও বলা যায় না। মসজিদের আরো কিছু সংস্কার প্রয়োজন। তবেই কালের ইতিহাস বলে যাবে  প্রাচীন এই স্থাপনাটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা