kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

বিকেলেও চলতে পারে মসজিদভিত্তিক মক্তব

আল্লামা আবদুল হালিম বুখারি, মহাপরিচালক, জামিয়া ইসলামিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম

২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বিকেলেও চলতে পারে মসজিদভিত্তিক মক্তব

প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম সমাজে মসজিদভিত্তিক মক্তব বা কোরআন শিক্ষার ধারা চলে এসেছে। এখনো মসজিদভিত্তিক মক্তব বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশে ইসলামী শিক্ষার প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধারা অব্যাহত রাখাও আবশ্যক। মসজিদভিত্তিক মক্তব থেকে মুসল্লি তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

এলাকার মসজিদে মক্তব; বিশেষত নুরানি মক্তব চালু থাকলে শিশুরা কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও প্রয়োজনীয় দ্বিনি বিধি-বিধান শিখতে পারে। সরকারের ওপর নির্ভর না করে যেভাবে জনগণ ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় এই মক্তব চলে আসছে সেভাবেই চালু রাখতে হবে। সরকার সহযোগিতা করলে ভালো। না করলেও যেন তা বন্ধ হয়ে না যায়।

এখনো সমাজের সাধারণ শিক্ষিত মানুষের মধ্যে যারা নামাজ-রোজা করে এবং দ্বিন মেনে চলে এটা মসজিদ ও মসজিদভিত্তিক মক্তবের অবদান। মাদরাসা বা দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে আমরা যা বুঝি, তাতে খুব সামান্য পরিমাণ মানুষই পড়ালেখা করে। হ্যাঁ, সব এলাকার সব মক্তবের মান সমান নয়। এটা ব্যবস্থাপক কমিটি ও শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে তারতম্য হয়। এর পরও মক্তবের মৌলিক অবদান অস্বীকার করা যাবে না।

আমরা হয়তো পুরো দেশের মক্তবের দায়িত্ব নিতে পারব না। তবে নিজ নিজ এলাকার মক্তবগুলোকে কার্যকর করে তোলার উদ্যোগ আমরা নিতে পারি। বিশেষত দেশের বড় বড় মাদরাসাগুলো নিজ নিজ এলাকার মক্তব শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হাটহাজারী মাদরাসা যেমন ফুরকানিয়া বোর্ড করেছে। তার অধীনে বহু মক্তব চলছে। পটিয়া মাদরাসার অধীনেও বেশ কিছু মক্তব ও হিফজখানা পরিচালিত হচ্ছে। অন্তত বড় মাদরাসা স্থানীয় শিক্ষা বোর্ডগুলো মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন যাঁরা মক্তব পরিচালনা করেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেন। কেননা তাঁদের কোরআন পাঠ বিশুদ্ধ না হলে তাঁরা সঠিক মাসআলা-মাসায়েল না জানলে শিশুরা ভুল শিখবে। আর এসব শিশুর বেশির ভাগ যেহেতু কোনো দিন মাদরাসায় পড়েনি, তাই সারা জীবন ভুল আমল করার ভয় থেকে যায়। আমি মনে করি, রমজানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরআন-মাসায়েলের যে প্রশিক্ষণ হয়, তা আরো বিস্তৃত হতে পারে।

দেশের অনেক ইমাম ও মুয়াজ্জিনের অভিযোগ, স্কুলের সময়সূচির কারণে শিশুরা সকালে মক্তবে আসতে পারছে না। আমি তাদের বলব, স্কুলের সময়সূচি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। আমরা চাইলে তা পরিবর্তন করতে পারব না। তবে মক্তবের সময়সূচি তো আমরা পরিবর্তন করতে পারব। আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দুপুরে ও বিকেলে মসজিদভিত্তিক মক্তব পরিচালনা করতে দেখেছি। আবুধাবির মসজিদগুলোয় আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত মক্তব চলে। আমরা তা অনুসরণ করতে পারি।

শহরাঞ্চলে মসজিদে ছোট ছোট মক্তব ও হিফজখানা গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়তের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। সেগুলো রক্ষা করে পরিচালনা করা গেলে মসজিদভিত্তিক এসব দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মন্দ নয়। তবে আমার পরামর্শ থাকবে, এসব মাদরাসায় স্কুল শিক্ষার্থী ও সাধারণ বয়স্ক মানুষের দ্বিন শিক্ষার ব্যবস্থাটুকুও যেন রাখা হয়। এতে সামগ্রিক অর্জনটা আরো বেড়ে যাবে।

 



সাতদিনের সেরা